ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় জামালপুরের বাসিন্দারা


পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় জামালপুরের বাসিন্দারা

জামালপুরের সীমান্তবাসীর রাতগুলো উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও পাহারায় কাটছে। সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে তারা নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছেন। রাত হলেই আতঙ্ক নেমে আসে, এবং হতাশার মধ্যে সীমান্তে পাহারা দিতে হচ্ছে। সীমান্তের কাছে একটি গ্রামের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যুবকরা পাহারা দিচ্ছেন। কারো হাতে টর্চলাইট, অন্যদিকে কারো হাতে বাঁশের লাঠি রয়েছে। তারা সীমান্তের দিকে নজর রেখে মোবাইল ফোনে খবর আদান-প্রদান করছেন। রাতভর দায়িত্ব পালন শেষে ভোরে বাড়ি ফেরার কথা হলেও বিশ্রামের সুযোগ খুব কম। কারণ দিনের বেলাও যেকোনো সময় সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন ফের ছুটতে হয় সীমান্তের দিকে, যেন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে সেখানে।

ভারতের মেঘালয় ও আসামের সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ। সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ঘুরে দেখা গেছে, সীমান্তবাসীদের জীবনে স্বাভাবিকতা বলতে কিছু নেই। রাতের ঘুম হারাম হয়েছে অনেক আগেই। দিনগুলো কাটছে উৎকণ্ঠা আর সতর্কতার মধ্য দিয়ে। সীমান্তে পুশইনের খবর এলেই মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা হাতে শত শত মানুষ জড়ো হচ্ছেন।

সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, দিনমজুরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা রাতে সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তের বগার চরের মকবুল হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, সারাদিন জমিতে কাজ করি। রাতে পাহারায় থাকতে হয়। ভোরে ঘুমাতে যাই। আবার দিনের বেলায় খবর আসে সীমান্তে লোক জড়ো হতে হবে। তখন সব কাজ ফেলে ছুটে যেতে হয়। অন্যদিকে ওবায়দুল নামে এক যুবক জানান, আমরা এখন ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। মোবাইল ফোন সবসময় চালু রাখতে হয়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পুশইনের আশঙ্কা বা খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ বেরিয়ে আসেন। হাতে লাঠি, বাঁশ কিংবা দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। অনেক সময় কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষের জমায়েত ঘটে। সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, রাতের পাহারার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও তারা বিভিন্ন স্থানে নজরদারি করছেন। তথ্য আদান-প্রদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হচ্ছে। কোথাও অস্বাভাবিক কিছু দেখলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, দোকানে বসে থাকলেও মন সীমান্তে থাকে। খবর পেলেই দোকান বন্ধ করে চলে যেতে হয়। এখন ব্যবসার চেয়ে সীমান্তের চিন্তাই বেশি। সীমান্ত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় অনেক তরুণ স্বেচ্ছায় তথ্য সংগ্রহ করছেন। কোথা থেকে কে আসছে, কোথায় অস্বাভাবিক তৎপরতা আছে তা নজরে রাখছেন। প্রয়োজনে সেটা দ্রুত বিএসএফের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

বকশীগঞ্জের রামরামপুর এলাকার তরুণ নাদিম বলেন, আমরা সংঘাতে জড়াতে চাই না। তবে সীমান্ত নিয়ে সতর্ক থাকি। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সংশ্লিষ্টদের জানাই। সীমান্ত এলাকার নারীরা বলছেন, পরিবারের পুরুষরা প্রতিদিন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, ফলে উদ্বেগ বেড়েছে। সানজিদা নামে এক গৃহিণী বলেন, রাতে পাহারায় যায়, দিনে আবার খবর পেলে সীমান্তে যেতে হয়। সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। শিশুরাও এই পরিস্থিতির প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছেন না। শিশুদের মধ্যে অজানা ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে। কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর এর প্রভাব পড়ছে এবং অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। সীমান্তঘেঁষা দেওয়ানগঞ্জের পার রামরামপুর ইউনিয়নের রহিমপুরের বাসিন্দা তালেব আলী জানান, দিনে কাজ না করলে সংসার চলে না। তবে সীমান্তের ডাক এলে না গিয়েও উপায় নেই। জীবন যেন পাল্টে গেছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষায় জামের নানা উপকারিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ এম


রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষায় জামের নানা উপকারিতা

 

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ শেষে বাজারে এখন দেখা মিলছে কুচকুচে কালো আর গাঢ় বেগুনি রঙের রসালো ফল জামের। কেবল টক-মিষ্টি স্বাদের জন্যই নয়, বরং অসাধারণ সব ঔষধি গুণের কারণে ফলটি পুষ্টিবিদদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। আমাদের অবহেলায় অনেক সময় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া এই ফলটি আসলে পুষ্টির এক বিশাল ভাণ্ডার।

ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাত্র এক মুঠো বা ৮ থেকে ১০টি জাম রাখা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারি হতে পারে। মানবশরীরে এই ফলের প্রধান কিছু উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ (ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা)

কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং বিশেষ কিছু বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদানের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম একটি আদর্শ ফল। এই পুষ্টিবিদ জানান, ‘জাম খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বা সুগার স্পাইক বাড়ে না। এটি পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।’

২. অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমশক্তির উন্নতি

জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার, যা প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার রাখতে (ল্যাক্সেটিভ হিসেবে) সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে এর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামের ফাইবার আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য জোগায়। এটি শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে সাহায্য করে, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।’

৩. প্রদাহ ও বাতের ব্যথা উপশম

জামের গাঢ় বেগুনি রঙের পেছনে রয়েছে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক একটি শক্তিশালী উপাদান, যা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা সচল রাখতে এবং বাতের ব্যথা ও জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে উপশম দিতে অত্যন্ত কার্যকর।

উল্লেখ্য, জাম খাওয়ার সেরা সময় হলো দুপুরের মাঝামাঝি সময় বা বিকালের নাস্তা হিসেবে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, একদম খালি পেটে জাম খাওয়া এড়ানো উচিত; কারণ এর ভেতরের ট্যানিন উপাদান সংবেদনশীল পাকস্থলীতে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

এজন্য সুস্থ থাকতে চলতি মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত এক মুঠো জাম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ এম


‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়টির ফলে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দেন যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গগুলোকে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে কাটানো শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্পিচ থেরাপিস্ট ড. ফাইজা জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণগুলো সাধারণ অটিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো—

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: শিশুরা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেরা গুটিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে নিজেদের এক জগতে মগ্ন করে।

যোগাযোগ ও ভাষার সমস্যা: শিশুদের কথা বলায় জড়তা বা বিলম্ব দেখা দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা কমে যায়।

আচরণগত পরিবর্তন: শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে একগুঁয়েমি বা জেদি ভাব প্রকাশ পায়।

মনোযোগের অভাব: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল জব্বার শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমকে একটি ‘উদ্বেগজনক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। এই বয়সের শিশুরা স্ক্রিনে কী দেখছে, তা অবশ্যই তাদের বয়সোপযোগী এবং শিক্ষণীয় হতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত পরিবেশগত এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

ভার্চুয়াল অটিজমের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ভার্চুয়াল গেমসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে হবে।

গুণগত সময় কাটানো: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের ওপরে ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং সরাসরি কথা বলা।

মাঠের খেলাধুলায় উৎসাহ: মোবাইল গেমসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের ঘরের বাইরের কার্যকলাপ এবং শারীরিক খেলাধুলায় অভ্যস্ত করতে হবে।

সূত্র: সামা টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারি মেকআপের বদলে এখন ট্রেন্ডে ‘গ্লাস স্কিন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ এম


ভারি মেকআপের বদলে এখন ট্রেন্ডে ‘গ্লাস স্কিন’

 

কিছু বছর আগে গ্লাস স্কিন নিয়ে প্রচুর উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরে বিভিন্ন ধরনে স্কিন ট্রিটমেন্ট, অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট এবং ম্যাট লুকের জনপ্রিয়তা কারণে এ ট্রেন্ড কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি আবারও বিউটি বিশেষজ্ঞ এবং স্কিন কেয়ারপ্রেমীদের মধ্যে গ্লাস স্কিন হাইড্রেশনের চাহিদা বাড়ছে।

এখন গ্লাস স্কিনের ধারণা মূলত কোরিয়ান বিউটি ট্রেন্ড থেকে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল এমন ত্বক তৈরী করা, যা স্বচ্ছ, মসৃণ এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল দেখায়। এবং এই লক্ষ্যে এখন ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে হাইড্রেশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের ভিত্তি হচ্ছে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা। শুষ্কতা, রুক্ষ ভাব ও ক্লান্ত চেহারা অনেকাংশেই কমতে পারে। তাই এখন শুধু দাগ বা ব্রণের চিকিৎসাই নয়, বরং ত্বকের আর্দ্রতাকে বজায় রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্লাস স্কিন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভারি প্রোডাক্ট ব্যবহার করাই শেষ কথা নয়।

বরং, ক্লিনজি, হালকা হাইড্রেটিং টোনার, সিরাম ও ময়েশ্চারাইজারের সঠিক ব্যবহারই এই ট্রেন্ডের প্রধান চাবিকাঠি। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ভাল ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকাংশেই নির্ভর করে জীবনযাপনের ওপর।

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা খুবই জরুরি। তাই গ্লাস স্কিন ট্রেন্ড এখন শুধুমাত্র সৌন্দর্য নয়, বরং এটি একটি সুস্থ ত্বকের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রত্যেকের ত্বক আলাদা; তাই কোনো ট্রেন্ড অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরী করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ ও যত্নে রাখা ত্বকের মধ্যেই। বিউটি ট্রেন্ড বদলালেও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, উজ্জ্বল ও হাইড্রেটেড ত্বকের আকর্ষণ কখনো কমে না। এবং এরই ফলস্বরূপ নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্লাস স্কিন হাইড্রেশনের ধারণা। সৌন্দর্যের এই নতুন অধ্যায়ে মেকআপের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা এবং আর্দ্রতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুড পয়জনিং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? শরীরে এর প্রভাব কতটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ এম


ফুড পয়জনিং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? শরীরে এর প্রভাব কতটা

ফুড পয়জনিং কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বোঝা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর কী প্রভাব ফেলে, সেটাও জানতে হবে।

এটি খাবারে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী হচ্ছে খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা। রান্না করা খাবার যদি দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার করা হয়, রান্নার আগে হাত না ধোয়া হয় অথবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা হয়, তাহলে এসব কারণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহতায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। একটি স্থানীয় ফাস্টফুড আউটলেট থেকে সাওয়ারমা ও পিৎজা খাওয়ার পর অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই পেটব্যথা, বমি বা বমি ভাব এবং ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, ফুড পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়া কখনো কখনো সাধারণ খারাপের মতো মনে হলেও তা অন্তত তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী অথবা তাদের তৈরি টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে খুব দ্রুত তার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরেও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

ফুড পয়জনিং কী ধরনের জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, ফুড পয়জনিং দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। কারণ বমি ও ডায়ারিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

কেন ফুড পয়জনিং হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে খাবার খাওয়ার আগে দোকানের পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করা জরুরি। সম্ভব হলে সদ্য প্রস্তুত ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা খোলা রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

ফল ও শাকসবজি অবশ্যই ভালো করে ধোয়ে খান এবং সবসময় নিরাপদ পানীয় পানি পান করুন। খাবার তৈরি বা পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাসটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুড পয়জনিং প্রতিরোধে দামি কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%