প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদকে সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলাম সংসার ভাঙাকে মোটেও পছন্দ করছে না। কিন্তু কিছু নিরুপায় অবস্থার কারণে ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বোঝানোর জন্য, ছাড় দেওয়ার জন্য এবং পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে বোঝানোর প্রয়োজন রয়েছে।
ইদ্দত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গণনা করা। এর পরিভাষায় নারীরা ওই সময় পর্যন্ত অন্যত্র বিয়ে করা থেকে বিরত থাকার নাম ইদ্দত। এই সময়ের মধ্যে আগের বিবাহের প্রভাব যেমন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মতো সম্ভাবনা শেষ হওয়া প্রয়োজন বলেই শরিয়ত এটি নির্ধারণ করেছে।
এছাড়া ডিভোর্সের মাধ্যমে যে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে কিছুদিন অন্য কোথাও বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। ইদ্দত পালন করা নারীদের জন্য একটি আবশ্যক দায়িত্ব। ডিভোর্সের মাধ্যমেও বিচ্ছেদ হলে তিন হায়েজ (পিরিয়ড) পরিমাণ সময়ই ইদ্দত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, 'আর তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েজ পর্যন্ত।' (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৮)
আর যদি স্বামী মারা যান, তখন স্ত্রীর জন্য চার মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করা বাধ্যতামূলক। এই বিষয়ে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, 'তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস ১০ দিন অপেক্ষা করবে।' (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৪)
ইসলামী শরিয়তে, যদি কোনো নারী ইদ্দত পালন না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সেই বিয়ে শুদ্ধ হবে না। (মুসলিম: ১৪৮২; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৫)
যে নারীকে বিয়ের পরে সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়া হয়, তার জন্য কোনো ইদ্দত নেই। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করবে এবং এরপরে তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দেবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪৯)
ইদ্দত তিন হায়েজ এজন্য উল্লেখিত হয়েছে, কারণ নারীদের হায়েজ বা পিরিয়ডের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। প্রত্যেক নারীর সময় ভিন্ন হয়; কারো তিন দিন, কারো চার, পাঁচ, সাত দিন হতে পারে। তাই কোরআনে তিন হায়েজ বলা হয়েছে। তালাকের পর তিনটি হায়েজ হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো পুরুষের কাছে বিয়ে বসতে পারবে না। ইসলামি শরিয়তে, স্বামী ডিভোর্সের পরেই বিয়ে করতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন