এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৪:৩২ পি.এম
বকেয়া ভাতা পরিশোধ, মাসিক ভাতা বৃদ্ধি এবং যৌক্তিক পারিশ্রমিকের দাবিতে ফরিদপুরে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কেন্দ্রের টেকনিশিয়ানরা।
বুধবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার উপ-পরিচালকের কার্যালয়সংলগ্ন কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আখতার হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা এআই টেকনিশিয়ানদের সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তীসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার টেকনিশিয়ানরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকার আগে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা ভাতা দিলেও গত ১৬ মাস ধরে সেই ভাতা বন্ধ রয়েছে। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে ১৬ মাসের বকেয়া ভাতা পরিশোধ, মাসিক ভাতা বৃদ্ধি এবং যৌক্তিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সালাম, একজন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড। তবে, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, আব্দুস সালামের একটি নীরব অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরের সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে, সেই দৃশ্যকে নীরবে অবলোকন করেছেন প্রধানমন্ত্রীও। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার পাঠানো হয়েছে আব্দুস সালামের জন্য।
বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন, রাজধানীর রমনা এলাকায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার তার হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে, তিনি আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে তথ্য নেন এবং তার পরিবারের খোঁজ-খবরও নেন।
আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। তিনি গত আট মাস ধরে অর্থাভাবে রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনের ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করে চলেছেন। এর আগে তিনি এক পেশায় ছিলেন একজন গাড়িচালক। কিন্তু স্ট্রোকের কারণে তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। এরপর থেকেই একটি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ নিতে বাধ্য হন। অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন তার সচিবালয়ের অফিসে যাওয়ার সময়, প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ একসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে প্রধানমন্ত্রী তার প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেবার জন্য উপহারসহ পাঠান।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আব্দুস সালাম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে এবং প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। যখন তিনি এই পথ দিয়ে যান, আমি সব সময় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভিতর থেকে হেসে সালামের উত্তর দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!’
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপর নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাপল হেরে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) ইইউর লুক্সেমবার্গভিত্তিক জেনারেল কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেছে। একই দিন বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। আদালত জানিয়েছে, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেমকে ইইউর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) অনুযায়ী ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ, আইনের নিয়মাবলী মানতে হবে অ্যাপলকে। ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টটি ২০২৩ সালের মে মাসে কার্যকর হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব কমিয়ে আনা। পাশাপাশি এটি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে সমান সুযোগ তৈরি করে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরো বেশি বিকল্প প্রদান করে। এই আইন ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাপল, মেটা ও বাইটড্যান্স এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়। ২০২৪ সালে অ্যাপল আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি এবং অ্যাপল ওয়াচের অ্যাপ স্টোরগুলোকে একসঙ্গে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করা ভুল। তবে আদালত ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখেন। আদালতের মতে, সব অ্যাপ স্টোরের উদ্দেশ্য একই। এগুলো অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করে এবং সফটওয়্যার বিতরণে সহায়তা করে। অ্যাপল তাদের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এই মর্যাদার কারণে, অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার সাথে আরও সহজে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া, অ্যাপল আইমেসেজ (iMessage) নিয়েও আপত্তি জানায়। কিন্তু আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে অ্যাপলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বর্তমানে আইমেসেজের ওপর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের বাধ্যবাধকতাগুলো কার্যকর হয়নি। রায়ের পর এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, তাদের মতে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই আইন তাদের দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আইনি আপিল করার সুযোগ এখনও রয়েছে অ্যাপলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া অঞ্চলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মক্তবের উপর পাহাড় ধসের ফলে ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩০ জন শিশু আটকা পড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উখিয়ার ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে গিয়ে পাশে অবস্থিত একটি ‘মক্তবের’ উপর আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিস্তারিত আসছে...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় শিশুর মাও আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ১০টার সময় উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছিল।
মৃত শিশুর নাম আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস)। তিনি জঙ্গল সলিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে। আশরাফুলের মায়ের নাম লামিয়া বেগম।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর বাগানবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. মঈন উদ্দিন একটি পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টিন এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরে বসবাস করছিলেন। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে পাহাড় থেকে নেমে এসে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সেসব আহ্বানে সাড়া না দিয়ে মঈন উদ্দিনের পরিবারসহ অন্য অনেকেই নিজেদের ঘরে অবস্থিত ছিলেন। আগামীতে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়টি বুধবার সকাল ১০টারদিকে হঠাৎ করেই ধসে পড়ে এবং তাদের টিনের ঘরটি ভেঙে যায়।
এ সময় ঘরে থাকা মঈন উদ্দিনের স্ত্রী লামিয়া বেগম আহত হন এবং শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে এক শিশু মরেছে। এ ঘটনায় তার মা আহত হয়েছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি।
ইউএনও আরও বলেন, এর আগে গত মঙ্গলবারও ওই এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারী সবাইকে নিরাপদ স্থানে নেমে আসতে আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কেউই পাহাড় থেকে আমাদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। এর ফলে একটি প্রাণহানি সংঘটিত হয়ে গেছে। মৃত শিশুর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা এবং শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ