মাসফিকুল হাসান,বেরোবি প্রতিনিধি
০৪:০৩ পি.এম
রংপুরের ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিহাব শাহরিয়ার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, শিহাব শাহরিয়ার তার তিন বন্ধুর সঙ্গে রংপুরের পানবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা ও সহপাঠীরা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালালেও দীর্ঘ সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তাকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিহাব শাহরিয়ারের বাড়ি রংপুরের দর্শনা এলাকায় বলে জানা গেছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তার মৃত্যুতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন আজারবাইজানে গোপনভাবে সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানকে জোরদার করতে ইসরায়েল এলিট কমান্ডো এবং গোয়েন্দা ইউনিট মোতায়েন করেছিল। এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্য ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলের গড়ে তোলা একটি বিস্তৃত গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হয়েছে, যা চারজন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ আজারবাইজানের বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানায় অবস্থান নিয়ে কাজ করেছে, যা সরাসরি ইরানের উত্তর সীমান্তের সংলগ্ন। এই অবস্থানগুলো থেকে ইরানের তাবরিজ শহরের দূরত্ব ছিল মাত্র ৬০ মাইল। যুদ্ধ চলাকালীন, ইসরায়েল সেখানে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছিল। এদিকে, আজারবাইজানের এই অগ্রবর্তী ঘাঁটিগুলো থেকে ইসরায়েলি বিশেষ কমান্ডো ইউনিটগুলো ড্রোন পরিচালনা করে এবং ইরানের ভেতরে গভীর নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো উন্মোচিত এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে ইসরায়েলকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছে এবং এর ফলে তারা এই আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেবল আজারবাইজানই নয়, ইসরায়েল ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকার স্বাধীনতাকামী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডেও তাদের গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। যুদ্ধের শুরুতে এই বাহিনীগুলোকে মূলত জরুরি অবস্থায় ভূপাতিত ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধারের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হয়।
এর ফলে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ চলাকালীন ইরানকে দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলতে সক্ষম হয়, যা তাদের মূল ভূখণ্ড থেকে শত শত মাইল দূরে থেকে সম্পূর্ণ নিখুঁত হামলায় বড় সহায়তা দিয়েছে। আজারবাইজানের এই গোপন ঘাঁটিতে উপস্থিত ছিল ইসরায়েলের কিছুকালীন চৌকস কমান্ডো, এলিট হেলিকপ্টার উদ্ধারকারী দল এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আজারবাইজানের দূতাবাস সিএনএন-এর এই দাবির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু কৌশলগতভাবে বলা হয়, আজারবাইজান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সহযোগী। সিএনএন জানাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে, যখন ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের ঘটনা ঘটছিল, তখনই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তাদের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আজারবাইজান-ইরান সীমান্তে গোপন আড়িপাতার যন্ত্র ও অত্যাধুনিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম স্থাপন করেছিল। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ইসরায়েলের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার বাকু সফর করে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সূত্র মতে, আজারবাইজান ঘাঁটি ব্যবহার করেই গত ৪ মার্চ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান রহমান মোকাদ্দামকে হত্যা করে ইসরায়েল, যার বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। পরদিনই আজারবাইজানের নাখচিভান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার জন্য আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছিলেন।
আজারবাইজানের পাশাপাশি সোমালিল্যান্ডের গোপন ঘাঁটিটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে ইরানে দীর্ঘপাল্লার অভিযানের সময় যাত্রাবিরতি ও জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা প্রদান করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলই ছিল বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অন্যদিকে, ইরাকের অভ্যন্তরে, ইসরায়েল দুটি গোপন লজিস্টিক ও উদ্ধারকারী ঘাঁটি পরিচালনা করেছে যা পরে মার্কিন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও যুদ্ধ চলাকালীন, ইসরায়েলি সেনা ও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মোতায়েন করা হয়েছিল। বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থের কারণে, ইসরায়েল ও আজারবাইজানের সম্পর্ক খুব গভীর; যেখানে আজারবাইজান ইসরায়েলের তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায়, সেখানে ইসরায়েল অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং আয়রন ডোম তাদের কাছে বিক্রি করে আসছে, যা আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজান ব্যবহার করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের এই কৌশলগত সহযোগিতা বরাবরই খুব গোপন রাখা হয় এবং আজারবাইজান মূলত ইরানের আইআরজিসির আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা করতেই ইসরায়েলকে এই গোপন সুবিধার প্রদান করেছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে অভিযানের অংশ হিসেবে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য প্রদান করেছেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. শুকুর মিয়া (২৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), তানভির (১৯), মাহির (২০), মো. ফাইজুল ইসলাম (২৩), সোহান (২০), মো. হৃদয় (২৫), মো. ইয়াকুব আলী (২১), মো. আপন (২২), ইয়াহিয়া (২৮), মো. সিয়াম (২০) ও আজিজুর রহমান মাহফুজ (২৬)।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাসপাতাল পুলিশ বিভাগের (আরপিএমপি) বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের পৃথক অভিযানে, গত ২৪ ঘণ্টাতে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক, জুয়া, চুরি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলাকালে ৯০ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা, জুয়ার সরঞ্জাম, নগদ অর্থ এবং চুরি হওয়া একটি ব্যাটারিচালিত অটো উদ্ধার করা হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাজহাট থানা এলাকাতে জুয়া খেলার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই থানায় নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ আটকে রাখার মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ চুরি হওয়া একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
হাজীরহাট, হারাগাছ, পরশুরাম ও মাহিগঞ্জ থানা এবং আরপিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পরিচালিত অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ একাধিক মাদক কারবারি এবং মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা এবং নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার নাম আব্দুল গাফফার (২৯)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে। গাফফার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল স্থানীয় সাগরিয়া বাজারে এ হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান,রিফাত ও মাহিম সেইফ হোমে ছিল। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেইফ করছি। তখন তাদের সব গুলো ভিডিও থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করছি। তার কারণে হান্নানের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সাথে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি। ৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে আমি রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসুদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা রকম হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে তার অনুসারীদের আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, তার ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শুনেনা। তারা যা করার করুক।
ছাত্রদল নেতা গাফফার অভিযোগ করে আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে, প্রধান ফটকে হামলা করে। পরবর্তীতে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভয়ে আছে। মা-বাবা বলছে আমি যেন আর কোন বক্তব্য না দেয়। আবারও তারা বাড়িতে হামলার আশঙ্কা করছে।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির স্টেটম্যান দেওয়ায় গত দুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নাস মাসউদের অনুসারী এনসিপি নেতাকর্মিরা হুমকি-ধমকি দেয়। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
হাতিয়া উপজেরা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে এটা এনসিপির নেতাকর্মি করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সে গুলো ট্যাকেল দিয়ে উঠতে পারিনা। আমি আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব। পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক করা হয়েছে। যাতে করে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক কি করতে পারে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার, ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মারছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার অংশ বিশেষ ভেঙ্গে যায়। কে মারছে কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ