০৮:৪৮ পি.এম
একটি বিশাল আমবাগান রয়েছে। গাছগুলোতে ঝুলছে বিভিন্ন জাতের রঙিন আম, যা সকলের নজর কাড়ছে। তবে এই বিশাল ১০ বিঘার বাগানে পাহারায় কোন মানুষ নেই; বরং এখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বাগানের সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে দেশি জাতের দুটি বিশ্বস্ত কুকুর। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লালু’ এবং ‘কালু’। একটি দুর্ঘটনায় লালু তার একটি পা হারালেও, বাগান রক্ষায় তার সাহসিকতা এবং বিশ্বস্ততায় কোনো আঘাত আসেনি।
নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি অঞ্চলে চাষি আব্দুল আলিম এই মিশ্র জাতের আমবাগান গড়ে তুলেছেন। বারি-৪ সহ বিভিন্ন বিদেশি রঙিন আমে পরিপূর্ণ এই বাগানে যদিও কর্মচারী রয়েছে, তবে পাহারাদার হিসেবে আলিমের প্রধান ভরসা এই দুটি কুকুর। তারা এখন শুধু পাহারাদার নয়, বরং পরিবারের সদস্য হয়ে উঠেছে।
বাগানের মালিক আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, তিনি শৈশবে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পরম যত্নে এই কুকুরছানা দুটি নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। একটি কুকুর লাল-সাদা রঙের হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে ‘লালু’, অন্যটি কালো-সাদা হওয়ায় তাকে ‘কালু’ নামকরণ করা হয়। সময়ের সাথে সাথে তারা পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে রুহুল আমিনের পা, জীবিকার তাগিদে এখন রিকশার হ্যান্ডেলে তার হাত
আলিম বলেন, ‘ওরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতোই। বিশাল এই বাগানে পাহারাদার রাখলে যে অতিরিক্ত খরচ হতো, তা লালু এবং কালুর কারণে বাঁচানো যাচ্ছে। আমরা নিজেও যা খাই, তারা এটুকু খায়। তবে তাদের হিংস্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঝে মাঝে সেদ্ধ মাংস দেওয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত টিকাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবাও দেওয়া হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই বাগানে অপরিচিত মানুষের প্রবেশ একপ্রকার অসম্ভব। লালু ও কালুর বাধা উপেক্ষা করে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারে না। তবে পরিবারের কেউ তাদের সাথে থাকলে তারা শান্ত থাকে। শুধু বাগান পাহারাই নয়, আলিমের মেয়ের সঙ্গী হয়ে প্রতিদিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং বিকেলে খেলাধুলার সময় সবখানেই এই দুই সঙ্গী ছায়ার মতো জড়িয়ে থাকে। তাদের এই অসাধারণ বিশ্বস্ততা ও বুদ্ধিমত্তায় প্রতিবেশীরাও মুগ্ধ।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক সময় কুকুর পালন শহরের বিষয় ছিল বা শুধুই শখ ছিল, কিন্তু বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নিরাপত্তার কাজে মানুষ কুকুর পালন করছে।
তিনি বলেছেন, ‘এখন বিশ্বস্ত ও উপকারী প্রাণী হিসেবে মানুষ এদের লালন-পালন করছে। নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে এর ফলে মানুষের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। সঠিক যত্ন নিলে এরা মানুষের উপকারে আসে।’
আরও পড়ুন: শেরপুর ও জামাল পুর সড়কের ব্রহ্মপুত্র সেতুতে ২০০৭ সাল থেকে চলমান টোল আদায় বন্ধের দাবি এলাকাবাসী.
সঠিক যত্ন, উপযুক্ত চিকিৎসা, এবং ভালোবাসা পেলে যে কোনও প্রাণীও মানুষের পরম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত পাহারাদার হতে পারে। নওগাঁর ‘লালু’ এবং ‘কালু’ তারই একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন