প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সালাম, একজন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড। তবে, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, আব্দুস সালামের একটি নীরব অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরের সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে, সেই দৃশ্যকে নীরবে অবলোকন করেছেন প্রধানমন্ত্রীও। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার পাঠানো হয়েছে আব্দুস সালামের জন্য।
বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন, রাজধানীর রমনা এলাকায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার তার হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে, তিনি আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে তথ্য নেন এবং তার পরিবারের খোঁজ-খবরও নেন।
আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। তিনি গত আট মাস ধরে অর্থাভাবে রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনের ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করে চলেছেন। এর আগে তিনি এক পেশায় ছিলেন একজন গাড়িচালক। কিন্তু স্ট্রোকের কারণে তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। এরপর থেকেই একটি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ নিতে বাধ্য হন। অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন তার সচিবালয়ের অফিসে যাওয়ার সময়, প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ একসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে প্রধানমন্ত্রী তার প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেবার জন্য উপহারসহ পাঠান।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আব্দুস সালাম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে এবং প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। যখন তিনি এই পথ দিয়ে যান, আমি সব সময় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভিতর থেকে হেসে সালামের উত্তর দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!’
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন