ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হঠাৎ দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক


হঠাৎ দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক হঠাৎ করে দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করেছে।

গ্রাহকদের দেওয়া আমানতের সুদ বা মুনাফার বিপরীতে নির্ধারিত হারে উৎসে কর (টিডিএস) কাটা সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, কাটা কর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ সোমবার (১০ আগস্ট) একটি সার্কুলার জারি করে।

আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকে আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়নি এবং তা যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছে। এতে পরবর্তীতে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষার সময় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে, নির্ধারিত হারে কর না কাটার কারণে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী, সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি কিংবা অন্য যে কোনো ধরনের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা থেকে গ্রাহকদের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে। অতিরিক্তভাবে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো গ্রাহক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর (প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন) দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে স্বাভাবিক হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়েছে। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুসারে, জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত কোনো মাসে কর কাটা হলে ওই মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কর কর্তন করা হলে সার্ভার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়া হবে। আর ২১ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত কর কাটা হলে পরের দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার

নতুন সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে কর নির্ধারিত সময়ের পর জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো হিসাবের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমার মধ্যে কাজ করতে হবে।

এছাড়াও, উৎসে কর কর্তনের সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় বিবরণী প্রস্তুত এবং চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করার ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, উৎসে কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চে আন্তঃধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে দু’দেশের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এই তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। এছাড়া, বাংলাদেশে আসা মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) সিংহভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে, যা আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় অবদান রাখছে।

এসময় তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঘুরতে যাওয়ায় স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা হয়ে আসছে, যা এই অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়েছে।

নিজ দেশের মূলনীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন করছে। আমাদের দেশের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা, যেখানে প্রতিটি মানুষ কোনো ভয়ভীতি বা নিপীড়ন ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই চলে আসছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে।

সার্বজনীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, উৎসব সবার জন্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা ঈদ, দীপাবলি, ক্রিসমাস ও ইস্টারের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করি, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ধর্মীয় গুরুদের অবদান অপরিসীম। স্থানীয় কোনো ধর্মীয় বিরোধ যেন বড় কোনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, বাংলাদেশের এই ধারণা একটি চমৎকার উদ্যোগ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পুরোহিত ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজ। সভায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের উপাচার্য রেভারেন্ড ড. পলাশ রায়সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক যুগে জাককানইবি সাংবাদিক সমিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


এক যুগে জাককানইবি সাংবাদিক সমিতি

এক যুগ পূরণ করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাকানইবিসাস)। এই উপলক্ষে আনন্দ র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ, ক্যালেন্ডার-ডায়েরি উন্মোচন এবং সেমিনার আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, "সাংবাদিকরা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অহংকার ও অ্যাম্বাসাডর, তারা সারা বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশ করা যেমন সাংবাদিকদের অধিকার, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা করাও আমাদের সবার দায়িত্ব।"

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোছা. জান্নাতী বেগমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস’-এর হেড অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া এবং সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শিয়াবুর রহমান (শিহাব) এবং আলজাজিরার সাংবাদিক মওদুদ আহমেদ সুজন।

সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি এবং চত্বরে বৃক্ষরোপণ করা হয়। অতিথিরা কেক কাটার মাধ্যমে একযুগ পদার্পণের দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি উন্মোচন করে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপনের সমাপ্তি ঘটে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটিয়ায় ১০০ জনে ফেল ৪৫, কমেছে জিপিএ-৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


পটিয়ায় ১০০ জনে ফেল ৪৫, কমেছে জিপিএ-৫

চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক বছরের ব্যবধানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। গত বছর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ পাস করলেও এবার পাস করেছে মাত্র ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ ৫ কমেছে ২০১টি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতা, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা না পাওয়া এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক একাডেমিক মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ফুল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

এছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছর ৪২টি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

জিপিএ ৫-এর সংখ্যাতেও বড় পতন হয়েছে। গত বছর পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৪১০ জন, এবার পেয়েছে ২০৯ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ ৫ কমেছে ২০১টি।

ফলাফল বিশ্লেষণে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার এই দুটি মৌলিক বিষয়ে দুর্বলতা, নিয়মিত অনুশীলনের ঘাটতি, ইংরেজি ব্যাকরণ ও লিখিত উত্তর প্রদানে দুর্বলতা অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাবিদদের মতে, এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে প্রস্তুতি নিয়ে গণিত ও ইংরেজির দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। এসব বিষয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিপন কান্তি দে জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পটিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার অভাব এর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিখন ঘাটতি নিরসন, রেমিডিয়াল কার্যক্রম, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষক মেন্টরিং ও একাডেমিক মনিটরিং জোরদার করা হবে।

এদিকে পটিয়ার ফল বিপর্যয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার রয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশীয় পয়েন্ট। এবার বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, গত বছর পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ জিপিএ ৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫টি। চলতি বছর বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

বোর্ডের ফলাফলে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।

পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এবার পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল। ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯৩ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গৈড়লা খরনখাইন প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়। ৬২ জনের মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তৃতীয় আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে জিপিএ ৫ পাওয়ার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় সবার ওপরে—৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এছাড়া আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ), মোজাফরাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮০ শতাংশ), আরফা করিম উচ্চ বিদ্যালয় (৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ), জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় (৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ), এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ), পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৭২ দশমিক ৩৯ শতাংশ) এবং মুকুট নাইট উচ্চ বিদ্যালয় (৭১ দশমিক ৯৫ শতাংশ)।

জিপিএ ৫ পাওয়ার হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়—২৪ জন, তৃতীয় এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ—২২ জন।

অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত খারাপ ফল করেছে উপজেলার তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শাহ আমির উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৩ জন। পাসের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন, পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৩ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ ৫ পায়নি।

পটিয়ার মাদরাসাগুলোতেও এবার ফলাফলে অবনতি হয়েছে। উপজেলার ২৩টি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৮৬৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬২৯ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২০ জন। গত বছর দাখিলে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।

দাখিলে ভালো ফল করেছে মেহেরআটি হযরত নুরুদ্দীন শাহ দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে পাঁচজন। দ্বিতীয় নলান্দা গাউসিয়া বদরিয়া দাখিল মাদরাসা, পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তৃতীয় দক্ষিণ আশিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, পাসের হার ৯০ শতাংশ।

কারিগরি শিক্ষাতেও একই চিত্র। এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় পটিয়া থেকে ৩৫৩ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে পাঁচজন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

পটিয়ার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী তানজিম হোসেন বলেছেন, গণিত ও ইংরেজিতে নিয়মিত অনুশীলন না করলে শেষ মুহূর্তে ভালো ফল করা কঠিন। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। আগে থেকেই নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়া হলে প্রস্তুতি আরো ভালো হতো।

আরেক শিক্ষার্থী তানিয়া আকতার মনে করেন, ক্লাসে পড়ানো হলেও অনেক সময় না বোঝা বিষয়গুলো আলাদাভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ কম থাকে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত।

অভিভাবকেরা বলেছেন, শুধু এসএসসি পরীক্ষার আগে ভালো ফলের জন্য চাপ দিলেই হবে না। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

পটিয়ার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ফল প্রকাশের পর সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমগীর বাবু হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। হাবিবুল্লাহ বাবুল নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়ার ফল বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে—দায়টা আসলে কার? শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত পড়াশোনা, অভিভাবকের নজরদারির ঘাটতি, শিক্ষকদের পাঠদানের দুর্বলতা, নাকি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন ও একাডেমিক মনিটরিংয়ের ঘাটতি?

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলাফল বিপর্যয় বেশি হয়েছে। পটিয়ায় কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও ফল খারাপ হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত বেতন, নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং যোগ্য গভর্নিং বডি নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগে গভর্নিং বডি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব থাকলে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষককে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। পটিয়ার সরকারি আবদুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল থেকে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল পরিচালনা ও শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্ব দিলে দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কারণ দিয়ে এবারের ফল বিপর্যয় ব্যাখ্যা করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির পাশাপাশি পাঠদান পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, অভিভাবকের সম্পৃক্ততা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোন বিষয়ে কতজন ফেল করেছে, কেন ফেল করেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন ছিল, কতগুলো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা ছিল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক একাডেমিক অডিট করা যেতে পারে। গণিত ও ইংরেজিতে বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত মডেল টেস্ট, রেমিডিয়াল ক্লাস, শিক্ষক মেন্টরিং ও মাসিক একাডেমিক মনিটরিং চালু করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

এবার পটিয়ায় নয়টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৬ হাজার ৮২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি ৫ হাজার ৬৮৫ জন, দাখিল ৮৩৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৩০৬ জন।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে এবারের এই পতন তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি পটিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। এখন ফলাফল বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ, জিপিএ ৫ কমে যাওয়া শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়; একজন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্যতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের প্রত্যাশা, সময়, শ্রম ও ভবিষ্যতের হিসাব। পটিয়ার এই ফলাফল শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও একাডেমিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০

কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪।

সোমবারের দিনে এই কম্পন ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায়ও অনুভূত হয়। বর্তমানে কলম্বিয়ায় এই ভূমিকম্পের কারণে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা কুরি জানিয়েছেন, কিবদোসহ অন্যান্য এলাকায় অনেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা প্রদান করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের ফলে আরও কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

জুলাই মাসে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭-এর উপরে। ওই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলার মৃতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিশাল এলাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা প্রদেশ এবং রাজধানী কারাকাসে। এর প্রভাব কাটানো মুহূর্তেই ফের কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৪। ইউএসজিএস জানিয়েছে, সোমবার সকালে স্থানীয় সময় ৭টা ৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের এই ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ২০ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনই পেরেইরা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ উল্লেখ করেছেন তিনি। বহু বাড়ি ধসে পড়েছে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকোর সান হোসে দেল পালমার থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। তবে ইউরোপীয়ান মিডিটেরানিয়ান সেসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। যদিও কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সংস্থা জানিয়েছে, এই কম্পনের মাত্রা ৬.৭ এবং এর গভীরতা ছিল ৮২ কিলোমিটার গভীরে।

এই কম্পন অনুভূত হয়েছে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা ছাড়াও আন্তিওকিয়া, কুন্দিনামার্কা, মেটা ও অন্যান্য এলাকায়। কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জোর ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।

সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বিয়ার প্রধান ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে এই কম্পন ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%