০৩:৩৯ পি.এম
ভারতের মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। এর ফলে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে এই তিন জেলার বিভিন্ন অংশে আকস্মিক বন্যার প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে এ বন্যাটি তিন-চার দিনের বেশি স্থায়ী হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সেন্টার (বিডাব্লিউডিবি) এবং ভারতীয় আবহাওয়া সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি প্রতিফলিত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৬.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া সংক্রান্ত ভারতীয় ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী এবং আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি বেড়ে গেছে। আগামী তিন দিন ধরে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
এই সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িক প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে, সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও জাদুকাটা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ধরে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর পাশাপাশি বেড়েছে মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি।
তবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানির স্তর একই জায়গায় থাকতে পারে। এই সময় খোয়াই নদী হবিগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিলেটের বেশিরভাগ নদীর পানিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৬টার তুলনায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি বেড়ে গেছে। এর মধ্যে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি ভোর ৬টার তুলনায় দুপুর ১২টায় শূন্য দশমিক ৪ সেন্টিমিটার; সিলেটে সুরমা নদীর পানি ভোর ৬টার তুলনায় বিকেল ৩টায় শূন্য দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলায় কুশিয়ারা নদীর পানি ভোর ৬টার তুলনায় বিকেল ৩টায় শূন্য দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার শূন্য দশমিক ২ সেন্টিমিটার, শেরপুরে কুশিয়ারার শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, জৈন্তাপুরের সারিগোয়াইন নদীর পানি শূন্য দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, জাফলংয়ে পিয়াইন নদীর পানি শূন্য দশমিক ৮ সেন্টিমিটার, গোয়াইনঘাটে সারিগোয়াইন নদীর পানি শূন্য দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার এবং কানাইঘাটে লোভাছড়ায় লোভা নদীর পানি শূন্য দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। তবে এখনো সবগুলো পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
বন্যার শঙ্কার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সেন্টার সোমবার সকালে জানায় আগামী এক সপ্তাহে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছে মেঘালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে। এতে আগামী তিন দিন পর সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পার।’
তবে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী নদ-নদীতে পানি বাড়লেও তা তিন বা চার দিনের বেশি স্থায়ী থাকবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন