আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৮:১৯ পি.এম
মধুপুরের টাঙ্গালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অসহায় এক নারী ও তার দুই শিশুর সন্ধান মধুপুর উপজেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতৃবৃন্দ পেয়ে গেছেন। গত ১২ আগস্ট ওই নারীর মানবেতর জীবনযাপনের খবর ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাদের সন্ধান পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অসুস্থ ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার, পোশাকসহ সার্বিক দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই শিশুর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে। এই মানবিক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ ওই নারীর চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান, আরএমও সজীব কুমার, ডা. নাজমুল ইসলাম, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির মো. মেহেদী হাসান শিশির, মো. কামরান হাসান বর্ষণ, মো. শাকিল সরকার, মোহাম্মদ সিয়াম আহমেদসহ অন্যান্যরা।
এ সময় মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, আগামীকাল মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় ওই নারী ও তার দুই শিশুকে নিরাপদে তাদের নিজ বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
অসহায় নারী ও তার দুই শিশুর দুর্দশার খবর জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করায় জাতীয় ছাত্র শক্তির এই উদ্যোগকে স্থানীয় সুধীজনরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এদিকে মানবিক এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতৃবৃন্দ।
মানুষের দুর্দিনে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে—সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এই চর্চা আরও বিস্তৃত হোক, এটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ইয়াবা সেবনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৫ আগস্ট রাত ৯টা ১০ মিনিটে ইসলামপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজারের কাছে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলের ৫ নম্বর কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী হাসান রিয়াদ (২৬), পিতা রমজান আলী, পিয়াজীকাটা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, খুটাখালী, ইউনিয়ন, চকরিয়া; হারুন রশিদ (৩৫), পিতা মৃত আব্দু সালাম, ঈদগাঁও বাজার, ১ নম্বর ওয়ার্ড, জালালাবাদ ইউনিয়ন, ঈদগাঁও; নুরুল আমিন (৩০), পিতা মৃত বশির আলম, নতুন অফিস পূর্ব পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ইসলামপুর ইউনিয়ন, ঈদগাঁও এবং মাসুদ করিম (২৩), পিতা আব্দুল খালেক, নাপিতখালী ঘোনার পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ইসলামপুর ইউনিয়ন, ঈদগাঁও।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলের ওই কক্ষে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের প্রস্তুতির সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬টি গ্যাস লাইটার, ১০টি লাল রঙের বোতলের ছিপি, ১০টি প্লাস্টিকের পাইপ ও ১০টি ফ্লুয়েল পেপার জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৭ ধারায় মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা আলোচিত ‘টিপুনগর’ মৎস্য ঘেরের মাছ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগের তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ একটি কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই ঘটনা গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট হাইমচর থানার তৎকালীন ওসির নির্দেশে এসআই জাকির হোসেন ঘের থেকে মাছ ধরে পার্শ্ববর্তী হায়দারগঞ্জে বিক্রি করেন। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সম্পত্তি বা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া বিক্রির কোনো অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। অভিযুক্ত এসআই জাকির হোসেন ৩৯ হাজার টাকায় মাছ বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, ওই টাকা তৎকালীন ওসির কাছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে, তৎকালীন ওসি বদলি হওয়ায় বর্তমান ওসি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেননি।
ঘেরের সুরক্ষার জন্য মাছ তুলে বিক্রির কথা বলা হলেও পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপু নগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ জন্য স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে জাল ফেলা মাছ ধরা এবং পরে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।
হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসি সাহেবের নির্দেশে টিপু নগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।" তিনি আরও জানান, মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসি সাহেবের। কিন্তু ওসি সাহেব ১৯ আগস্ট থানায় বদলী হয়ে চাঁদপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন। নতুন ওসি মো. শাহ আলম যোগদান করেন। এ বিষয়ে ওসি শাহ আলম বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি ২৩ আগস্ট এখানে যোগদান করি।"
বর্তমান হাইমচর উপজেলার ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম জানান, "আমি ২৩ আগস্ট এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করি। টিপুনগর থেকে যে মাছ বিক্রি হয়েছে সেটা উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জেনেছি।" তিনি আরও বলেন, "কিন্তু সরকারের অধিনে থাকা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে নিলামের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হয়।" তবে থানা পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা তাদেরকেও জানায়নি। মাছ বিক্রির অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। চাঁদপুর হাইমচর মেঘনাপাড়ের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এখন আদালতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ প্রশাসন পুরো অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ফুল অউর কাঁটে’র পরিচালক কুকু কোহলি আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ৭৭ বছর বয়সী এই খ্যাতনামা নির্মাতা।
দুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কুকু কোহলি। চিকিৎসকরা তার শারীরিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্টেন্ট স্থাপন করলেও পরবর্তীতে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি হাসপাতালে হঠাৎ ঢলে পড়েন এবং চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে কুকু কোহলি তার স্ত্রী, প্রখ্যাত অভিনেত্রী অরুণা ইরানিকে রেখে গেছেন। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রী রিতা কোহলির পক্ষে তার পূজা ও কারিশমা নামের দুই সন্তান রয়েছে।
১৯৯১ সালে হিন্দি সিনেমার জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কুকু কোহলি। তার প্রথম সিনেমা ‘ফুল অউর কাঁটে’ বিপুল সফলতা অর্জন করে, যা অভিনেতা অজয় দেবগনের প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যম হিসেবেও খ্যাত। সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অরুণা ইরানিও। একই বছর তিনি ‘কোহরাম’ সিনেমাটি পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তিনি পুনরায় অজয় দেবগনকে নিয়ে নির্মাণ করেন সুপারহিট সিনেমা ‘সুহাগ’, যেখানে অন্যান্য মুখ্য চরিত্রে ছিলেন অক্ষয় কুমার, কারিশমা কাপুর ও নাগমা।
দীর্ঘ কর্মজীবনে কুকু কোহলি উপহার দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল চলচ্চিত্র। যার মধ্যে ১৯৯৫ সালের ‘হাকিকত’, ‘আনাড়ি নম্বর ১’, ‘জুলমি’ এবং ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ উল্লেখযোগ্য। তার নির্দেশনায় তৈরি সর্বশেষ সিনেমা ছিল ‘ওহ তেরা নাম থা’, যা ২০০৪ সালে মুক্তি পায়।
কুকু কোহলির মৃত্যুতে বলিউডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত মোস্তারীর আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ সাজা প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—উত্তর আজিবপুরের মো. আব্দুল কাদের হোসেন ফালান (৪০), আজিবপুর রেললাইনের মো. আনোয়ার হোসেন কুট্টি (৪০), কদমতলীর জামাল (২৮), আটি অবদা কলোনির উৎস (১৯) ও অনন্ত রায় (১৯), গ্যাস লাইনের মো. নাজমুল (১৯) ও রাজা মিয়া (২৬), সোনামিয়া মার্কেটের রিপন (২৬), জালকুড়ির সবুজ মাঝি (২৮), মিজমিজির মো. হাসান (২৮) এবং মিজমিজি দক্ষিণপাড়ার মেহেদী হাসান (২০)।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক ১১ জনকে কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ