০৯:৪৭ পি.এম
ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১০১.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের রপ্তানি আমিরাতে ৩৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে, ফলে আমিরাত ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে এবং তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্থান লাভ করেছে। একই সময়ে, ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে ভারত আমিরাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একমত হয়েছে।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশনস অ্যান্ড ইনভেস্টরস সিরিজ’ সম্মেলনে, দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত ভারতীয় কনসাল জেনারেল ড. বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি মন্তব্য করেন যে, ভারত-আমিরাত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, "এখন আমাদের নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করা শুরু করতে হবে, যাতে আগামী কয়েক বছরে এটি দ্বিগুণ হয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।"
ড. রেড্ডি আরও বলেন, "আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পরবর্তী ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে আসবে।" ভারতে বর্তমানে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৩০টিরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাবে পরিণত করেছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টি ফান্ডপ্রাপ্ত কোম্পানি রয়েছে, যারা সম্মিলিতভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি থেকে ৬৮৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
ভারতে বর্তমানে ৯৩টি ইউনিকর্ন রয়েছে। মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন বিনিয়োগকারী ৫৩ হাজার ৫২১টি ফান্ডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৩১৩৬টি স্টার্টআপ আর্লি-স্টেজের ফান্ডিং এবং ৯১৮টি লেট-স্টেজের ফান্ডিং পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪টি নতুন কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর জন্য ১৩.৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতে স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ৫ হাজার ৩৪৭টি অধিগ্রহণ এবং ৬ হাজার ৫৩১টি আইপিও হয়েছে। অন্যদিকে, ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪টি স্টার্টআপ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। নারীরা ২৩ হাজার ৭১৯টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ভারত স্টার্টআপ নলেজ অ্যাক্সেস রেজিস্ট্রি (ভাস্কর) প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। স্টার্টআপগুলো সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম)-এর মাধ্যমে ৫১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্ডার পেয়েছে।
ড. রেড্ডি জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে, স্টার্ট-আপে বিনিয়োগসহ নতুন অংশীদারি তৈরি করা প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত স্টার্ট-আপ এবং ফিন-টেক সংস্থাগুলোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারীরা এই অংশীদারিকে সুদৃঢ় করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের স্তরে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারেন।
সম্মেলনে বলিউড অভিনেতা ও বিনিয়োগকারী বিবেক ওবেরয় মন্তব্য করেন, "সাফল্য উদযাপন করার পাশাপাশি ব্যর্থতা উদযাপন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, "আমরা সাফল্য অনেক উদযাপন করি, কিন্তু আমাদের ব্যর্থতাও উদযাপন করা উচিত, কারণ ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাই আমাদের সাফল্য এনে দেয়।" তিনি আরও বলেন, "আমি ৩৫টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি, যার মধ্যে কয়েকটি ভালো ফল করেনি। কিন্তু যেগুলো ভালো করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছি।"
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
তিনি যোগ করেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলোতে বিনিয়োগ করে বিপুল সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে এবং সেগুলোকে বৃহৎ বৈশ্বিক ব্যবসায় পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।"
ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম (আইপিএফ) হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো আমিরাতে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়পরায়ণ ও সমৃদ্ধ ভারতীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলা। এটি ভারতীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের আয়োজন করে।
আইপিএফ-এর জাতীয় সভাপতি জিতেন্দ্র বৈদ্য বলেন, "ভারত-আমিরাত সম্পর্ক এমন একটি কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ উভয় দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য এই বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা এখানে আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে এসেছি, যাতে আমরা উভয় দেশের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সম্পর্কের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।"
২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতজুড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ইক্যুইটি ফান্ডিং রাউন্ডে ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে (অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) ভারতে ২ লাখ ৭২ হাজার রাউন্ডে ১৭.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। সুতরাং, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতের কোম্পানিগুলোতে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ ৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
আইপিএফ বিজনেস অ্যান্ড প্রফেশনাল কাউন্সিলের সহ-আহ্বায়ক এবং স্টকিফাই-এর প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ ঝুনঝুনওয়ালা বলেন, "ভারতীয় ব্যবসায়ী, ব্যবসায়িক নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্স দ্বারা চালিত সংস্থাগুলোতে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে।" তিনি বলেন, "বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সম্পদই বৃদ্ধি করতে পারবেন না, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।" সেইসঙ্গে স্টার্ট-আপগুলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও বিশ্বব্যাপী ইউনিকর্ন হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র : খালিজ টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন