ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমএসএমইকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত করতে চায় ইউএনডিপি


এমএসএমইকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত করতে চায় ইউএনডিপি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সাথে, বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার সচিবালয়ে ইউএনডিপির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপি জানায়, এমএসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারসংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এই খাতকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস মন্তব্য করেন, "ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

তিনি আরও বলেন, ইউএনডিপি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে চায়।

রড্রিকস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো এবং বাণিজ্য সহজীকরণে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "এমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।"

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

তবে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি জানান, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে কিছু অনুমোদন পেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরো উন্নত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহন, খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থার সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা চালু হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সহযোগিতা কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হবে। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমএসএমই খাতকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপসাগরীয় শাসকদের সতর্ক করলেন মুজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


উপসাগরীয় শাসকদের সতর্ক করলেন মুজতবা খামেনি

ইরান মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে নিজেদের ‘আসল শত্রু’ চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ কেবল শত্রুদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

 

জানাচ্ছে, নবী করিম (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উদযাপনের অংশ হিসেবে মুজতবা খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হয়।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ প্রতিরক্ষা এবং ঐক্য গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তারা জানি বা না জানি ইসলামের শত্রুদের সহায়তা করছে।

তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, মুসলিম বিশ্ব যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত, তাহলে কি ফিলিস্তিনিরা এত অসহায় অবস্থায় পড়ত? এর আগে শুক্রবার ইরানিদের উদ্দেশে দেয়া এক বার্তায় তিনি জাতীয় সংহতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছেন এবং জনগণের মনোবল দুর্বল করে এমন কোনো হতাশাজনক বক্তব্য দেয়া থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

উপসাগরীয় আরব শাসকদের উদ্দেশে মুজতবা খামেনি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর শাসকদের, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি আমার দ্ব্যর্থহীন পরামর্শ হলো—আপনাদের আসল শত্রুকে শনাক্ত করুন, তাদের পরিকল্পনা বুঝুন এবং তা মোকাবিলা করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


রংপুরে ৪ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী

রংপুরের আলোচিত গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিহতদের বসতবাড়িতে পৌঁছান মন্ত্রী। এ সময় তিনি নিহতদের শোকার্ত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক একটি হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে মাদকের সূত্র ধরে ঘটনার শুরু বলে মনে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

একই সাথে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি বা গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ ‘মাদক’ উল্লেখ করে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সাধারণ জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশিক্ষিত যুবদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বনের লক্ষ্যে উপকরণ ও চাকরি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুরের পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম নাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল-চীনে বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


নেপাল-চীনে বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলছে

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কয়েক দিন পরেও নেপাল ও চীনে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার প্রবল স্রোতের সঙ্গে বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢেউয়ে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পর থেকে এই উদ্ধার অভিযান চলছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এখন পর্যন্ত ৬৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু মরদেহ নেপালের নদীর স্রোতে ভেসে ভারতের অনেক দূরের এলাকাতেও পৌঁছে থাকতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার রাতে উদ্ধার অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩ এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি সুড়ঙ্গে পাইপ ঢোকাতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ওই ছোট ছিদ্র দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো শুরু করেছি। এখন খননকাজ শুরু করা হবে এবং উদ্ধারকারী দলকে ভেতরে পাঠানো হবে।’

ত্রিশুলি-৩ এ ও ৩ বি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে এখনও ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে এসব এলাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ এই পানির স্রোত ও বন্যার সৃষ্টি হয়।

হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হঠাৎ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটাও জানি, বিপুল পরিমাণ কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে জলবায়ু উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে এ ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা, ঘনঘন সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাÑসবই বাড়ছে। আর এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলো।’

‘কিছুই অবশিষ্ট নেই’

নিখোঁজ স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানার জন্য উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে অনেক মানুষকে শূন্য থেকে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে।

নেপালের নুওয়াকোট জেলার বাসিন্দা বুদ্ধি রাম দাঙ্গোল বলেন, ‘নদীর আশপাশের সব বসতিই ভেসে গেছে। কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

বিদুরে উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি সেনা ঘাঁটিতে স্বজনরা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দেখতে ভিড় করেন।

কালকা শারদা নামের এক ব্যক্তি মরিয়া হয়ে তালিকায় ছেলের নাম খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার ছেলেকে খুঁজতে এসেছি। সে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু তালিকায় তার নাম পাচ্ছি না, আর কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না।’

বড় বড় বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রকল্প থাকা ওই এলাকায় নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৫১৭ জন বিদেশি, যাদের মধ্যে পর্যটক, পর্বতারোহী এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

ভারতীয় ধর্মগুরু সদগুরুর নেতৃত্বাধীন ইশা ফাউন্ডেশন শনিবার ইনস্টাগ্রামে জানায়, তাদের ৮০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় ভ্রমণে গিয়েছিল।

তাদের দলটি চীনের সীমান্তবর্তী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং এলাকায় ছিল। ফাউন্ডেশনটি জানায়, এলাকাটি ‘পুরোপুরি পানিতে ভেসে গেছে’। সেখানে অভিবাসন দপ্তরের এলাকায় এখনও কেউ বেঁচে থাকার আশাব্যঞ্জক কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানানো হয়।

‘প্রবল মানসিক আঘাত’

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তাও রয়েছে। এর আগে দুর্যোগের পরপরই ওয়াশিংটন ৫ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, পুনর্গঠনে ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো উদ্ধার অভিযান চালানো এবং যতটা সম্ভব মানুষের জীবন রক্ষা করা।’

আটকে পড়া মানুষকে শনাক্ত করতে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিশেষায়িত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মরদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার কিট এবং সেগুলো সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত রাখার ব্যবস্থা চেয়েছেন তিনি। তার আশঙ্কা, পানিতে থাকা মরদেহ দ্রুত পচে যেতে পারে।

নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বরফ ও কাদা-মাটির প্রবল স্রোতে বড় বড় জলাধারের মতো হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি নতুন হ্রদ থেকে আবারও বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীন ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই পক্ষই স্যাটেলাইট ও নদী-সংক্রান্ত পানির তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা করেছে।

তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষই তথ্যের একমাত্র উৎস। নতুন সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শনিবার রাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, হ্রদটির পানি ‘প্রাকৃতিকভাবে বের হয়ে যাচ্ছে’ এবং প্রায় পুরোপুরি পানি নেমে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, গিরং এলাকায় মোট ২ হাজার ১৪১ জন উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রয়েছেন ৫০০ জনের বেশি।

নেপাল শনিবার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে এখনও ২ হাজার ৪২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।

সীমান্তের ওপারে তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭ জন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তিব্বতে আটকা পড়া ৫৫৫ জন পর্যটক ও ৪৯৯ জন চীনা নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপাল থেকে প্রবাহিত নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘আর কোনো আশা নেই’

নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বিদুরে কালকা শারদা তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে বিনোদ শারদার খোঁজে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দেখছিলেন। বিনোদ একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

কালকা বলেন, ‘আমার মনে হয় আর কোনো আশা নেই। কারণ সে যদি বেঁচে থাকত, তাহলে কোনো না কোনোভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা জারি ইকুয়েডরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা জারি ইকুয়েডরে

এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে, যা রেকর্ড সৃষ্টিকারী মাত্রায় শক্তিশালী হতে পারে, শনিবার ইকুয়েডর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এটি ল্যাটিন আমেরিকার সর্বশেষ দেশ যা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বছরের এল নিনো ইতোমধ্যে মধ্য আমেরিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে। বর্তমানে অঞ্চলটি তীব্র খরার কবলে রয়েছে। একই সঙ্গে, ইন্দোনেশিয়াতেও এটি দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধি করছে।

কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলমান এল নিনো বছরের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইকুয়েডরের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এল নিনো পরিস্থিতির’ কারণে পুরো দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

এই সতর্কতার আওতায় জরুরি কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। এসব কমিটির দায়িত্ব হবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আগাম সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সমন্বয় করা।

এল নিনোর কারণে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বাতাসের গতিপথ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হয়। এর প্রভাব মাছ ধরা ও পাখির পরিযানের ওপরও পড়ে।

ইকুয়েডরের পূর্বাঞ্চলের আমাজন এলাকায় খরা ও দাবানলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনোর কারণে পানামা, হন্ডুরাস ও এল সালভাদর ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

দক্ষিণে পেরুও এল নিনোর কারণে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, তীব্র তাপ ও বৃষ্টির কারণে মানুষের পর্যাপ্ত খাবার নাও থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%