প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (২ জুন) জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ‘সফলভাবে প্রতিহত’ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা ‘আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে’ ইরানের কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পাশাপাশি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) করা একটি দাবি অস্বীকার করেছে। সেই দাবি অনুযায়ী বলা হয়েছিল যে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং উক্ত অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
একটি বিবৃতিতে সেন্টকম উল্লেখ করেছে, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে কোনোটিই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়নি।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কুয়েতে নিক্ষেপ করা দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌছানোর আগে ভেঙে পড়ে বা পথে বিকল হয়। এবং বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন এবং বাহরাইনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।’
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাগুলোকে প্রতিহত করছে।
সেন্টকম আরো জানায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। সেগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
কেশম দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যত এই নৌপথটিকে বন্ধ করে রেখেছে।
সেন্টকম জানায়, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ‘ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’। তারা দাবি করে যে, এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
এটির জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম লিখেছে, ‘মিথ্যা। মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে।’
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা এখন পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।
এছাড়া, গেল সোমবার (১ জুন) তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে ইসরাইলের সম্প্রসারিত সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটাতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন