০১:৩৫ পি.এম
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক সেনা কমান্ডার সংঘর্ষের সময় নিহত হয়েছেন। রোববার তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করার সময় তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে এসেছে।
নিরাপত্তা বাহিনী একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, ফিরাস আবদুল করিম হামুদ সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হন।
আরও পড়ুন: টাকার লোভে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু সদস্য : মির্জা আব্বাস
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদের পতনের পর সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থি কর্তৃপক্ষ তার শাসনামলের কয়েক ডজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। গত এপ্রিল থেকে এসব কর্মকর্তার বিচারও শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, উপকূলীয় আলাওয়ি অধ্যুষিত এলাকা তারতুস প্রদেশের সাফিতা শহরে হামুদের গোপন আস্তানায় অভিযান চলাকালে সশস্ত্র সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষের ফলে ফিরাস আবদুল করিম হামুদকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জানায়।
নিরাপত্তা বাহিনী আরও জানায়, এর আগে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করার সময় হামুদ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, "সাম্প্রতিক অভিযানেও তিনি আবার গুলি চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ শুরু করেন। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হয়।"
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ৭১% মুসলিম, ৫১% নারী: মহুয়া মৈত্রের উদ্বেগ
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, আসাদের শাসনামলে তথাকথিত ‘২৫তম ডিভিশনের’ বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হামুদ।
তাদের অভিযোগ, আসাদের পতনের পর উপকূলীয় এলাকায় সাবেক প্রেসিডেন্টের অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সংগঠিত ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে হামুদ আসাদ আমলের জেনারেল গিয়াথ দাল্লার সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
নিরাপত্তা বাহিনী আরও অভিযোগ করেছে যে, হামুদ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হন।
দাল্লা আসাদের আমলের বহুল আতঙ্কের ‘চতুর্থ ব্রিগেডের’ একজন কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিরিয়া মুক্তির জন্য সামরিক পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বিয়ে, কনে নিধি রাজদান
এর কিছুদিন পরই ২০২৫ সালের মার্চে সিরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় আলাওয়ি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সহিংসতা শুরু হয়। আসাদের পরিবারও এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
সিরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আসাদপন্থি সশস্ত্র সমর্থকদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার মাধ্যমে ওই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।
একটি জাতীয় তদন্ত কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ওই সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ৪২৬ জন আলাওয়ি নিহত হন। অন্যদিকে পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।
আসাদের পতনের পর থেকে আলাওয়ি সম্প্রদায় কয়েক দফা সহিংসতার শিকার হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির জামিয়া যেন পুলিশ ক্যাম্পের মতো পরিস্থিতি
দামেস্কের নতুন কর্তৃপক্ষ সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলেও ইসলামপন্থি নতুন সরকারের অধীনে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিরিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন