ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজার হাসপাতালে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ দম্পতি আটক


কক্সবাজার হাসপাতালে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ দম্পতি আটক

কক্সবাজারের সরকারি হাসপাতালে ‘রোগীকে’ মাদকের চালান দিতে গিয়ে হাতেনাতে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সেই ‘রোগী’, যার কাছে ইয়াবা পৌঁছানোর কথা ছিল, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মাদক পাচারের কৌশল, যেখানে জনসমাগমপূর্ণ হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পর পুলিশ পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে রোগীদের আনাগোনার মধ্যে অসংখ্য নীল প্যাকেট সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। একে একে প্যাকেটগুলো খুলে বের করা হয় ইয়াবা। প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে ছিল ৯০ থেকে ১০০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক স্বামী-স্ত্রীর সামনেই পুলিশ এসব ইয়াবা গণনা করে পুনরায় প্যাকেটজাত করে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

পুলিশ জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং থেকে সিএনজিযোগে স্বামী-স্ত্রী মিলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে কৌশলে চালান দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসে। বিকেল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের একাধিক টিম অবস্থান নেয়। টানা বৃষ্টির মধ্যেও চলছিল নজরদারি। পরে রাতে সদর হাসপাতালে পৌঁছামাত্র অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয়ে যায় ১৭ হাজার ইয়াবা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে যে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ‘রোগী’র কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতেই এসেছিলেন ওই স্বামী-স্ত্রী। হাসপাতালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ নারী যাত্রী আটক

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং এলাকা থেকে একটি সিএনজি যোগে স্বামী-স্ত্রী দু’জন ইয়াবা নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে আসছিলেন–এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

তিনি জানান, বিকেল ৪টায় বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিম অবস্থান নেয়। পরে সিএনজিটি সদর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন আয়েশা আক্তার ও জাগির।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ‘রোগী’, জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ), এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। তবে অভিযানের পর জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ)-কে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালকে ব্যবহার করে কৌশলে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতাভুক্ত। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ইয়াবা লেনদেনে স্বামী-স্ত্রী আটক হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সাজ্জাদ বলেন, ‘হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং রোগীদের ব্যবহার করে যদি কেউ মাদক কারবার পরিচালনা করে, তাহলে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বিষয়। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।’

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

অভিযানে আটক জাগির হোসেন ও আয়েশা বেগম, দু’জনেরই টেকনাফের হ্নীলা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ১৮ হাজার পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ১৮ হাজার পুলিশ

আওয়ামী লীগের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

রোববার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরের ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হবে।

নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে মারা গেলেন আ.লীগের সাবেক এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


থাইল্যান্ডে মারা গেলেন আ.লীগের সাবেক এমপি

সেলিমা আহমাদ মেরী। ছবি: সংগৃহীত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা উত্তরের সহসভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন। রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সেলিমা আহমাদ মেরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য সচিব সারওয়ার হোসেন বাবু তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "কুমিল্লা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আপা আজ রাত ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘ঐতিহাসিক’ আলোচনা নিয়ে যা বললেন জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘ঐতিহাসিক’ আলোচনা নিয়ে যা বললেন জেডি ভ্যান্স

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বারা ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ার সুযোগ এনে দিতে পারে।

রবিবার, লেক লুসার্নের ধারে বুরগেনস্টক রিসোর্টে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

বৈঠকের শুরুতেই ভ্যান্স বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে—দুই দেশ কি তারা নতুন করে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ নিতে পারবে, নাকি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

ভ্যান্স জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে ইচ্ছুক। তবে এই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কিছু শর্ত থাকছে। প্রথমত, ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়, দীর্ঘমেয়াদে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে।

এই আলোচনা পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতায় হচ্ছে। আলোচনার টেবিলটি ইউ-আকৃতির ভাবে সাজানো হয়েছে। এর একটি পাশে যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার ছিল, অন্য পাশে ইরান এবং পাকিস্তান। মাঝখানে তথাকথিত মধ্যস্থতাকারীরা বসে আছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, এটি হতে পারে বিশ্বে শান্তি এবং অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

তবে এই ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই দিনে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকের সময় ইরানি প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এমনকি যৌথ ছবি তোলার জন্যও তারা অংশ নেননি। এই কারণে আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় জামালপুরের বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ এম


পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় জামালপুরের বাসিন্দারা

জামালপুরের সীমান্তবাসীর রাতগুলো উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও পাহারায় কাটছে। সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে তারা নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছেন। রাত হলেই আতঙ্ক নেমে আসে, এবং হতাশার মধ্যে সীমান্তে পাহারা দিতে হচ্ছে। সীমান্তের কাছে একটি গ্রামের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যুবকরা পাহারা দিচ্ছেন। কারো হাতে টর্চলাইট, অন্যদিকে কারো হাতে বাঁশের লাঠি রয়েছে। তারা সীমান্তের দিকে নজর রেখে মোবাইল ফোনে খবর আদান-প্রদান করছেন। রাতভর দায়িত্ব পালন শেষে ভোরে বাড়ি ফেরার কথা হলেও বিশ্রামের সুযোগ খুব কম। কারণ দিনের বেলাও যেকোনো সময় সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন ফের ছুটতে হয় সীমান্তের দিকে, যেন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে সেখানে।

ভারতের মেঘালয় ও আসামের সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ। সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ঘুরে দেখা গেছে, সীমান্তবাসীদের জীবনে স্বাভাবিকতা বলতে কিছু নেই। রাতের ঘুম হারাম হয়েছে অনেক আগেই। দিনগুলো কাটছে উৎকণ্ঠা আর সতর্কতার মধ্য দিয়ে। সীমান্তে পুশইনের খবর এলেই মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা হাতে শত শত মানুষ জড়ো হচ্ছেন।

সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, দিনমজুরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা রাতে সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তের বগার চরের মকবুল হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, সারাদিন জমিতে কাজ করি। রাতে পাহারায় থাকতে হয়। ভোরে ঘুমাতে যাই। আবার দিনের বেলায় খবর আসে সীমান্তে লোক জড়ো হতে হবে। তখন সব কাজ ফেলে ছুটে যেতে হয়। অন্যদিকে ওবায়দুল নামে এক যুবক জানান, আমরা এখন ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। মোবাইল ফোন সবসময় চালু রাখতে হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পুশইনের আশঙ্কা বা খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ বেরিয়ে আসেন। হাতে লাঠি, বাঁশ কিংবা দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। অনেক সময় কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষের জমায়েত ঘটে। সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, রাতের পাহারার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও তারা বিভিন্ন স্থানে নজরদারি করছেন। তথ্য আদান-প্রদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হচ্ছে। কোথাও অস্বাভাবিক কিছু দেখলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, দোকানে বসে থাকলেও মন সীমান্তে থাকে। খবর পেলেই দোকান বন্ধ করে চলে যেতে হয়। এখন ব্যবসার চেয়ে সীমান্তের চিন্তাই বেশি। সীমান্ত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় অনেক তরুণ স্বেচ্ছায় তথ্য সংগ্রহ করছেন। কোথা থেকে কে আসছে, কোথায় অস্বাভাবিক তৎপরতা আছে তা নজরে রাখছেন। প্রয়োজনে সেটা দ্রুত বিএসএফের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

বকশীগঞ্জের রামরামপুর এলাকার তরুণ নাদিম বলেন, আমরা সংঘাতে জড়াতে চাই না। তবে সীমান্ত নিয়ে সতর্ক থাকি। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সংশ্লিষ্টদের জানাই। সীমান্ত এলাকার নারীরা বলছেন, পরিবারের পুরুষরা প্রতিদিন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, ফলে উদ্বেগ বেড়েছে। সানজিদা নামে এক গৃহিণী বলেন, রাতে পাহারায় যায়, দিনে আবার খবর পেলে সীমান্তে যেতে হয়। সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। শিশুরাও এই পরিস্থিতির প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছেন না। শিশুদের মধ্যে অজানা ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে। কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর এর প্রভাব পড়ছে এবং অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। সীমান্তঘেঁষা দেওয়ানগঞ্জের পার রামরামপুর ইউনিয়নের রহিমপুরের বাসিন্দা তালেব আলী জানান, দিনে কাজ না করলে সংসার চলে না। তবে সীমান্তের ডাক এলে না গিয়েও উপায় নেই। জীবন যেন পাল্টে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%