০৩:০৯ পি.এম
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সাথে, বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার সচিবালয়ে ইউএনডিপির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপি জানায়, এমএসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারসংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এই খাতকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস মন্তব্য করেন, "ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
তিনি আরও বলেন, ইউএনডিপি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে চায়।
রড্রিকস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো এবং বাণিজ্য সহজীকরণে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "এমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।"
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
তবে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন প্রয়োজন।
তিনি জানান, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে কিছু অনুমোদন পেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরো উন্নত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহন, খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থার সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা চালু হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সহযোগিতা কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হবে। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমএসএমই খাতকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন