বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:১২ এম
ছাতক উপজেলার মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগমকে অবসর উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
এটি বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ে টানা ৩০ বছর শিক্ষকতা করার পর শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যিনি সভাপতিত্ব করেন তিনি হচ্ছেন জয়নাল আবেদীন, এবং যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কামরুজ্জামান ও আব্দুল হাই লায়েক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাবুল মিয়া, ছাতক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ জসিম উদ্দিন সুমেন, আবু জাহিদ বখত মানিক, মুনসুর আজাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম. আর. জাহিদ মিয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল কাসেম মো. আব্দুল হাদী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌস (মুনি)।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পিয়ারা বেগম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তার হাত দ্বারা অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এলাকাবাসী তার অবদানের স্বীকৃতি দিতে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালারুকা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান মানিক, ছাত্রদলের নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ি প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) আগামী ১৭ ও ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর ফলে আগামী শুক্রবারের এইচএসসি বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রসহ বাউবির বিভিন্ন প্রোগ্রামের পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে না।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বুধবার (১৫ জুলাই) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর অন্যান্য সব বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
স্থগিত করা অন্যান্য প্রোগ্রামের পরীক্ষাগুলো হলো: এম অ্যান্ড এমএসএস (Prelude) প্রোগ্রাম: টার্ম-২৪২ (দ্বিতীয় সেমিস্টার) এর পরীক্ষা (১৭ ও ১৮ জুলাই)।
এছাড়া, বিএজিএড (B.Ag.Ed): ২৫২ টার্ম (জুলাই-ডিসেম্বর)-এর দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা (১৭ ও ১৮ জুলাই)।
মাস্টার অব এডুকেশন (M.Ed) পরীক্ষা-২০২৫: ২৫২ টার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা (১৭ ও ১৮ জুলাই)।
অন্যদিকে, বিবিএ প্রোগ্রাম: ২৪১টার্ম-এর প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম লেভেলের পরীক্ষা (১৭ ও ১৮ জুলাই)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত সমতাসূচক গোলের তিন মিনিট পরে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ম্যাচটি ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান আলবিসেলেস্তেরা। এতে তারা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালের জন্য নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ম্যাচে গোল না পেলেও নিজের জাত চেনাতে ভুল করেননি লিওনেল মেসি। তার দেওয়া একটি দুর্দান্ত পাসে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান এনসো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ে মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বলে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানে জিতেই আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছেছে।
আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের পাতায় নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১২তম অ্যাসিস্ট (গোল করানো)। ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে তিনি এই চোখধাঁধানো কীর্তি গড়লেন। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান বিশ্বকাপের প্রতিটি বিশ্বকাপেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর এই ধারাটি বজায় রেখেছেন তিনি। ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।
এই নতুন অ্যাসিস্টের ফলে বিশ্বকাপে সরাসরি গোল করার পেছনে মেসির অবদান বা ‘ডাইরেক্ট গোল ইনভলভমেন্ট’ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গোল করা এবং গোল করানো—এই দুই পরিসংখ্যান অনুযায়ী আধুনিক ফুটবল তো বটেই, বিশ্বকাপের পুরো ইতিহাসে মেসির চেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারেননি অন্য কোনো ফুটবলার। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠের দখল ধরে রেখে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারিগর এখন কেবল লিওনেল মেসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা আজ ১৬ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৮ দিনব্যাপী উদযাপিত হবে। এই উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এবং বিভিন্ন মন্দির রথযাত্রা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নামসংকীর্তন, আরতি, ভাগবত পাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বিকাল ১৬ জুলাই চাঁদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।
রথযাত্রা উৎসব-২০২৬ এর প্রথম রথযাত্রা আরম্ভের সময়সূচী এবং গন্তব্য:-
১৬-৭-২০২৬ ইং, রোজ বৃহস্পতিবার।
আয়োজকের নাম হচ্ছে শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির হরিসভা, পুরানবাজার, চাঁদপুর। ৫.১৫ মিনিটে পুরানবাজার হরিসভা হতে শহর পদক্ষিণ করে শেষ হবে শ্রী শ্রী কালী বাড়ী মন্দির নতুনবাজারে। শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দির পালপাড়া, পুরানাবাজার, চাঁদপুর। ৫.১৫ মিনিটে বিষ্ণু মন্দির, পালপাড়া, পুরানাবাজার হতে শহর পদক্ষিণ করে শিব মন্দির, দাসপাড়া, পুরানবাজারে শেষ হবে। ৪.৩০ মিনিটে গনি স্কুলের বিপরীতে মুন্সিপাড়া নতুনবাজার ইসকন মন্দির হতে শহর পদক্ষিণ করে পুরানবাজার ঘোষপাড়া গোবিন্দ মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। বিকাল ৬ টায় গোপাল আখড়া হতে শহর প্রদক্ষিণ করে কালী বাড়ী হয়ে গুয়াখোল দুর্গা মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
শ্রী শ্রী রাধা মদন মোহন মন্দির হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স, পুরানবাজার চাঁদপুর। ৫.৩০ মিনিট হতে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্সে রথযাত্রা উদযাপন হবে। চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক তমল কুমার ঘোষ রথযাত্রার এই সময়সূচীর কথা জানিয়েছেন। এদিকে, চাঁদপুর শহরের মুন্সেফপাড়া শ্রী শ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দির (ইসকন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি জগদানন্দ পণ্ডিত দাস ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আট দিনব্যাপী মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। বিকেল চারটায় রথযাত্রা শুরু হবে।
অন্যদিকে, চাঁদপুর পুরান বাজার হরিসভা শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির অধ্যক্ষ বিশাল গোবিন্দ দাস অধিকারী জানিয়েছেন, রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে তাদের মন্দিরে সকাল দশটায় বিশ্ব শান্তির মঙ্গল কামনায় যজ্ঞ অনুষ্ঠান হবে। দুপুর বারোটায় ভোগরতি। এর পর ভাগবত পাঠ করবেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক শৈলন্দকুমার মিত্র। দুপুর দুইটায় প্রসাদ বিতরণ এবং কুমিল্লা আলোকচরের বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এরপরে অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিমসহ অতিথিরা। এমপি সাহেবকে মন্দিরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা ঘিরে চাঁদপুর জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় কমিটি ও অঙ্গসংগঠন উৎসবটি সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রামে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পরে, তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে উপজেলাজুড়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে। শিল্প, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আশাবাদের কথাও শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আসলাম চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। দীর্ঘ কারাবাস শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসনে বিপুল ভোটে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন বলেও তারা মনে করেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরেও, আইনি জটিলতার কারণে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের একটি অংশের মতামত হল, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিভিউ আবেদন করা হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশাবাদ দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ এটিকে সীতাকুণ্ডের উন্নয়নযাত্রার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক নানা সংকটের কারণে সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। জাতীয় সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্বের অভাবে বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পও দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এ কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সক্রিয় ভূমিকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে তারা আশা করছেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিপব্রেকিং শিল্প, রি-রোলিং মিল, ভারী শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে সীতাকুণ্ড দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, নিরাপত্তা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চয় হলে, শিল্পাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সম্প্রসারিত হবে।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হলে শিল্পাঞ্চলে অবৈধ চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, এ খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এ ছাড়াও, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আন্ডারপাস নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পাহাড়ি ঢল নিয়ন্ত্রণ এবং উপকূলীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করার দাবিও দীর্ঘদিনের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দুর্যোগকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াসের কারণে আসলাম চৌধুরী স্থানীয়ভাবে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। করোনা মহামারি ও রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও দলমত নির্বিশেষে সকল মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের মানুষের প্রত্যাশা হল, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পের নিরাপত্তা ও জনসেবামুখী নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে। তাদের বিশ্বাস, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলে সীতাকুণ্ডের স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে। শিল্প, পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনাময় সীতাকুণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পর্যটন জনপদ হিসেবে সীতাকুণ্ড আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে, এমন আশাই করছেন এখানকার বাসিন্দারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ