ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন


দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার ও ভয় দেখানোর কাজ করেছে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও প্রদর্শন করেছেন। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিবিসি আটক হওয়া শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তাদের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ১২ নিহত, নিষিদ্ধ বোমার অভিযোগ

নির্যাতনের বর্ণনা

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্রী এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশকর্মীরা তাকে ধাক্কা মেরে বাসে তুলে দেন।

শরণ্যার দাবি, নারী পুলিশকর্মীরা তার পোশাক টেনে তুলছিলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা তাকে জোর করে বাসে তুলছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘একজন নারী পুলিশকর্মী আমার টি-শার্ট টেনে মাথার ওপরে তুলে দিয়েছিল। আমাকে অপমান করার জন্যই করেছিল।’

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার চুল টানা হয়েছে এবং বাসে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকছিল না। বাসটিতে চার-পাঁচটি ছোট খোপ ছিল।

আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

শরণ্যা বলেন, ‘যখন আমাকে ঠেলে ঢোকানো হচ্ছিল, আমি পুরোপুরি ভেতরে যেতে পারিনি। আমার পা তখনও বাইরে ছিল। কমান্ডোরা লোহার দরজা বন্ধ করে দেয় আর আমার পা দরজায় আটকে যায়। ভেতরে থাকা চারটে মেয়ে চিৎকার করছিল। তারা বলছিল, ওর পা আটকে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা অনুরোধ করছিল, এক মিনিটের জন্য দরজাটা খুলে দিন। তাহলে ও ভেতরে ঢুকতে পারবে। কিন্তু পরের ৩০ সেকেন্ড ধরে তিনজন পুরুষ ওই দরজা জোর করে ঠেলতে থাকে।’

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আনুমানিক বেলা ১১টা নাগাদ তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধার অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছেন শরণ্যা শর্মা।

আটকের উদ্দেশ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা

আরও পড়ুন: প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ছাত্রী নাদিয়াকে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়।

নাদিয়ার অভিযোগ, পুলিশ তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল এবং বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, ‘পুরো বাসে আমি ছাড়া অন্য একটা মেয়ে ছিল। এবারের আটকের ঘটনা খুবই কষ্টদায়ক ছিল। জেনেশুনে পুলিশকর্মীরা টেনে টেনে বাসে তুলছিল, চিমটি কাটছিল। পা দিয়ে মারছিল আমাদের, গলা চেপে ধরে বসানো হচ্ছিল।’

নাদিয়া অভিযোগ করেছেন যে, তার গলা টিপে ধরারও চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এভাবে আটক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাসে যেতে যেতে পুলিশকর্মীরা আমাদের কাছে জানতে চায় আমরা কোথায় থাকি। আজ আর তোমরা বাড়ি ফিরতে পারবে না বলে ভয় দেখাতে থাকে। আমি ফোন বের করে রেকর্ড করতে গেলে একজন ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় প্রথম বাড়ি কিনলেই মিলতে পারে ১ লাখ ডলার, সুবিধা পাবেন যারা

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরের ১৫ মিনিট আমার ওপর নৃশংসতা হয়েছে। অত্যাচার চালানোর মতোই ছিল সেটা। (হাতের আঘাত দেখিয়ে) এগুলো আঘাতের চিহ্ন। এগুলো মূলত টানা হেঁচড়ার সময় হয়েছে। কিন্তু তার পরেরটুকু খুবই খারাপ ছিল (অন্য হাতের কালসিটে পড়া দাগ দেখিয়ে)। মূলত চারজন পুলিশকর্মী আমার ওপর চড়াও হন।’

নাদিয়া অভিযোগ করেন, এদের মধ্যে কেউ তাকে চিমটি কাটছিলেন, কেউ চুল ধরে টানছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। ওরা আমাকে বলছিল, তোমাকে আধমরা অবস্থায় ছাড়ব। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত মারবে আমাকে? উত্তরে বলেছিল এখান থেকে আধমরা অবস্থায় ফিরবে তুমি।’

নাদিয়া বিক্ষোভে সামিল অন্যান্য নারীদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। তার মতে, ‘কারো কারো শার্ট টেনে মাথার ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা অসম্মানিত বোধ করেন।’

আরও পড়ুন: প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় ইলন মাস্ক

নাদিয়ার মতে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এভাবে আটক করা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠছে, তা বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই অংশ। তিনি জানান, জবাবদিহি না মেলা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ তারা চালিয়ে যাবেন।

তিন ঘণ্টা বাসে বসিয়ে মারধর

দিল্লিতে পিএইচডি করছেন নোভেল। হাতে ভগৎ সিংয়ের পোস্টার নিয়ে তিনি ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তাকে আটক করছে এবং তার পোস্টার নিয়ে নিচ্ছে।

নোভেলের দাবি, তাকে একটি কমলা রঙের দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসে বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা ছিলেন। সে সময় পুলিশ তাকে বারবার চড় মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান শুরু করছে জাপান

তার কথায়, ‘চার পাঁচজন মিলে আমাকে তাড়া করেছিল। তারা বলতে থাকে বাসে চলো কিছু হবে না। আমি প্রথমে বাধা দেইনি। আমি বাসের কাছে যেতেই কয়েকজন পুলিশ বলে ওঠে- এই ছেলেটার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে একে ধর, একে ধর। তারপর আমাকে ধাক্কা দিয়ে তোলা হয়। ওই বাসটা কিন্তু পুলিশের প্রিজন ভ্যান ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘এটা পুলিশের বাস ছিল, তাদের যাতায়াতের জন্য ছিল। আমাকে বাসে টেনে তোলা হয়, ধাক্কা দেওয়া হয়। আমি পড়ে যাই, আর পড়ে যেতেই তিন-চারজন পুলিশ মিলে আমাকে ক্রমাগত মারতে থাকে।’

নোভেলের অভিযোগ, তার জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং লাথি মেরে চশমা ভেঙে দেওয়া হয়।

নোভেল জানান, তিনি পুলিশদের অনুরোধ করেন তাকে ছেড়ে দিতে। তাদের জানান যে তিনি পিএইচডি করছেন এবং পাশাপাশি শিক্ষকতাও করছেন। তার বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, এসব সত্ত্বেও মারধর চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুট দিয়ে মারধরের অভিযোগ

১১ অক্টোবর কনট প্লেসে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হওয়া সমাজকর্মী অর্জুনের অভিযোগ, পুলিশ তার বুকে ও গোপনাঙ্গে লাথি মেরেছে এবং একাধিকবার ঘুষি মেরেছে। তার পোশাক ছিঁড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘ভ্যানে তিনজন পুলিশ এবং একজন কমান্ডো ছিল। একজন আমাকে মারধর করল তারপর অন্যজনের কাছে আমাকে ঠেলে দিল। সে আমার যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মারে। তারপর তৃতীয় জনের কাছে আমাকে ঠেলে দেওয়া হয়। সে আমার বুকে লাথি মারে। তারপর চতুর্থজন আমার গলা টিপে ধরে। তারপর আমাকে ওই প্রিজন ভ্যানের খুপরিগুলোর মধ্যে একটাতে পাঠানো হয়। আমি বাধা দেইনি কারণ আমি জানতাম এর পরিণতি কী হবে।’

অর্জুন আরো অভিযোগ করেন, বাসে কয়েকজন নাবালকও ছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনের চোট লাগে। এমনকি কারো কারো হাড়ও ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, পুলিশ এমনভাবে আঘাত করছিল যাতে শরীরে স্পষ্ট দাগ না থাকে।

সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়

১০ ও ১১ই অক্টোবর বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিককেও আটক করা হয়। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ জনেরও বেশি দিল্লির সাংবাদিক ছিলেন।

১০ অক্টোবর আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন স্ক্রল.ইন-এর শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অনুষ্কা ভরদ্বাজ ও নিউজলন্ড্রি-এর অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম।

বিক্ষোভস্থল থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়।

২ অক্টোবর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১০ অক্টোবর তা আরো তীব্র আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন।

দিল্লি পুলিশ ১০ অক্টোবর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ গত শুক্রবার বলেছিলেন যে জন-নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের বাওয়ানা, মুন্ডকা, বুরারি এবং নারেলার মতো দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সিপিজের তথ্য বলছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বিক্ষোভস্থল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার ফলে পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

এদিকে, ১১ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যায় না। আদালত স্পষ্ট জানায়, কাউকে আটক করলে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।

দিল্লিতে বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আটকের অভিজ্ঞতার পর অনেকে মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নতুন করে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ০.৫% ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ০.৫% ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা বাড়ছে

॥ ওবাইদুর রহমান ॥

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা প্রদান করছে। এ জন্য রিচার্জ করা এনার্জির ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় (রিবেট) প্রদান করা হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করা এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসছে।

প্রিপেইড মিটারের আওতায় গ্রাহক সহজেই রিচার্জ, অবশিষ্ট ব্যালেন্স এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব জানতে পারেন। এর ফলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করতে সক্ষম হন এবং মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। অন্যদিকে, পোস্টপেইড মিটারে মাস শেষে বিলের পরিমাণ জানা যায়, যা পূর্বে ব্যয়ের হিসাব রাখা তুলনামূলকভাবে কঠিন করে তোলে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিলিংয়ের নির্ভুলতা। এছাড়া, বিল তৈরি ও বিতরণে জনবল ব্যয় কমানো, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি, জরুরি ব্যালেন্স ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ সুবিধা এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিং সংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময় রিচার্জ করতে পারেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট এবং ব্যাংকের বুথ থেকেও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। ব্যালেন্স কমে গেলে মিটারে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া। মিটারে থাকা ব্যালেন্স পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান বাসসকে জানান, প্রিপেইড মিটারে মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করছেন, তার ওপর নির্ভর করে তিনি মাসজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। ঘরে বসেই সহজে মিটার রিচার্জ করা যায়। একই সঙ্গে মিটারে কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সেটিও জানা যায়। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি এখন বেশি সচেতন।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও নেসকোর গ্রাহক মুজাহিদ শেখও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বাসসকে বলেন, অল্প কিছুদিন আগে তার বাসায় প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। আগে মাস শেষে কত টাকা বিল আসবে, তা জানা যেত না। এখন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী রিচার্জ করেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন থাকেন।

তার মতে, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে বিদ্যুতের মূল খরচ একই হলেও সচেতনভাবে ব্যবহার করলে প্রিপেইড মিটারে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বিল তৈরি ও বিতরণের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এতে জনবল ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অগ্রিম বিল পরিশোধের কারণে বিতরণ সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায়ও সহজ হয় এবং বকেয়া বিল আদায়ের জটিলতা থাকছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড সংযোগ নিতে কোনো নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় করা হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।

উদাহরণ অনুযায়ী, ২ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের একজন আবাসিক গ্রাহক জানুয়ারিতে প্রথমবার ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটারের ভাড়া বাবদ ১৭১ টাকা ৬২ পয়সা কাটা হবে। অবশিষ্ট টাকার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারে জমা থাকবে ৮৩২ টাকা ৫২ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিপেইড মিটারে কোনো ব্যালেন্স অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী মাসে নতুন করে রিচার্জ না করেও ওই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে ওই মাসের এবং আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যা কমাতে এবং এ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, ডেসকোর অ্যাপে মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, যা বিল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া, জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের সুবিধা থাকায় রিচার্জের টাকা শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়াতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন সুবিধা ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি এবং গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহক।

অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) ১৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮১ জন প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার রয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭ জনের।

এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪৬ লাখ ৫ হাজার ১৯ জন। যার মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন ৩৬ লাখ ৮ হাজার ৩৩১ জন।

এর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক।

বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ চালু রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোও নিজস্ব হটলাইন চালু রেখেছে।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান বাসসকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এটা অনেকাংশে বাস্তবায়নও হয়েছে। শুরুতে কিছু এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল। তবে বর্তমানে তেমন সমস্যা নেই। ইতোমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রিবেটসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এতে গ্রাহকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমতে পারে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনে এমআইএস সফটওয়্যার চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনে এমআইএস সফটওয়্যার চালু

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজস্ব খাতভুক্ত মেধা ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে এমআইএস সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃত্তির অর্থ পেতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংশোধন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বৃত্তি পেয়ে সাধারণ শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর তথ্য পূর্বে এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করা হয়নি, তাদের তথ্য নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বৃত্তির অর্থ পাঠানোর জন্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি ও সংশোধন করা আবশ্যক।

ব্যাংক হিসাবের তথ্যে ভুল থাকার কারণে যেসব শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থ ফেরত গেছে বা হিসাবের মধ্যে জমা হয়নি, তাদের তথ্য সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক ও শাখার নাম, রাউটিং নম্বর, হিসাব নম্বর, একক বা যৌথ হিসাবের সংশ্লিষ্ট ভুল সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় ব্যাংক হিসাব সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করে পুনরায় সংরক্ষণ করতে হবে। তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক বৃত্তির তথ্য এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করা যাবে না। তথ্য এন্ট্রি বা সংশোধনে কোনো ভুল কিংবা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সরকারি অনুদান বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


বাকেরগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সরকারি অনুদান বিতরণ

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সরকারি অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বাকেরগঞ্জ অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অভ্রজ্যোতি বড়াল, ওসি আদিল হোসেন, সেলিনা হোসেন বাবলী, পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, পৌর জামায়াত আমির অধ্যাপক ফিরোজ আলম, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া, উপজেলা হিন্দু বৈদ্য খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুনীল কুমার দাস ঝন্টু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর চন্দ্র শীল, পঙ্কজ দাস, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন, প্রভাষক বিপ্লব মিত্র প্রমূখ।

সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় দুর্গাপূজা উদযাপনকে নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি অনুদান বিতরণের মাধ্যমে পূজা উদযাপনে সহযোগিতার বিষয়টিও অনুষ্ঠানের অন্যতম অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় দুর্গাপূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


টাঙ্গাইলে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নাগরপুরে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হয়েছিল শওকত মোল্লার গলাকাটা মরদেহ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ আঃ মান্নানকে (৬২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন বাহির শিমুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বিন্নাওঝা এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শওকত মোল্লা উপজেলার নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জায়েদ আলীর ছেলে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা গত ২৯ জুন ২০২৬ সালের সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১ জুলাই সকাল ১১টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ পাটক্ষেতে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ সোহেল রানা বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-০২। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

গোয়েন্দা নজরদারিতে গ্রেপ্তার

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মোঃ আঃ মান্নানকে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অধিযাচন পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দলটি। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাগরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, মাদক ও জঙ্গিবাদ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লুলেস অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%