০৬:১৮ পি.এম
ভারতের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) সন্দেহভাজন সাইবার হামলার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ঘটনায় ডার্ক ওয়েবে হাজারো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যসহ রেকর্ড ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত এক নথিতে ব্যাংকটি জানায়, প্রাথমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যসংবলিত প্রায় ৪ হাজার রেকর্ড শনাক্ত করা হয়েছে। এসবিআই তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্ত করছে।
ব্যাংকটি আরও জানায়, প্রাথমিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ডার্ক ওয়েবে পাওয়া প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা ভারতের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর ফলে এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে, গত জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অব বারোদা-ও একই ধরনের ঘটনার তথ্য জানিয়েছিল।
গ্রান্ট থর্নটন ভারতের অংশীদার বিবেক আইয়ার মন্তব্য করেন, ‘আর্থিক পরিষেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন, বিশেষ করে ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির ক্ষেত্র ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করলেই হবে না, তাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনাকেন্দ্রগুলোকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বারবার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করতে পারে।
আরও পড়ুন: লাভরভ: ইউরোপের নেতারা রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক
ভারতের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত এসবিআই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া রেকর্ডে গ্রাহকদের নাম, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, ইমেইল ও বাসার ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া শাখা ও গ্রাহক শনাক্তকরণ নম্বর এবং ঋণসংক্রান্ত রেকর্ড ও সম্ভাব্য গ্রাহকদের তথ্যও এতে ছিল।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের পাশাপাশি গ্রাহক ও ব্যাংকের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তবে এসবিআই বলেছে, এ ঘটনায় ব্যাংকটির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক ফলাফল কিংবা ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতার ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
আরও পড়ুন: গাজায় এতিম ৭১ হাজার শিশু, স্বামীহারা ৬৪ হাজার নারী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন