০১:১১ এম
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে ভয়াবহ ফাটল ও দীর্ঘ ভাঙ্গনের ফলে বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধ চরম হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে পানির চাপে বাঁধ ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শন করেছেন।
নদীর নওয়াপাড়া অংশে দীর্ঘকাল ধরে ভাঙ্গন চলছিল। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিধ্বস্থ হয়েছে। ফলে অনেক জমি অপর পাড়ে চলে গেছে। নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান সম্পূর্ণ না নিলেও কিছু অংশ দিয়ে খনন কাজ চলছিল। বর্ষাকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে এই খননকাজে আড়াআড়ি মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেওয়া হয়। তবে নদী খননের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে, ভাঙ্গনকূল নওয়াপাড়ার অংশের বাঁধটা ছুটানো হয়। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে নওয়াপাড়ার পাড়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। খননকাজের সময়ে অপর পাড়ে যেনতেনভাবে কাজ শুরু হলেও শেষ করা হয়নি। যার ফলে নওয়াপাড়ার অংশ বর্তমানে নদীতে পরিণত হয়েছে। অপর পাড়ের জমি ভরাট থাকার কারণে নদীর স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়ার বাঁধের ওপর আছড়ে পড়ায় তীর ভাঙ্গা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ২/৩ শত হাত ভেড়ী বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে গিয়ে মূল বাঁধকে স্পর্শ করেছে। এর সাথে প্রায় ১০০ হাত এলাকায় মূল বাঁধের বড় অংশে ভয়াবহ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এই ফাটল বড় হচ্ছে। দ্রুত রক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ, জজ কোর্টের এপিপি, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাঁধের অবস্থা মোটেও ভাল নয়। ফাটল বড় হতে হতে মূল বাঁধের মাটি ধ্বস নিয়েছে। যদি এই ধ্বস নদীতে পড়ে, তাহলে বাঁধটি ছুটে যাবে। বাঁধ রক্ষা না করা গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর এবং ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি এবং মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর এসও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং বাঁধের ভাঙ্গন ঘটে যাওয়া অবস্থাটি ভিডিও কলের মাধ্যমে বিশদভাবে অবহিত করেন। বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে এসও জানান। ইউএনও ডিসি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং পাউবো কর্মকর্তাদেরকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। ইউএনও এবং পাউবোর এসও পরে বুধহাটা বাজারে খেয়াঘাটের কাছে ভাঙ্গনস্থান দেখতে যান। ভাঙ্গন রোধে ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে কর্মকর্তাদ্বয় স্থানীয় জনতাকে আশ্বস্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ ও জামায়াত নেতা এড. শহিদুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন