১১:২৭ এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তের পথে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) রাতে ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ২২৫/৩-আর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা এক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারীকে আটকে বিজিবিকে খবর প্রদান করে। খবর পেয়ে বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। পরে ওই নারীকে শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: চুয়েট ভিসিকে না মানার ৬ কারণ দেখিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে স্মারকলিপি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতায় জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
পরপর তিনবার পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোট ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং টহল বাড়ানো হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। সীমান্ত সুরক্ষায় ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে বিজিবি। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যবহৃত হচ্ছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্ত এলাকাটি কাঁটাতারবিহীন হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ বারবার এভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা
তারও আগে, গত ৪ জুন ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা শূন্যরেখায় তিন দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন