০৮:২৪ পি.এম
ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের সময় ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের জন্য আহ্বান জানানোর পর রোববার প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি দিয়েছে।
ইউক্রেন সামরিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রাশিয়ার ২০২২ সালে শুরু করা আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য দেশটির মানুষ মনোযোগ দিয়েছে, এবং বেশিরভাগ জনগণ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন একটি বড় ঝুঁকি। এবার নির্বাচনের আয়োজন করা দেশের জন্য সুনামির মতো হবে। এটি ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলবে।’
আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ৪৮ বছর বয়সী জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমাদের দেশ ধ্বংস করতে ইচ্ছে করে, তাহলে এই যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’
এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। এটি কয়েক মাসের মধ্যে তার প্রথম ব্রিফিং ছিল। দেশে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ গত সপ্তাহে আকস্মিকভাবে নির্বাচনের আয়োজনের পথে বের হওয়ার আহ্বান করেন। তবে তিনি কীভাবে তা করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো রূপরেখা প্রদান করেননি। তার কিছু সমর্থকও তার অবস্থানে দূরত্ব তৈরি করেন।
বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন আয়োজনের পথে কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং দখলকৃত এলাকার বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, এ প্রশ্ন। এছাড়া রাশিয়ার দ্বারা অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে রাশিয়ার প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে, তখনই নির্বাচনের আয়োজনের আহ্বান উঠেছে।
কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির করা একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজন হওয়া উচিত।
সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আগে জেলেনস্কি ওই ব্রিফিংয়ে ফেদোরভের সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া তীব্র রুশ হামলার মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই নিয়ে মিত্ররা আলোচনা করবে।
ফেদোরভ সম্পর্কে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি, তিনি নিজে বা কেউ তাকে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে।’ সাবেক মন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কমান্ড এবং প্রচলিত কঠোর পদ্ধতের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান
শুরুতে ইউক্রেনের বিশাল জনগণের একটি অংশ ফেদোরভের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্তের দাবি জানায়।
জেলেনস্কি বলেন, জনগণকে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ আচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে জানান। তিনি বলেন, ‘কবে থেকে যারা নিজেদের জীবন দিচ্ছেন, তাদের চেয়ে প্রচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল?’ জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজন ঠেকানোর শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজ ও সেনাসদস্যদের বিভক্ত করা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই ঝুঁকিটি স্বীকার করতে হবে—আমরা হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছি, যা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন