ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখা হলো


‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখা হলো

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) রয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিনিজ।

আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা

সভায় প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য গঠিত তিন সদস্যের উপকমিটি সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজকে নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই উপকমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে জমা দেবে।

সভা শেষে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে যুগোপযোগী ও ই-পার্লামেন্টে রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের জনগণ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছেন। এটি আমাদের অঙ্গীকার। নাগরিকদের সরাসরি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়তে চাই।

আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন

সংসদের প্রতিদিনের কার্যক্রমে কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কাগজের ব্যবহার কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে নাগরিকরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়া এবং ই-পিটিশন দাখিলের সুযোগ থাকবে। এমনকি গ্রামের মানুষও নিজেদের অভিযোগ সরাসরি সংসদে জানাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম, বাজেট ও আইনের খসড়া ছাপাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমবে। সংসদ ভবনে প্রবেশ ও অবস্থানের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে নিরাপত্তা, আসন ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ই-পার্লামেন্ট প্রকল্পের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। তবে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবারও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে একই নামের একাধিক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে তিনি ‘পুরোপুরি জালিয়াতি’ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনের মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অভিযোগের কথা জানান। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি গত সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলার নির্বাচনি প্রচারশিবির এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে একজন ‘স্পয়লার’ প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল।

এদিকে, রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে এমন আরেক ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগের তদন্তকে জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, একই নামের ওই প্রার্থীকে ব্যালটে রেখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় সুলিভান সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি অপরাধমূলক কাজ।

এছাড়া, রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন আরেক ব্যক্তিকেও নির্বাচনের ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বিতরণ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (তদন্ত) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তাঁরা।

অভিযোগপত্রে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সাবেক উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাসেল সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কৃষি প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা, উন্নত জাতের ফসল উৎপাদন, কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য সরকার বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাবুগঞ্জে এসব প্রকল্পের কয়েকটির বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। আবার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ও কৃষি উপকরণ যথাযথভাবে বিতরণ না করে কাগজপত্রে ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, উপকারভোগীদের তালিকা, প্রদর্শনীর স্থান এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার শামিল।


অভিযোগপত্র ও স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম হলেও যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত না হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কৃষক দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশ, প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত না হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যেতে পারে। তাই শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রকল্পভিত্তিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি চান তাঁরা।


এদিকে, আলোচিত ঘটনার পর বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পারস্পরিক বদলি হয়েছে এবং তিনি দ্রুত উপজেলা ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলির সঙ্গে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র এবং উপকারভোগীদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে নাম আসা রাসেল সিকদার, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।


স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গত ১০ থেকে ১১ বছরের প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের ভাউচার, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, প্রদর্শনী কার্যক্রম, উপকারভোগীদের তালিকা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ যাতে কোনোভাবেই অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকদের বক্তব্য, কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই অর্থের প্রকৃত সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছানোই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। অথচ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বাস্তবায়ন ছাড়াই ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) এবং রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।

রোববার রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) একটি বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ প্রকাশ করে।

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরপিইউজে) সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহার মান্নানের পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমকে দ্বিখণ্ডিত করার অর্থ হলো গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দ্বিখণ্ডিত করার ঘৃণ্য চেষ্টা। যারা এই অপপ্রয়াস চালিয়েছে, তারা কখনোই সফল হয়নি। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রই সবসময় বিজয়ী হয়েছে। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “আমরা মনে করি, এই অর্বাচীনকে থামানো উচিত। তা না হলে পৃষ্ঠপোষকদের পস্তাতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সর্বদা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করে। যদি কারো পছন্দ না হয় বা কেউ অপমানবোধ করেন, তাহলে তিনি প্রতিবাদ করার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের পথ বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে অপদস্ত করা এবং গলা টিপে ধরা শুধুমাত্র সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের প্রধান এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৩৩ ওয়ার্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রামের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


রংপুরে ৩৩ ওয়ার্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রামের উদ্বোধন

রংপুরে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের জন্য এই কার্যক্রমটি বিশেষভাবে উপকারী হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রঘু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রংপুর সিটি করপোরেশন এবং কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আহসান সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উল্লেখ করেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘরে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণত মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু এই কার্যক্রমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা রোগীদের কাছে পৌঁছে যাবেন। রোগীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা নামমাত্র মূল্যে প্রদান করা হবে। একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকায় আলট্রাসনোগ্রামের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না।

তিনি বলেন, রংপুরের মতো পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই দিন কার্যক্রমের আওতায় শতাধিক নারী ও শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%