ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন


বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

মার্কিন সরকারের মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগমুহূর্তে বিশ্ববাজারে বড় পতন ঘটেছে বৈশ্বিক সোনার দামে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এ মূলবান ধাতুর দরপতন ঘটেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৬ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ফিউচার মার্কেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭২ দশমিক ১০ ডলারে।

বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের হালচাল তুলে ধরে ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ খবরের অপেক্ষায় থেকে বিনিয়োগকারীরা এখন দেখে-শুনে পা ফেলছেন। ফলে সাময়িকভাবে সোনার লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ রয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

অন্যদিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্সের বিশ্লেষণ প্রধান রোনা ও’কনেল মন্তব্য করেন, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা কিংবা কমানোর সংকেত এলে মার্কিন ডলারের দর সাময়িক নামতে পারে, যা পরবর্তীতে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুর দামেও অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৪৬ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ দশমিক ০৯ ডলারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘খেলাকে কেন্দ্র করে ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


‘খেলাকে কেন্দ্র করে ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি’

 

নাটোরের লালপুরে উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলী সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলীয় কার্যালয়ে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, "খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”

স্থানীয় দলের নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়ে তাকে স্থান ত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই দলের স্থানীয় নেতারা। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোপালপুর রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মারুফ আলী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ২১ আগস্ট কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও ভুয়া’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগে ১৯ আগস্ট কেশবপুর গ্রামের গোরস্থানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৩৫টি গাছ ও পাঁচ বস্তা সারের হিসাব জানতে চাইলে গ্রামের প্রধান গোকুলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়।

মারুফ আলী অভিযোগ করেন, হিসাব জানতে চাইলে গোকুল তাকে বলেন, ‘তুমি কে, এসব হিসাব দেব’ এবং হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, পাঁচ বস্তা সারের মধ্যে এক বস্তা গোরস্থানে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বাকি চার বস্তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করে মারুফ আলী বলেন, তাকে প্রধান বা বিশেষ অতিথি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।

তিনি বলেন, “যেখানে আমন্ত্রণপত্রে কোনো প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথির নামই নেই, সেখানে আমি কীভাবে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হওয়ার দাবি করব? মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে মারুফ আলী আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান হারুন রশিদ পাপ্পু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিজের বহিষ্কারের প্রসঙ্গে মারুফ আলী জানান, গত ১৪ আগস্ট বাউয়েটের একটি অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুলের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালামের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় তাকে রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

মারুফ আলী নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে জানান, ১৯৯৭ সালে বাবার কাঁধে চড়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি জীবনের সোনালি সময়, অর্থ-বিত্ত ও বিভিন্ন সুযোগ হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়ে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে তার ১৩টি সরকারি চাকরি হয়নি। মারুফ আলী আরও দাবি করেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদকে ব্যবহার করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনকে ফোন করে তাকে বহিষ্কারের জন্য প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুল নির্দেশ দিয়েছেন-এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে প্রতিমন্ত্রীরও মানহানি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর রাজনৈতিকভাবে ফারজানা শরমীন পুতুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখেন। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশাবাদ ব্যক্ত করে মারুফ আলী বলেন, তার বহিষ্কারের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।

তবে মারুফ আলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেশবপুর গ্রামের প্রধান গোকুল বলেন, “মারুফ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।” সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তার সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পৃক্ততা নেই। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন তাকে বহিষ্কার করেছে। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।”

এদিকে গোপালপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, দলীয় কার্যালয়টি সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী সেখানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। এসময় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


কালাইয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তা ও খাসজমি দখলের অভিযোগ

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তেলিহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা, পুকুরপাড় এবং অন্যান্য সরকারি খাস সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি খাস খতিয়ানের জমিকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেখানে ইটের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করা হচ্ছে, পুরোনো গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং কবরস্থান ও পুরোনো উপাসনাস্থলের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পৃথক লিখিত আবেদন করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

উক্ত অভিযোগের মধ্যে তেলিহার গ্রামের মো. আশরাফ ফকির, সিরাজুল ইসলাম ফকির এবং মো. ওসমান মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট জমি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং এর পক্ষে তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।

সরকারি নথিতে খাস সম্পত্তির উল্লেখ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের পক্ষ থেকে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া পৃথক আবেদনে সংশ্লিষ্ট জমিকে সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, ওই জমির অংশবিশেষ পুকুরপাড়, উপাসনাস্থল এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে যাতায়াতের পথেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, স্থানীয় দরিদ্র মানুষ এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা দুর্ভোগে পড়ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট জমির বিবরণে সিএস খতিয়ান নং ৪৭, এমআর খতিয়ান নং ০১ এবং সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বরের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে পুকুরপাড় ও উপাসনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত জমির পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তেলিহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, এখানে ২৬ বছর যাবত প্রায় ৪০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। ২০০০ সাল থেকে তাঁরা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা ছিল। হঠাৎ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব জায়গা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দখল শুরু করেন। দখলের কারণে বর্তমানে রাস্তা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা বন্যা জানিয়েছেন, রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় ছোট-বড় যানবাহন ঢুকতে চায় না। এতে পুকুরের মাছ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে এবং ক্লিনিকে রোগী যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মুঞ্জুয়ারা নামে আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণের সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারীরা বাধা দিয়েছিলেন। তখন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি একজন কোদাল দিয়ে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সহিদা বেগম জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কবর ওই স্থানে রয়েছে। তাঁরা কবরগুলো ঘিরে গাছ লাগিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কবরের চিহ্ন নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। "আমার ভাসুর, ভাসুরের স্ত্রী এবং আমাদের দুই সন্তানের কবর এখানে রয়েছে। আমরা মারা গেলে কবর দেওয়ার জায়গা কোথায় হবে-এটাই আমাদের চিন্তা।" তেলিহার গ্রামের ৮৫-৮৬ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, "আমার স্মরণশক্তি হওয়ার পর থেকেই ওই জমিকে খাস জমি হিসেবে দেখে আসছি। সেখানে কবরস্থান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার স্থানও ছিল।"

স্থানীয় বাসিন্দা লালচান রবিদাসের দাবি, ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পুরোনো উপাসনাস্থল রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সেখানে মানত ও পূজা করতে আসেন। বর্ষাকালে পূজা ও ভোগের সুবিধার জন্য স্থানীয়রা সেখানে টিনের ছাউনি তৈরি করেছিলেন। পরে ওই স্থাপনা ভেঙে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরেজমিনে ওই এলাকায় একটি পুরোনো গাছের নিচে ধর্মীয় উপকরণ ও একটি শিবলিঙ্গসদৃশ স্থাপনা, কবরস্থান, একটি ক্লিনিক, ৪০টি ভূমিহীনদের আশ্রয় ঘর এবং ১০ বিঘার একটি পুকুর দেখা যায়। বর্তমানে আশ্রয়ণবাসীর প্রশস্ত রাস্তার ওপর ইটের স্থাপনা নির্মাণ করায় রাস্তার প্রস্থ এখন বড়জোর সাড়ে চার ফুটের মতো রয়েছে। ফলে মানুষ চলাচল, ক্লিনিকে রোগী আসা, পুকুরে মাছের খাবার নেওয়া কিংবা মাছ পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।

সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি রেকর্ডে জমির প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি যাচাই করে দখল হয়ে থাকলে তা দ্রুত উদ্ধার করা হোক। তাঁদের আরও দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে যে জায়গা দিয়ে জনগণ চলাচল করেছে, তা নিজেদের জায়গা হলেও জোরপূর্বক সংকুচিত করা রাস্তা প্রশাসনকে আগের মতো প্রশস্ত করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা, কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার পথ এবং জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানগুলো দখলমুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, "সেখানে কোনো মন্দির নেই। একটি পুরোনো গাছ আছে, যেখানে হিন্দু-মসলমান মানত করে। কবরস্থানের কথা বলা হলেও সেখানে কয়েকটি কবর আছে, সেগুলো আমাদের স্বজনদের। অন্য কোনো গ্রামবাসীর কবর নেই।"

আনীত আরও কয়েকজন অভিযুক্ত মো. আশরাফ ফকির ও মো. ওসমান মোল্লা দাবি করেছেন, যে পুরোনো গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলো তাঁদের নিজেদের। সরকারি কোনো গাছ কাটা হয়নি। জমির মালিকানার পক্ষে তাঁদের কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জমির রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এরপর যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাবতলীতে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


গাবতলীতে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

 

বগুড়ার গাবতলীতে পারিবারিক কলহের কারণে এক গৃহবধূকে রশি দিয়ে হাত বেঁধে মারধর করার অভিযোগে পুলিশ স্বামী ইদ্রিস আলীকে গ্রেফতার করেছে। তিনি হাফানিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত মন্টু আকন্দের পুত্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ সুমি বেগম (২৮) গাবতলী থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিত সুমি বেগমের বিয়ে হয় উপজেলার নারুয়ামালা ইউনিয়নের হাপানিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত মন্টু আকন্দের পুত্র মোঃ ইদ্রিস আলীর (৫০) সাথে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ইদ্রিস আলী স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নির্যাতন থামেনি। সুমি বেগম মামলায় আরও উল্লেখ করেন যে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭ টায় স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে সংসারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। ইদ্রিস আলী তাকে গালিগালাজ করেন। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তার দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। রামদা গলায় ধরে তার মাথার চুল কেটে দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করেন। এরপর সুমি বেগমকে ঘরে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইদ্রিস বাইরে চলে যান।

নির্যাতনের সময় ১২ বছর বয়সী মেয়ে মোছাঃ সোহাগী আকতারের সহায়তায় সুমি বেগম সেখান থেকে বের হয়ে বাবার বাড়ি গাবতলী জয়ভোগা গ্রামে আসেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার পর সুমি বেগম বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় স্বামী ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, স্ত্রী সুমি বেগমের মামলায় স্বামী ইদ্রিস আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচবিবির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


পাঁচবিবির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন

 

আজ পাঁচবিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছেলেরা পায়জামা, পাঞ্জাবি, টুপি এবং মেয়েরা ছেলোয়ার, কামিজ, ওড়না ও হিজাব পরিধান করে সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০ টায় মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনিছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন ও তিরোধান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা রেজাউল করিম এবং সহকারী মাওলানা শাহনুর রহমান। এদিকে, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পাঁচবিবি, মহব্বতপুর আমিনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, শিরট্টি সিনিয়র মাদ্রাসা, ফতেপুর মাদ্রাসাসহ পাঁচবিবি বাইতুল আমান জামে মসজিদ, সিটমানিক বাইতুস সালাহ জামে মসজিদ এবং অন্যান্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%