০৩:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পরও, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনা এখনও এগোচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। আলোচনাগুলোতে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের একটি প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, তেহরান যদি দ্রুত কোনো শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আরও হামলা চালানো হবে।
আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে যে, উভয় দেশের মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পরও ইসলামাবাদ যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আশাবাদী থাকা কঠিন। তবে আমরা আশা হারাইনি এবং এখনও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত আছি।’
তিনি আরও জানান, ‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে এখনই শেষ বলে ধরে নেয়া উচিত নয়।’ আন্দ্রাবি বলেন, ‘সাম্প্রতিক উত্তেজনায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি, সব ধরনের বিরোধপূর্ণ ইস্যুর সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপই হওয়া উচিত প্রধান পথ।’
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকবি তেহরান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে, তিনি ইরানের নেতৃত্বের কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তা ও চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে যে, সর্বশেষ মার্কিন হামলা দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতিকে কার্যত অর্থহীন করে দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ও অপরাধমূলক হামলা শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়, বরং এটি যুদ্ধবিরতিকে কার্যত অর্থহীন করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যে দায়ভার সেটি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন