১২:৪০ এম
পাবনার চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ভিপি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়ার ও এলাকাবাসীকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছেন। মাদককে না বলি, সুস্থ সমাজ গড়ি এই শ্লোগান নিয়ে শনিবার (০৪ জুলাই) রাতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলার চরপাড়া বটতলা এলাকায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের ও তাদের মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ গণস্বাক্ষর করেন। গণস্বাক্ষর চলাকালে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন, গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আলাল, ১ নাম্বার ওয়ার্ড মেম্বার মজিবর রহমান, বিএনপি কর্মী হেলাল উদ্দিন, শুকুর আলী, মোরশেদা খাতুন, জমেলা খাতুন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চরপাড়া এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এলাকাবাসীতে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। প্রশাসনও মাদকের বিরুদ্ধে তৎপর। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তারা বিএনপি নেতাদের আশ্রয় নিচ্ছে। বক্তাদের অভিযোগ হলো, আশরাফুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ভিপি সেলিম রেজা তাকে দিয়ে থানায় এলাকাবাসীর নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। বক্তারা আরো বলেন, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ও এলাকাবাসীর নামেও জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও থানার ওসির কাছে আবারো লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই আশরাফুল। আর তাকে আশ্রয় দিয়ে সহযোগীতা করছেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা। তবে গত ৩ জুলাই সেই অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বারবার এলাকাবাসীকে হয়রানী না করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান স্থানীয়রা। তাদের পাশাপাশি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ভিপি সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে রবিবার (৫ জুলাই) বিকাল ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন চরপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলামকে তার মাদক ব্যবসা বন্ধে মৌখিকভাবে নিষেধ করেন এলাকাবাসী। পরদিন ৮ জুন ২ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে বলে এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন আশরাফুল। আর এ সময় তার পক্ষ নিয়ে সহযোগীতা করেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৩ জুন সন্ধ্যায় প্রথম বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। ১৭ জুন গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাল ও বিএনপি কর্মী হেলালকে লাঞ্ছিত করেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজার চাচা গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইজাবত আলী প্রামানিকের তিন ছেলে কুতুব সাধু, কুদ্দুস ভান্ডারী, কিতাব সাধু এবং চাচাতো ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। ঘটনার প্রতিবাদে ২০ জুন সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। এদিন মিছিল করায় বিএনপি নেতা সেলিম রেজা ও তার সহযোগীরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন