বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অধীনে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হলেও প্রাক্কলনের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারিতে জমা দিতে সক্ষম হন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী নামক ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত কারিগরি মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম প্রয়োজন হওয়ায় বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এতে ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সাশ্রয় হয়; যা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বাসস’কে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অবহেলায় উক্ত খালটি ভরাট হয়ে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অংশ হিসেবে সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এমন পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ওই উপজেলার সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজের এমন সততা ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির স্থাপনে তাকে সাধুবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে দেশের সব পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখা থেকে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) একটি চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার ১৮০তম দিন অর্থাৎ আগামী ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
এ লক্ষ্যে অধিক্ষেত্রভুক্ত সব পৌরসভাকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি Nikosh Font-এ ওয়ার্ড ফাইল আকারে [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। সেইসাথে প্রতিবেদনটির হার্ডকপিও স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখায় বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি দেশের সব বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাটি স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভাবের কারণে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমা খাতুনের বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। তবে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা আর উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল সে।
লিমা খাতুন গোমস্তাপুর উপজেলার কয়লাদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা ও রাজমিস্ত্রী লিটনের বড় মেয়ে। সে স্থানীয় গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই বোনের মধ্যে ছোট বোন পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে।
পারিবারিক চরম আর্থিক সংকটের কারণে লিমার পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অদম্য লিমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার। বিষয়টি সে তার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরীকে জানায় এবং স্পষ্ট বলে দেয় যে সে এখন বিয়ে করতে চায় না।
পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সির নজরে আনেন। খবর পেয়েই ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে লিমার শিক্ষার সহায়তায় ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যেকোনো ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লিমা খাতুন বলে, “আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। স্যার যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।”
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শরিফা খাতুন চৌধুরী বলেন, “লিমা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাইনি। ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি দ্রুত সাড়া দেন। এতে লিমার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে।”
লিমার মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল, তাই বাধ্য হয়ে বিয়ের কথা ভেবেছিলাম। ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় এখন মেয়েকে আবার পড়াশোনা করাতে পারব।”
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি জানান, “কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন কেবল দারিদ্র্যের কারণে থেমে না যায়, সেটাই আমাদের মূল চেষ্টা। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ এবং প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। লিমার মতো যেকোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে প্রশাসন সর্বোচ্চ পাশে থাকবে।”
ইউএনওর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগে লিমা ও তার পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বৃহস্পতিবার দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারের একটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর উভয় জাহাজই ফিরে গেছে।
রেভল্যুশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গত রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উৎসাহে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল।’ তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এর মধ্যে একটি জাহাজে বড় ধরনের আগুন লাগার পর দুটি জাহাজই দ্রুত ফিরে যায়।’ মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান।
এরপর থেকে জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে বলে তেহরান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি, চলাচলের আগে অনুমতি নেওয়া ও সেবামূল্য পরিশোধেরও শর্ত দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার রেভল্যুশনারি গার্ড আবারও বলেছে, হরমুজ প্রণালী আমাদের ভূখণ্ড। যতদিন মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘অতিরিক্ত উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি’ এবং এ অঞ্চলে নৌ চলাচলে তাদের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এই প্রণালী ‘পুনরায় খুলে দেওয়া যাবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বলেছেন, মৌলিক ক্রিকেট জ্ঞান না থাকলে কাউকে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তামিম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কোচ নিয়োগে কোনো ধরনের সুপারিশও গ্রহণ করা হবে না।
বুধবার বিসিবির বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় ১৭০ জন অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৩৮ জন। তার মতে, অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি ছিল, তাই এবার পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও মানসম্মত করা হচ্ছে।
তামিম বলেন, আগের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার বা লেভেল-ওয়ান কোচদের আবেদন করার কথা থাকলেও পরে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছিল, যা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক—এই তিন ধাপের মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যদের নির্বাচন করা হবে।
তিনটি পরীক্ষার খাতা দেখে হতাশার কথাও তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, একটি প্রশ্ন ছিল—‘ওয়াইড বলে কীভাবে আউট হওয়া যায়?’ সেখানে কেউ উত্তর দিয়েছেন ‘বোল্ড’ ও ‘এলবিডব্লিউ’। আবার অফসাইডের পাঁচটি পজিশনের নাম লিখতে গিয়ে কেউ ‘মিড উইকেট’ লিখেছেন। এসব দেখে তিনি মন্তব্য করেন, “যারা ‘ওয়াইড বলে বোল্ড হয়’ লেখে, তাদের কোচিংয়ে না আসাই ভালো।”
তামিম আরও জানান, কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে কাউকে ব্যক্তিগত, বোর্ড কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে না। তিনি বলেন, ‘কেউ লিখিত, ব্যবহারিক বা ভাইভায় উত্তীর্ণ না হলে শুধু সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ