ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের


বাবুগঞ্জ কৃষি অফিসে ১০-১১ বছর ধরে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি কৃষকদের

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বিতরণ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (তদন্ত) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তাঁরা।

অভিযোগপত্রে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সাবেক উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাসেল সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কৃষি প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা, উন্নত জাতের ফসল উৎপাদন, কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য সরকার বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাবুগঞ্জে এসব প্রকল্পের কয়েকটির বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। আবার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ও কৃষি উপকরণ যথাযথভাবে বিতরণ না করে কাগজপত্রে ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন, উপকারভোগীদের তালিকা, প্রদর্শনীর স্থান এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করার শামিল।


অভিযোগপত্র ও স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম হলেও যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত না হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কৃষক দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশ, প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত না হলে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যেতে পারে। তাই শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং প্রকল্পভিত্তিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি চান তাঁরা।

আরও পড়ুন: সিলেটে প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের বিয়ে, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ হেফাজতে নেয়


এদিকে, আলোচিত ঘটনার পর বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পারস্পরিক বদলি হয়েছে এবং তিনি দ্রুত উপজেলা ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলির সঙ্গে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র এবং উপকারভোগীদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে নাম আসা রাসেল সিকদার, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাসের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।


স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গত ১০ থেকে ১১ বছরের প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, অর্থ ছাড়, ব্যয়ের ভাউচার, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, প্রদর্শনী কার্যক্রম, উপকারভোগীদের তালিকা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ যাতে কোনোভাবেই অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষকদের বক্তব্য, কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই অর্থের প্রকৃত সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছানোই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। অথচ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বাস্তবায়ন ছাড়াই ব্যয়ের হিসাব দেখানোর অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক ও কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বরণে খুলনা মহানগরী বর্ণিল সাজে সজ্জিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


গণমাধ্যম দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) এবং রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব।

রোববার রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) একটি বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ প্রকাশ করে।

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরপিইউজে) সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহার মান্নানের পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমকে দ্বিখণ্ডিত করার অর্থ হলো গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দ্বিখণ্ডিত করার ঘৃণ্য চেষ্টা। যারা এই অপপ্রয়াস চালিয়েছে, তারা কখনোই সফল হয়নি। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রই সবসময় বিজয়ী হয়েছে। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “আমরা মনে করি, এই অর্বাচীনকে থামানো উচিত। তা না হলে পৃষ্ঠপোষকদের পস্তাতে হবে। কারণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সর্বদা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করে। যদি কারো পছন্দ না হয় বা কেউ অপমানবোধ করেন, তাহলে তিনি প্রতিবাদ করার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের পথ বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে অপদস্ত করা এবং গলা টিপে ধরা শুধুমাত্র সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের প্রধান এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৩৩ ওয়ার্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রামের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


রংপুরে ৩৩ ওয়ার্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রামের উদ্বোধন

রংপুরে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের জন্য এই কার্যক্রমটি বিশেষভাবে উপকারী হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রঘু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রংপুর সিটি করপোরেশন এবং কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আহসান সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উল্লেখ করেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘরে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণত মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু এই কার্যক্রমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা রোগীদের কাছে পৌঁছে যাবেন। রোগীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা নামমাত্র মূল্যে প্রদান করা হবে। একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকায় আলট্রাসনোগ্রামের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না।

তিনি বলেন, রংপুরের মতো পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই দিন কার্যক্রমের আওতায় শতাধিক নারী ও শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে পরিচালক নিয়োগে উত্তেজনা, ছাত্রদল উপাচার্যকে মুক্ত করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


জাবিতে পরিচালক নিয়োগে উত্তেজনা, ছাত্রদল উপাচার্যকে মুক্ত করল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।

শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেল তিনটা থেকে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান শুরু করেন। এ সময় তারা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্যে থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান।

ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, "আমাদের দাবি ছিল, আমাদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকই পরিচালক হবেন। এটি স্বাভাবিক দাবি। আমরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আমাদের ইনস্টিটিউট নতুন, সেখানে অগ্রগতি দরকার। এ জন্য ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপযুক্ত মনে করছি। আমরা পড়াশোনা ঠিকমতো চালাতে চাই। আমাদের বিভাগ থেকেই অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।"

এর আগে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন। উপাচার্যকে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।"

তিনি আরও বলেন, "যে বা যারা তালা দিয়েছে এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষকের হাত আছে বা যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, "আমরা যতটুকু জেনেছি, রোববার সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর, যারা সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনামল দীর্ঘায়িত করার জন্য কাজ করেছে, তাদের কিছু অনুসারী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে।"

তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কথা শুনে আমলে নিয়ে বিদায় করে। কিন্তু পরবর্তীতে হামীমের লোকজন ও তার অনুসারীরা এসে সিন্ডিকেট চলাকালীন সেখানে তালা দেয়। পরে বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যকে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন।"

এর আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবি পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবি পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

বরিশাল মহানগরীতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চিহ্নিত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বিএমপি মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে।


বরিশাল নগরীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ, মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধ এবং নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযানকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা প্রতিরোধে কাজ করছে পুলিশ।

বিশেষ করে মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে বরিশাল মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের শনাক্তকরণ, মাদকবিরোধী তৎপরতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কার্যক্রম চলছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক সচেতনতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করাও প্রয়োজন।

বরিশাল মহানগর পুলিশের চলমান এ অভিযান নগরীর নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন নগরবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান যেন সাময়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়।

মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ বরিশাল মহানগরী গড়ে তুলতে বিএমপির এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%