০৮:২১ পি.এম
চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা আলোচিত ‘টিপুনগর’ মৎস্য ঘেরের মাছ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগের তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ একটি কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই ঘটনা গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট হাইমচর থানার তৎকালীন ওসির নির্দেশে এসআই জাকির হোসেন ঘের থেকে মাছ ধরে পার্শ্ববর্তী হায়দারগঞ্জে বিক্রি করেন। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সম্পত্তি বা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া বিক্রির কোনো অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। অভিযুক্ত এসআই জাকির হোসেন ৩৯ হাজার টাকায় মাছ বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, ওই টাকা তৎকালীন ওসির কাছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে, তৎকালীন ওসি বদলি হওয়ায় বর্তমান ওসি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেননি।
ঘেরের সুরক্ষার জন্য মাছ তুলে বিক্রির কথা বলা হলেও পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপু নগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ জন্য স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে জাল ফেলা মাছ ধরা এবং পরে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসি সাহেবের নির্দেশে টিপু নগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।" তিনি আরও জানান, মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসি সাহেবের। কিন্তু ওসি সাহেব ১৯ আগস্ট থানায় বদলী হয়ে চাঁদপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন। নতুন ওসি মো. শাহ আলম যোগদান করেন। এ বিষয়ে ওসি শাহ আলম বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি ২৩ আগস্ট এখানে যোগদান করি।"
বর্তমান হাইমচর উপজেলার ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম জানান, "আমি ২৩ আগস্ট এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করি। টিপুনগর থেকে যে মাছ বিক্রি হয়েছে সেটা উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জেনেছি।" তিনি আরও বলেন, "কিন্তু সরকারের অধিনে থাকা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে নিলামের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হয়।" তবে থানা পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা তাদেরকেও জানায়নি। মাছ বিক্রির অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। চাঁদপুর হাইমচর মেঘনাপাড়ের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এখন আদালতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ প্রশাসন পুরো অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন