শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৮ পি.এম
নাটোরের সিংড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতা মোস্তফা বিন আরাফাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে শেরকোল-রাণীনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সে উপজেলার রাণীনগর গ্রামের রিয়াদ মোস্তফা রতনের ছেলে ও উপজেলার ৮ নম্বর শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহীর হারানো ক্রীড়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন প্রজন্মকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বহুমুখী ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
শনিবার বিকালে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের গ্রান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ফাইনাল ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে দুর্গাপুর উপজেলা দলকে পরাজিত করে মোহনপুর উপজেলা দল।
মন্ত্রী বলেন, খেলায় হার-জিত থাকবেই, তবে সবার আগে জয় হবে রাজশাহীর এবং রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়ামোদী এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙা করতে খেলোয়াড়দের মাঠে নিয়ে আসছেন। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানকারী নতুন প্রজন্ম যেন মাদক, মোবাইল আসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থেকে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে, সেটিই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন স্টেডিয়ামটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মাঠ সংস্কারের পাশাপাশি অতি দ্রুত এর ফ্লাডলাইট আগের মতো সচল করার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। এই মাঠে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল দল এবং দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণে বড়ো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ১৬টি ছোট-বড়ো মাঠ আছে, যা বর্তমানে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অত্যন্ত দ্রুত সংস্কার করে সুন্দর ও সবুজ খেলার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ভূমিমন্ত্রী ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে রাজশাহী শহরের কলেজ-স্কুলে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে ‘ভলিবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ এবং ভবিষ্যতে ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ’সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের মাহবুবা হাবিবা, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং পুরস্কার বিতরণ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দুর্গাপুর উপজেলা দলের পলাশ এবং ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দুর্গাপুর উপজেলা দলের জুবায়ের। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় মোহনপুর উপজেলা দলের বাদল এবং সেরা গোলকিপার মোহনপুর উপজেলা দলের আবু রায়হান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৭৭ কোটি রুপি। নতুন সড়কটি ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এটি বাগডোগরা থেকে পশ্চিমবঙ্গের পানিটঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩২৭ নামের এই নতুন মহাসড়ক বিদ্যমান ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৭-এর সমান্তরালে নির্মিত হবে, যেখানে দুই মহাসড়কের মধ্যে দূরত্ব থাকবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান থাকার কারণে এই সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এক ফেসবুক পোস্টে এই প্রকল্পের জন্য দুই হাজার ৭৭ দশমিক ১৮ কোটি রুপি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, "কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মজবুত করার পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নতি ঘটাবে।"
এই চার লেনের সড়কটি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কির যানজট কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, এটি বাগডোগরা বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে স্থানীয় চা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য দ্রুত বড় বাজারে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস এবং মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস নির্মাণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কুরসিওং বন বিভাগের আওতাধীন জাতীয় সড়ক ৩২৭-এর কিছু অংশ হাতি পারাপার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে এই অঞ্চলে হাতির চলাচল বেশি থাকে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্য হাতি মারা যাওয়ার বা আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত সরকার শিলিগুড়ি করিডরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্র বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া, বাগডোগরা বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও চলছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মতে, জাতীয় সড়ক ২৭ হলো শিলিগুড়ি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের মূল যোগাযোগ পথ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এখন কৌশলগত কারণে চিকেনস নেক দিয়ে বিহারের গালগালিয়া থেকে একটি বিকল্প ও সমান্তরাল মহাসড়ক নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা এই মহাসড়ক প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই প্রকল্পটির তাৎপর্য কেবল আঞ্চলিক যোগাযোগের চেয়েও অনেক বেশি। এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জরুরি পণ্য, সেবা ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ওমর ফারুক নামের ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ঈশ্বরপুরগঞ্জ এলাকার ‘চন্দের বিলে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ওই এলাকার মোঃ সাদ্দাম হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে ওমর ফারুক তার দুই-তিনজন খেলার সঙ্গীর সাথে বাড়ির পাশের চন্দের বিলে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে সাঁতার না জানার কারণে ওমর ফারুক পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিলে নেমে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারসহ পুরো ঈশ্বরপুরগঞ্জ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার রাতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে রাজধানী ঢাকার বহু আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শাপলা চত্বর থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্যের অংশীদার বীর চট্টলার লালদীঘির ময়দানে সমবেত হতে পেরেছি।’
স্থানীয়ট্যুর খুঁজুন
লংমার্চের যাত্রাপথে বিভিন্ন বাধা ও হুমকির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক হুমকি-ধামকির কথা শুনেছিলাম। চট্টগ্রামের এক নেতাও বলেছিলেন, এই লংমার্চের ব্যাপারে নাকি আমাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আজকের পথ ও মহাসড়কের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে, জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনগণ এই সরকারকেও ছাড় দেবে না।’
কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে নতুন বিপ্লবের হুংকার দিয়ে জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং ছাত্র আন্দোলনের রক্তের স্মৃতিবিজড়িত বীর চট্টলায় এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা কেন এসেছি? আমরা চাই, কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদের পথে যারা হাঁটছেন, তারা যেন সেই পথ থেকে ফিরে আসেন। এই চট্টগ্রাম থেকেই নতুন বিপ্লবের সূচনা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ