ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রশাসনের দলীয় রাজনীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই: ড. মঈন খান


প্রশাসনের দলীয় রাজনীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই: ড. মঈন খান

প্রশাসনের দলীয় রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই; তারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জিআরের চাল এবং ক্রয়কৃত ঢেউটিনের বিপরীতে গৃহমঞ্জুরি বাবদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণ করবেন জনপ্রতিনিধিরা, এবং সেই নীতির বাস্তবায়ন করবেন সরকারি কর্মকর্তারা। সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ নয় নীতি নির্ধারণ করা।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের উন্নয়ন সম্ভব ছিল।

অনুষ্ঠানের শেষে, ড. মঈন খান শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে জিআরের চাল, ঢেউটিনের অনুদান এবং গৃহমঞ্জুরি বাবদ নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

এ লক্ষ্যে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার রাকিন মাশরুর খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিল্টন, এবং পলাশ থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতা-কর্মী।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের বিভাগ কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


জাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের বিভাগ কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধীনে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি–এর জন্য ছয়টি একাডেমিক বিভাগ চালুর প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষকদের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। আগামী ২৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম বার্ষিক সিনেট সভায় ইনস্টিটিউটের সংবিধির অনুমোদনের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবটি পাস হলে নতুন বিভাগগুলো চালুর পথ উন্মুক্ত হবে।

যে বিভাগগুলো প্রস্তাবিত হয়েছে, সেগুলো হলো— আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার, ইসলামিক ল, ফিকহ অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স, ইসলামিক ফিলোসফি, এথিকস অ্যান্ড কমপারেটিভ রিলিজিয়ন এবং অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার।

তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। এক পক্ষের মত হলো, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, খাদ্য ও কৃষির মতো উদীয়মান বিষয়ে নতুন বিভাগ চালু করাই বেশি প্রয়োজন।

অন্য দিকে, যারা এই প্রস্তাবের সমর্থক, তাদের দাবি হলো, এই উদ্যোগটি ইসলামী উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের একটি চাহিদা পূরণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ জুন একাডেমিক কাউন্সিলের ১৩৯তম সভায় ইনস্টিটিউটের কাঠামো প্রণয়নের জন্য একটি সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এটি সিনেটে পাঠানো হচ্ছে।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক গবেষণা ফেলো অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত অধিকাংশ বিষয়ই লিবারেল আর্টসের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে এসব বিষয়ের চাহিদা কমছে। এ অবস্থায় নতুন বিভাগ চালু করা হলে তা কর্মসংস্থানের চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বলেই প্রতীয়মান হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার’ ছাড়া বাকি বিষয়গুলো সাধারণত স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হয় না। আল-কুরআন ও আল-হাদিসকে একীভূত করে একটি বিভাগ করার প্রস্তাবও তিনি দেন।

আইন ও বিচার অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আইন অনুষদের অধীনে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘ল অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’ বিভাগ। ইসলামিক ল ও ফিকহ বিষয়ে আলাদা বিভাগের প্রয়োজন নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং জানান, বিদ্যমান আইন পাঠ্যক্রমেই এসব বিষয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ানো হয়, এবং এ বিষয়ে আলাদা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সীমিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, নতুন বিভাগ চালু করতে হলে এআই, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, খাদ্য ও কৃষির মতো বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধীনে শুধু স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এতগুলো পৃথক বিভাগ চালুর ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়বে এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও মানসিক দূরত্ব তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, সুপারিশ কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এম মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই এ ধরনের বিভাগ বিদ্যমান। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ইনস্টিটিউট তৈরির দাবি ছিল।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনা করে আধুনিক ইসলামী উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এসব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম আব্দুর রব জানান, প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিনেটে অনুমোদন পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া কোনো ইনস্টিটিউট বা বিভাগ চালু করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং খাদ্য ও কৃষি বিষয়ে নতুন অনুষদ ও বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও একাডেমিক কাউন্সিলের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সিনেটে আলোচনা শেষে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় বিষয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা ও জ্ঞানের ঘাটতি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে, বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষায় মনোযোগী আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে, বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষায় মনোযোগী আর্জেন্টিনা

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতো শুরু করেছে। প্রথম দুই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে ফেলেছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে। আগামী রোববার (২৮ জুন) ভোরে আর্জেন্টিনা নিজেদের তৃতীয় গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামবে।

যদিও এটি বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ, কিন্তু মেসিদের জন্য এটি নিয়মরক্ষার ম্যাচ হিসাবে বিবেচিত। কারণ তারা আগেই গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। আজকের ম্যাচে হারানোর কিছু নেই। তাই নিয়মরক্ষার ম্যাচ হওয়ায় আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি এই ম্যাচে তেমন চিন্তিত নন। বরং তিনি এই ম্যাচের মাধ্যমে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে চাইছেন।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে এমন ৭ জন ফুটবলার রয়েছেন, যারা এখনও বিশ্বকাপে অভিষেক করতে পারেননি। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে তাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন কোচ স্ক্যালোনি। তিনি বলেন, 'সব ফুটবলারকে সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। আমার মতে, সকলের সুযোগ পাওয়া উচিত। জর্ডেন ম্যাচে সেই সুযোগ রয়েছে। তাই সেটাই করব।'

মেসিকে বিশ্রাম দিতে চান কিনা, তার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি স্ক্যালোনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তালিকায় লিওনেল মেসিও থাকতে পারেন। ২ ম্যাচে পাঁচ গোল করা দলের তারকাকে স্ক্যালোনি নকআউট পর্বের আগে বিশ্রাম দিতে চাইবেন।

বিশ্বকাপের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে ছিলেন মেসি। প্রথম ম্যাচে তিনি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং করেছিলেন হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পুরো ৯৫ মিনিট খেলেছেন। একটি পেনাল্টি হাতছাড়া হলেও তিনি জোড়া গোল করেছেন।

আমেরিকার গরমে খেলতে ফুটবলারদের কষ্ট হচ্ছে। তাই শারীরিক ধকল সামলানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে মেসিকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। তবে অন্য একটি জল্পনা আসছে যে, মেসি তার ফর্মে রয়েছেন এবং জর্ডনের বিরুদ্ধে খেললে তিনি আরও একটি হ্যাটট্রিক করতে পারেন। এর ফলে তার গোলের সংখ্যা বাড়বে। গোলে মেসির পেছনে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই তারকার মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। এ ক্ষেত্রে মেসি আরও খানিকটা এগিয়ে যেতে পারেন। নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে পাঁচ দিনের সময় রয়েছে। বিশ্রামের সুযোগও রয়েছে। তাই মেসি বিশ্রাম নেবেন কিনা, এই বিষয়ে সংশয় রয়েছে।

মেসির পরিবর্তে স্ক্যালোনি তরুণ স্ট্রাইকার নিকোলাস পাজ়কে খেলাতে পারেন। হুলিয়ান আলভারেজ়, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, পারেদেসরাও মাঠে বেশিক্ষণ থাকতে চান। তারা চোট সারিয়ে ফিরেছেন, তাই তাদের ম্যাচের জন্য ফিট করে তুলতে চায় স্ক্যালোনি। আগের ম্যাচে চোট পেয়ে উঠতে হওয়া ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকো বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। তার বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন নিকোলাস ওতামেন্ডি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মাছ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মাছ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একসাথে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্যচাষ থেকে।

বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ।

২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে।

অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হয়েছে এশিয়ায়। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া।

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এসব দেশ বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে।

২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলে মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে।

মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী। আর বাকি অংশ ছিল জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণী উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় পাঁচ মামলার পরোয়ানা নিয়ে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


দীঘিনালায় পাঁচ মামলার পরোয়ানা নিয়ে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং আরও দুটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ৪ কিলো প্রশিক্ষণ টিলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. রাজিব শেখ, এসআই মোস্তাক আহামদ, এসআই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক এবং এএসআই মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জমির হোসেন (২৬) নামে এক আসামিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত জমির হোসেন মেরুং ইউনিয়নের ৪ কিলো প্রশিক্ষণ টিলা এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বাঘাইছড়ি থানার তিনটি জিআর মামলায় আদালতের সাজা পরোয়ানা এবং বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা থানার দুটি পৃথক জিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন,
আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%