ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবারের বাজেট স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বললেন আইনমন্ত্রী


এবারের বাজেট স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বললেন আইনমন্ত্রী

এবারের বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে অভিহিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, এই বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি কখনো সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তাদের মতে, উচ্চাভিলাষ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

আইনমন্ত্রী বলেছেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে ঢালাও সমালোচনা করা হতো। তবে এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরজায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য দেশজুড়ে খাল ও নদী পুনঃখনন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় এবং প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি বড় পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাহিত্য, সমাজসেবা ও নারী নেতৃত্বে অনন্য অনু চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


সাহিত্য, সমাজসেবা ও নারী নেতৃত্বে অনন্য অনু চৌধুরী

রাজশাহীর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার অঙ্গনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন অনু চৌধুরী।

সাহিত্যচর্চা এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে রাজশাহীর নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে।

বর্তমানে, রাজশাহী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি এবং বরেন্দ্র নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে, সংগঠন দুটি সাহিত্যচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

অনু চৌধুরী সাহিত্যর প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্যসভা, কবিতা আবৃত্তি, বই আলোচনা এবং নবীন লেখকদের উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।

রাজশাহীর বহু তরুণ লেখক, কবি ও সাহিত্যপ্রেমী তাঁর প্রচেষ্টায় একটি সৃজনশীল ও ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে সাহিত্যভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে আসছেন। তাঁর বিশ্বাস হলো, একটি জাতির মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে বই ও সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবেও অনু চৌধুরীর সুনাম রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে, বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মনে করেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই।

তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে, সাহিত্য সংগঠনগুলো সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

সাহিত্যের পাশাপাশি, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন। তিনি একটি স্বনামধন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

যেমন, নারী উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সম্মানিত করেছে।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে তিনি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তার মতে, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া একটি সমাজের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রাজশাহীর অসংখ্য নারী অনু চৌধুরীকে তাঁদের আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করেন। সাহিত্যিক, সংগঠক, সমাজসেবক ও সফল নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন নারী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

অনু চৌধুরীর স্বপ্ন হলো একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গড়ে তোলা। তিনি চান রাজশাহীর সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হোক এবং নতুন প্রজন্ম বই ও সৃজনশীলতার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠুক।

সাহিত্য, সমাজসেবা ও নারী উন্নয়নের সমন্বিত কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে। তাকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে গত ১৬ জুন এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি সত্য হলেও তখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তার দুদিনের মাথায় আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

তারও আগে ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ করার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী বিভিন্ন সময় (দিন ও রাতে) চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জুন মাসে সাভারের বোট ক্লাবের ঘটনার পর চিত্রনায়িকা পরীমণি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছিলেন। মামলা দায়েরের পরদিন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় এই অভিনেত্রীর। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাসা যাওয়া-আসা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমণি সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ পরে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। 

২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয় স্বীকার করেছিলেন। সেই অসদাচরণের দায়েই অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যক্ষের স্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও বেতন নিচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


অধ্যক্ষের স্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, শ্যালিকা আয়া; কাজে না এসেও বেতন নিচ্ছেন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা নুরুল উলুম দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষের স্ত্রী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অধ্যক্ষের স্ত্রী সামছুন্নাহার মাদরাসাটির নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) এবং শ্যালিকা ছদরুন্নাহার আয়া পদে কর্মরত থাকলেও অভিযোগ এসেছে যে তাঁদের হয়ে অন্য একজন নারী কাজ করছেন।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে কাজী নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়ে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের স্ত্রী ও শ্যালিকাও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত।

সম্প্রতি সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরনো প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা বেশ নাজুক। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো তিনটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য স্থায়ী কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। পুকুরপাড়ে অস্থায়ীভাবে টিনের চালা ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার জন্য রয়েছে একটি টিনের কক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাদরাসায় অবস্থানকালে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক বারান্দা ও টিনের ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গত ১৫ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পরও নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তাকর্মী সামছুন্নাহার ও আয়া ছদরুন্নাহার কর্মস্থলে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিবর্তে শাহানা আক্তার নামে এক নারী নিয়মিত কাজ করছেন এবং তাকে মাদরাসার তহবিল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘অধ্যক্ষের স্ত্রী মাঝেমধ্যে মাদরাসায় এলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না। তিনি সাধারণত অফিস কক্ষে বসে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে কখনো দেখিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক বলেন, ‘আমার শ্বশুর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর মেয়েদের এখানে চাকরি দিয়েছেন। এটি তাঁর বিষয়।’

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘কিভাবে নিয়োগ হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো নিয়মসংগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের কতদিন পর বিয়ে করা সম্ভব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের কতদিন পর বিয়ে করা সম্ভব?

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদকে সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলাম সংসার ভাঙাকে মোটেও পছন্দ করছে না। কিন্তু কিছু নিরুপায় অবস্থার কারণে ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বোঝানোর জন্য, ছাড় দেওয়ার জন্য এবং পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে বোঝানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ইদ্দত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গণনা করা। এর পরিভাষায় নারীরা ওই সময় পর্যন্ত অন্যত্র বিয়ে করা থেকে বিরত থাকার নাম ইদ্দত। এই সময়ের মধ্যে আগের বিবাহের প্রভাব যেমন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মতো সম্ভাবনা শেষ হওয়া প্রয়োজন বলেই শরিয়ত এটি নির্ধারণ করেছে।

এছাড়া ডিভোর্সের মাধ্যমে যে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে কিছুদিন অন্য কোথাও বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। ইদ্দত পালন করা নারীদের জন্য একটি আবশ্যক দায়িত্ব। ডিভোর্সের মাধ্যমেও বিচ্ছেদ হলে তিন হায়েজ (পিরিয়ড) পরিমাণ সময়ই ইদ্দত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, 'আর তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েজ পর্যন্ত।' (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৮)

আর যদি স্বামী মারা যান, তখন স্ত্রীর জন্য চার মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করা বাধ্যতামূলক। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, 'তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস ১০ দিন অপেক্ষা করবে।' (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৪)

ইসলামী শরিয়তে, যদি কোনো নারী ইদ্দত পালন না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সেই বিয়ে শুদ্ধ হবে না। (মুসলিম: ১৪৮২; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৫)

যে নারীকে বিয়ের পরে সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয়, তার জন্য কোনো ইদ্দত নেই। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করবে এবং এরপরে তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দেবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪৯)

ইদ্দত তিন হায়েজ এজন্য উল্লেখিত হয়েছে, কারণ নারীদের হায়েজ বা পিরিয়ডের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। প্রত্যেক নারীর সময় ভিন্ন হয়; কারো তিন দিন, কারো চার, পাঁচ, সাত দিন হতে পারে। তাই কোরআনে তিন হায়েজ বলা হয়েছে। তালাকের পর তিনটি হায়েজ হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো পুরুষের কাছে বিয়ে বসতে পারবে না। ইসলামি শরিয়তে, স্বামী ডিভোর্সের পরেই বিয়ে করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%