বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৪ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ প্রধান সড়কই এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী।
বিশেষ করে উপজেলা শহরের ডাকবাংলা সড়ক, টেম্পু স্ট্যান্ড সড়ক, উপজেলা পরিষদ সড়ক এবং উজিয়ালখান বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং বর্ষার পানিতে পিচ ঢালাই উঠে গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে এসব সড়কে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে অটোরিকশা চালক মোঃ লিটন বলেন, "প্রতিদিন এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ক্ষতি হয়, আবার যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"
পথচারী কামাল হোসেন ও স্থানীয় স্কুল ছাত্রী ফেরদৌসি জাহান জানান, হেঁটে চলাচল করাও এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকে, ফলে সড়ক ও গর্তের পার্থক্য বোঝা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা।
যোগাযোগ করা হলে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী শেখ ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত জনগণের ভোগান্তি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনদুর্ভোগ ও সড়ক পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরকে ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কগুলো সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ পথচারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অধীনে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হলেও প্রাক্কলনের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারিতে জমা দিতে সক্ষম হন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী নামক ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত কারিগরি মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম প্রয়োজন হওয়ায় বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এতে ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সাশ্রয় হয়; যা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বাসস’কে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অবহেলায় উক্ত খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এমন পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ওই উপজেলার সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের এমন সততা ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির স্থাপনে তাকে সাধুবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে দেশের সব পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখা থেকে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) একটি চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার ১৮০তম দিন অর্থাৎ আগামী ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
এ লক্ষ্যে অধিক্ষেত্রভুক্ত সব পৌরসভাকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি Nikosh Font-এ ওয়ার্ড ফাইল আকারে [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। সেইসাথে প্রতিবেদনটির হার্ডকপিও স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখায় বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি দেশের সব বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাটি স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভাবের কারণে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমা খাতুনের বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। তবে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা আর উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল সে।
লিমা খাতুন গোমস্তাপুর উপজেলার কয়লাদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা ও রাজমিস্ত্রী লিটনের বড় মেয়ে। সে স্থানীয় গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই বোনের মধ্যে ছোট বোন পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে।
পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটের কারণে লিমার পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অদম্য লিমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার। বিষয়টি সে তার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরীকে জানায় এবং স্পষ্ট বলে দেয় যে সে এখন বিয়ে করতে চায় না।
পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির নজরে আনেন। খবর পেয়েই ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে লিমার শিক্ষার সহায়তায় ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যেকোনো ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লিমা খাতুন বলে, “আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। স্যার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।”
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরী বলেন, “লিমা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাইনি। ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি দ্রুত সাড়া দেন। এতে লিমার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে।”
লিমার মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল, তাই বাধ্য হয়ে বিয়ের কথা ভেবেছিলাম। ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় এখন মেয়েকে আবার পড়াশোনা করাতে পারব।”
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি জানান, “কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন কেবল দারিদ্র্যের কারণে থেমে না যায়, সেটাই আমাদের মূল চেষ্টা। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ এবং প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। লিমার মতো যেকোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে প্রশাসন সর্বোচ্চ পাশে থাকবে।”
ইউএনওর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগে লিমা ও তার পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বৃহস্পতিবার দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারের একটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর উভয় জাহাজই ফিরে গেছে।
রেভল্যুশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গত রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উৎসাহে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল।’ তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এর মধ্যে একটি জাহাজে বড় ধরনের আগুন লাগার পর দুটি জাহাজই দ্রুত ফিরে যায়।’ মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান।
এরপর থেকে জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে বলে তেহরান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি, চলাচলের আগে অনুমতি নেওয়া ও সেবামূল্য পরিশোধেরও শর্ত দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার রেভল্যুশনারি গার্ড আবারও বলেছে, হরমুজ প্রণালী আমাদের ভূখণ্ড। যতদিন মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘অতিরিক্ত উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি’ এবং এ অঞ্চলে নৌ চলাচলে তাদের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই প্রণালী ‘পুনরায় খুলে দেওয়া যাবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ