ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
কলাপাড়ায়

যোগাযোগ উন্নয়নে অপ্রশস্ত কালভার্ট, বন্ধ খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ


যোগাযোগ উন্নয়নে অপ্রশস্ত কালভার্ট, বন্ধ খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ

বাদুরতলীর খালটি প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ। আর এর প্রস্থ ভেদে ২০০ থেকে ৪০০ ফুট। কিন্তু স্লুইস সংযুক্ত এই খালটিতে বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ দিয়ে ১৫-২৫/৩০ ফুট প্রস্থ কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়েছে। ক্রমশ পলির আস্তরণে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এর সঙ্গে প্রতিটি পাড়ে খাল দখল করে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িঘর থেকে পুকুর পর্যন্ত এই দখল চলে এসেছে। সরকারি অর্থায়নে এইভাবে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করায়, খালটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই খালের পানি টিয়াখালী ইউনিয়নের একাংশসহ পৌরসভার শত শত পরিবার কৃষিকাজসহ নিত্যদিনের কাজে ব্যবহার করছেন। একই অবস্থা চিংগুরিয়া খালটিরও। প্রায় ৪০-৫০ ফুট প্রস্থ খালটিতে মূল সড়ক নির্মাণ করতে মাত্র ৪-৫ ফুট প্রস্থ একটি কালভার্ট বানানো হয়েছে। চাকামইয়া নিশানবাড়িয়া থেকে দিত্তার দিকে বহমান অন্তত একশ ফুট প্রস্থ খালে মাত্র ২০ ফুট প্রস্থ একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এইভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শত শত খালের পানির প্রবাহ আটকে যোগাযোগের জন্য অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের নামে অপ্রশস্ত কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কোথাও কোথাও বাঁধ দিয়ে পানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব স্লুইস সংযুক্ত ড্রেনেজ খালগুলোর জন্য যেহেতু অপ্রশস্ত কালভার্ট গড়া হয়েছে, তাই শত শত খালের পানির প্রবাহ আটকে ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে খালগুলো বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এসব খালকে আবার আশির দশকে স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে চাষযোগ্য কৃষি জমি বলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। অনেক অভিযোগ রয়ছে এরকম অসংখ্য। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ও ভূমি অফিসের কিছু কর্মচারী এবং তাদের দালালদের যোগসাজশে খালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পড়ছেন। আর শুকনো মৌসুমে রবিশস্যসহ সবজি চাষের জন্য স্বাদু পানি পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং বর্তমান এই সংকট অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করা সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত। দশটি কালভার্ট না করে যদি খালের প্রস্থ সমান একটি গার্ডার ব্রিজ তৈরি করা হতো, তাহলে এই স্থায়ী সমস্যা হতো না। খাল না থাকলে পানি থাকবে না। পানি না থাকলে কৃষি উৎপাদন থাকবে না। আর পরিবেশের বিপর্যয়ও ঘটবে। পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে খালের উপরে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পরিকল্পনায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কোন ধরনের পরামর্শ করা হয় না। তাঁদের মতামত নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক ধ্যান-ধারণায় খালে বাঁধ ও অপ্রশস্ত কালভার্ট তৈরি করে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। এক পশলা বৃষ্টি হলেই গ্রাম শহর সর্বত্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এজন্য এখন থেকে খালের প্রস্থ ঠিক রেখে কালভার্ট কিংবা ব্রিজ তৈরি করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, পানির প্রবাহ আটকে ছোট ছোট কালভার্ট ভেঙে পানির প্রবাহ সচল করার পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কলাপাড়া প্রতিনিধি মুহাম্মদ আল ইমরান বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তারা সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো উন্নয়ন করতে গিয়ে পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করেছেন। এতে সরকারি দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তাই সবক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।’ কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মো: আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, খাল দখল করে দেওয়া অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি জানান, পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় খাল খনন কিংবা কোনও প্রকল্প গ্রহণ করা হলে কৃষকদের পরামর্শ নিয়েই করা হবে। এবং অপ্রশস্ত কালভার্ট প্রশস্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে খাস জমিতে ১৮ দোকান, ইজারা না হওয়ায় বন্ধ রাজস্ব আদায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মস্থলে প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও পেলেন পদোন্নতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৩ এম


কর্মস্থলে প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও পেলেন পদোন্নতি

ভোলার লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাধে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ বিষয়ক প্রতিক্রিয়া পেয়ে তিনি চরম বিতর্কের মুখে পড়েন।

এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিদ্যালয়ের ২১৫টি দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলো ২০১২ সালে বরাদ্দ দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব, তখন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বরাদ্দের নামে প্রতিটি দোকান থেকে ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। দোকানগুলোর বরাদ্দের চুক্তিতে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। কেবল এই দোকান বরাদ্দ দিয়েই ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন এবং বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল তার। গঠিত তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বের একাধিক অনিয়মের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষক এলপিআর-এ চলে যান। তদন্ত কমিটি সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না করতে এবং তার বেতন-ভাতা স্থগিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

তবে তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে গত ১৭ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এই আদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি এবং এরপর থেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন আবু তৈয়ব।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবু তৈয়বের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে আবু তৈয়ব এখনও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, যার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকে কিভাবে আবারো পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়? এখন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তিনি দুর্নীতি করেও যেহেতু পদোন্নতি পেয়েছেন, তাহলে তিনি এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তার এই দায়িত্বে থাকা অবস্থায় লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি নিজেদের গৌরব হারাবে এবং শিক্ষার পরিবেশ ও মান ক্ষুণ্ণ হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আবু তৈয়ব জানান, তদন্ত কমিটি আমার কাছে কোনো বিষয় জানতে ডাকেননি। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তখন আমি কোনও আয়ণ-ব্যয়ণ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলাম না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর উল্লেখিত তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী মন্তব্য করেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়। শাস্তি আরোপও করতে পারে মন্ত্রণালয়। এর কারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার কার্যক্রম চলমান থাকবে। অফিসিয়ালভাবে অপরাধের ফাইনাল সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সঠিক। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগনামা গঠিত হবে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমপর্ণ করার সুযোগ দেওয়া হবে। যদি তখন তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যদি তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বেতন-ভাতা ভোগ করেন, তাহলে তাকে তা ফেরত দিতে বাধ্য হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এমপি বাচ্চু মোল্লার উদ্যোগে

দৌলতপুরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ব্রিজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৬ এম


দৌলতপুরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ব্রিজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন

দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়ার, তারাগুনিয়া, হিসনাপাড়া ও চক দিয়াড়ে পানি প্রবাহের জন্য তিনটি ব্রীজ নির্মাণের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার উদ্যোগে পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার দুপুরে প্রকল্প পরিচালক বিয়া তোর, কুষ্টিয়ার দ্বিতীয় রিভাইসড মোঃ কামরুজ্জামান, বৃহত্তর কুষ্টিয়ার অফিসার ফোরামের সভাপতি সাবেক সচিব মোঃ খবিরুল ইসলাম, এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আসাদুল্লাহ বাচ্চু পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলজিইডির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ছিলেন। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আসাদুল্লাহ বাচ্চু জানান, ইতিপূর্বে এসব ব্রীজের ব্যাপারে ডিজিটাল সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ভাগজোত ও শুকার ঘাট ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এবং সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। দৌলতপুরের উন্নয়নে তাঁর প্রচেষ্টা ও চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশাশুনিতে নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল পরিদর্শনে ইউএনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১১ এম


আশাশুনিতে নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল পরিদর্শনে ইউএনও

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে ভয়াবহ ফাটল ও দীর্ঘ ভাঙ্গনের ফলে বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধ চরম হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে পানির চাপে বাঁধ ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শন করেছেন।

নদীর নওয়াপাড়া অংশে দীর্ঘকাল ধরে ভাঙ্গন চলছিল। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিধ্বস্থ হয়েছে। ফলে অনেক জমি অপর পাড়ে চলে গেছে। নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান সম্পূর্ণ না নিলেও কিছু অংশ দিয়ে খনন কাজ চলছিল। বর্ষাকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে এই খননকাজে আড়াআড়ি মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেওয়া হয়। তবে নদী খননের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে, ভাঙ্গনকূল নওয়াপাড়ার অংশের বাঁধটা ছুটানো হয়। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে নওয়াপাড়ার পাড়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। খননকাজের সময়ে অপর পাড়ে যেনতেনভাবে কাজ শুরু হলেও শেষ করা হয়নি। যার ফলে নওয়াপাড়ার অংশ বর্তমানে নদীতে পরিণত হয়েছে। অপর পাড়ের জমি ভরাট থাকার কারণে নদীর স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়ার বাঁধের ওপর আছড়ে পড়ায় তীর ভাঙ্গা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ২/৩ শত হাত ভেড়ী বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে গিয়ে মূল বাঁধকে স্পর্শ করেছে। এর সাথে প্রায় ১০০ হাত এলাকায় মূল বাঁধের বড় অংশে ভয়াবহ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এই ফাটল বড় হচ্ছে। দ্রুত রক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ, জজ কোর্টের এপিপি, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাঁধের অবস্থা মোটেও ভাল নয়। ফাটল বড় হতে হতে মূল বাঁধের মাটি ধ্বস নিয়েছে। যদি এই ধ্বস নদীতে পড়ে, তাহলে বাঁধটি ছুটে যাবে। বাঁধ রক্ষা না করা গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর এবং ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি এবং মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর এসও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং বাঁধের ভাঙ্গন ঘটে যাওয়া অবস্থাটি ভিডিও কলের মাধ্যমে বিশদভাবে অবহিত করেন। বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে এসও জানান। ইউএনও ডিসি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং পাউবো কর্মকর্তাদেরকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। ইউএনও এবং পাউবোর এসও পরে বুধহাটা বাজারে খেয়াঘাটের কাছে ভাঙ্গনস্থান দেখতে যান। ভাঙ্গন রোধে ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে কর্মকর্তাদ্বয় স্থানীয় জনতাকে আশ্বস্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ ও জামায়াত নেতা এড. শহিদুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২০ এম


দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় নেতৃত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনিই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। আগামী সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন এবং বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর যখন তিনি মঞ্চে উঠলেন তখন উপস্থিত নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন ও সমর্থন জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি যে প্রথম বক্তব্যটি দেন, সেখানে বার্নহ্যাম বলেন, 'আমার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে'। তিনি জানান, লেবার পার্টিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ও দেশের উন্নয়নে তিনি প্রস্তুত আছেন।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে বার্নহ্যাম বললেন, এটি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দলের অতীতের সীমাবদ্ধতার বিষয়েও তিনি স্বীকারোক্তি দেন।

বার্নহ্যাম বলেন, আমি সব সময় সব সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিতে পারিনি। যেখানে যেখানে ঘাটতি ছিল, তার জন্য আমি দুঃখিত। তবে প্রতিটি দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং কী করতে চাই। আমার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। আমি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি এবং বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে সফলতা অর্জন করতে পারব।

তিনি আরো বলেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি লেবার পার্টিতে নতুন করে আশার সঞ্চার করার অঙ্গীকারও করেন।

পাঁচটি প্রধান অঙ্গীকার তুলে ধরলেন বার্নহ্যাম।

বার্নহ্যাম বলেন, ঐক্যবদ্ধ লেবার পার্টি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি লেবার পার্টিকে দুর্বল করে ফেলেছে। তাই তিনি ঐক্যবদ্ধ দল গঠনকে তাঁর প্রথম লক্ষ্য হিসেবে বাছাই করছেন।

নতুন ধরনের রাজনীতি নিয়ে বার্নহ্যামের বক্তব্য ছিল যে, ব্রিটিশ জনগণ রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফিরে পেতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজন রয়েছে।

স্বতন্ত্র নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বার্নহ্যাম জানান, অন্যান্য দলের সাথে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও লেবার পার্টি তাদের নিজস্ব আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি করতে সংকল্পবদ্ধ।

তিনি বলেন, পুরো যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন। কেবল ইংল্যান্ড নয়, তিনি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ পুরো যুক্তরাজ্যের মানুষের নেতা হতে চান। জাতীয় ঐক্য গঠনে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সম্পর্কে বার্নহ্যাম বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে অধিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বার্নহ্যামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি নতুন সরকারি আবাসন নির্মাণ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন। তবে তার মন্ত্রিসভা বা শীর্ষ দলীয় অবস্থানগুলোতে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%