০১:৩০ পি.এম
যুদ্ধে ছয় মাসের মধ্যেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে বিদেশে তেল রফতানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে বৈদেশিক আয় কমছে। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ক্রেতারা কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসছেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সেখানে স্বস্তি মিলছে না। মুদি দোকানে চালের দাম বেড়ে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ, আর গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত। নির্দিষ্ট বেতনে থাকা পরিবারগুলোর জন্য খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
একজন ক্রেতা মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের পূর্বের তুলনায় ওষুধের দাম অনেক বেড়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যেরই দাম বৃদ্ধির ফলে সমস্যায় পড়েছেন তারা। কখনো কখনো এক সপ্তাহের মধ্যেই দামের পরিবর্তন ঘটে। যারা নির্দিষ্ট বেতনে জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে অসম্মানজনক বললেন
যুদ্ধের পর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে ইরানের অর্থনীতি বেশি চাপে পড়েছে। দেশটির প্রধান রফতানি পণ্য তেল বিদেশে পাঠানো এখন কঠিন হয়ে গিয়েছে, যার ফলে বৈদেশিক আয় কমছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। ইরানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন মাসেই ১০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারাতে হয়েছে।
এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস জানাচ্ছে যে, বছরের শেষ নাগাদ ইরানে মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অর্থনীতিও সংকুচিত হতে পারে। উৎপাদনের তুলনায় বেশি জ্বালানি ব্যবহার করার কারণে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর চাপ বাড়ছে। অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষুব্ধ ইরানিরা আগেই ছিলেন, ফলে দাম বৃদ্ধি ঘটলে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করেছে। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতায় বিকল্প বাণিজ্যপথ ও ছায়া নৌবহর ব্যবহার করে টিকে থাকার কৌশল গড়ে তুলেছে তেহরান।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে থাকলেও, দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী শত্রু পক্ষের যেকোনো হামলার জবাব দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পাশাপাশি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় ছাড় চাওয়ার দাবি তাদের। ফলে অর্থনৈতিক চাপ যত বৃদ্ধি পাক, যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান কতটা ছাড় দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে জুলাই শহীদদের প্রতি প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন