০৫:০৯ পি.এম
গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পরও আধুনিক গণপরিবহন সুবিধা না পাওয়ায়" প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকলেও তা ভেঙে ফেলা বা পরিত্যক্ত না করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত চালু করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল এলাকা। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হলেও যানজট এবং দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা কমছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি
তাদের মতে, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি আবাসন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজধানীর ওপরও চাপ কমবে।
বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির কারিগরি, পরিচালনাগত কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিচালন পদ্ধতি পরিবর্তন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
তাদের দাবি, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিআরটি দ্রুত চালুর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা, নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং প্রকল্প বাতিল বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রকাশ করা।
আরও পড়ুন: দুমকিতে লটারির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন, উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
এ ছাড়া রেল, এমআরটি, স্থানীয় বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা, গাজীপুরবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বিআরটি করিডোরের বিকল্প হিসেবে ড্যাপ, ডিটিসিএ ও জিসিসি অনুমোদিত সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
তারা বলেন, গাজীপুরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন জড়িত। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রবাসী নিহত, আহত ৪ জন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের (DUET) অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সামসুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ মুনতাসির মামুন, পুবাইল আদর্শ কলেজের অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন