০৫:৫৬ পি.এম
বর্তমানে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বহুমুখী প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করেছে।
বুধবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, রাজ্যসভায় লিখিত এক বার্তায় দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের (এপ্রিল ২০২৬) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পরিণত হবে।
সীতারামন উল্লেখ করেন, সরকার কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে সহায়তা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন
এছাড়াও, আয়কর ও জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, উদ্ভাবন ও ডিজিটালাইজেশন উৎসাহিত করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নীতির উদারীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপও এই কৌশলের অংশ।
উৎপাদনশিল্পকে শক্তিশালী করতে প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই), মেক ইন ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম এবং পিএম গতিশক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতের জন্য ঋণ গ্যারান্টি বৃদ্ধি, ইমার্জেন্সি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, এমএসএমই শ্রেণিবিন্যাসের সংশোধন, ট্রেড রিসিভেবলস ডিসকাউন্টিং সিস্টেম (টিআরইডিএস) শক্তিশালী করা হচ্ছে। সহজতর উদ्यम নিবন্ধন, সরকারি ই-মার্কেটপ্লেসে (জিইএম) প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
সেবা খাতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি), মেডিক্যাল ভ্যালু ট্রাভেল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এবং, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি, আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কৃষি খাতে সেচ, প্রযুক্তি ব্যবহার, ডিজিটাল কৃষি, ফসলের বহুমুখীকরণ, ফসল-পরবর্তী অবকাঠামো এবং বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী সীতারামন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বাজেটগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল, বিরল খনিজ, রাসায়নিক, মূলধনী যন্ত্রপাতি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি: সিইসি
এছাড়া, পিএম-সেতু প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীতারামনের মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘সারফেসি আইন, ২০০২’-এর আওতায় ব্যাংকগুলো ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন