প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপর নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাপল হেরে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) ইইউর লুক্সেমবার্গভিত্তিক জেনারেল কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেছে। একই দিন বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। আদালত জানিয়েছে, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেমকে ইইউর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) অনুযায়ী ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ, আইনের নিয়মাবলী মানতে হবে অ্যাপলকে। ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টটি ২০২৩ সালের মে মাসে কার্যকর হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব কমিয়ে আনা। পাশাপাশি এটি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে সমান সুযোগ তৈরি করে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরো বেশি বিকল্প প্রদান করে। এই আইন ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাপল, মেটা ও বাইটড্যান্স এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়। ২০২৪ সালে অ্যাপল আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি এবং অ্যাপল ওয়াচের অ্যাপ স্টোরগুলোকে একসঙ্গে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করা ভুল। তবে আদালত ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখেন। আদালতের মতে, সব অ্যাপ স্টোরের উদ্দেশ্য একই। এগুলো অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করে এবং সফটওয়্যার বিতরণে সহায়তা করে। অ্যাপল তাদের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এই মর্যাদার কারণে, অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার সাথে আরও সহজে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া, অ্যাপল আইমেসেজ (iMessage) নিয়েও আপত্তি জানায়। কিন্তু আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে অ্যাপলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বর্তমানে আইমেসেজের ওপর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের বাধ্যবাধকতাগুলো কার্যকর হয়নি। রায়ের পর এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, তাদের মতে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই আইন তাদের দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আইনি আপিল করার সুযোগ এখনও রয়েছে অ্যাপলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন