০৯:০৭ এম
ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ দম্পতি লিন্ডসে ফোরম্যান ও ক্রেগ ফোরম্যানের ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে দেশটির আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে তাদের পরিবারের সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোটরসাইকেলে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ইরান পার হওয়ার সময়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা তেহরানের এভিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে এই দম্পতির আইনি সহায়তা প্রদানকারী দলের সদস্য ব্যারিস্টার হেইডি ডিকস্টাল জানিয়েছেন, ক্রেগ এবং লিন্ডসে সাধারণ পর্যটক। তারা অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং আটকের পর থেকে তাদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চীনের রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআই পণ্যের চাহিদার প্রভাব
লিন্ডসের ছেলে জো বেনেট জানিয়েছেন, আপিল শুনানির সময় তার মা ও সৎ বাবাকে আদালতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আপিল কেন খারিজ করা হলো তার কোনো কারণও দেখায়নি। এছাড়া, ফার্সি ভাষায় লেখা কিছু নথিতে তাদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পড়তে না পারায় তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
এই দম্পতি বর্তমানে কারাগারে অনশন করছেন, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ক্রেগ ফোরম্যান গত ২৫ দিন ধরে খাবার বর্জন করেছেন। তিনি কেবল চিনি, দুধ ও পানি গ্রহণ করছেন এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল ও কৃশ হয়ে পড়েছেন। মাঝে কিছুদিন অনশন ভাঙলেও বর্তমানে টানা ১৬ দিন ধরে অনশন করছেন পেশায় লাইফ কোচ লিন্ডসে ফোরম্যান।
সহবন্দিদের পরিবারের মাধ্যমে বাইরে আসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বেনেট জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে।
এক মাস আগে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই রায়কে ‘হতাশাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এই দম্পতিকে নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এই আটকাদেশকে ‘অন্যায় এবং জঘন্য’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ইরানে প্রায় ছয় বছর বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক নাজানিন জাগ্রি-র্যাটক্লিফের স্বামী রিচার্ড র্যাটক্লিফ এই বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের রেভল্যুশনারি কোর্ট মূলত কোনো প্রকৃত আদালত নয়, এটি সাজা দেওয়ার একটি মঞ্চ। লিন্ডসে ও ক্রেগের আপিল খারিজ করা আসলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা।’
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মামলাটি এখন ইরানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানকার আইনি প্রক্রিয়া বা সময়সীমা সম্পর্কে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
জো বেনেট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এই সংকটের কোনো শেষ দেখতে পাচ্ছি না, এটাই সবচেয়ে কষ্টের। আমরা শুধু তাদের সুস্থভাবে আমাদের মাঝে, নিজ দেশে ফেরত চাই।’
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন