ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড


২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

অতিভারী বৃষ্টিতে রাজধানীবাসী নাকাল হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১৭ বছর পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৯ সালে ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর থেকে এত বেশি বৃষ্টিপাত আর হয়নি।

আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রাজধানীর জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই জমে থাকা পানিতে নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা যায়। নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও গলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে বহু এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অফিসগামী মানুষকে পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় ভ্যানচালকেরা অর্থের বিনিময়ে মানুষ পারাপার করছেন।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কারসহ ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রহমত আলী হবিগঞ্জ থেকে

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কারসহ ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে
র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জের একটি আভিযানিক দল ।

এ সময় দুই মাদক দ্রব্য ব্যবসায়ি পালিয়ে যায়।

রবিবার (১২জুলাই) সকালে শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের অলিপুর সুন্দরবন কুরিয়া সার্ভিস অফিসের সামনে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে উক্ত মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায় রবিবার সকালে উক্ত স্থানে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে
কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে র‍্যাবের আভিযানিক দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ২ জন ব্যক্তি একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার রেখে কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তল্লাশি করে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে নীল রংয়ের পলিথিনের উপর খাকী রংয়ের স্কচ টেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তাৎক্ষনিক উক্ত প্রাইভেটকারের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে অজ্ঞাতনামা পলাতক ব্যক্তিদ্বয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮; এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক জব্দকৃত আলামত হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র‍্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক ইরানেই নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র! চীন-রাশিয়াকে মোকাবেলার শক্তি কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


এক ইরানেই নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র! চীন-রাশিয়াকে মোকাবেলার শক্তি কোথায়?

বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি আজ আর তেহরান, মস্কো কিংবা বেইজিং করছে না; প্রশ্নটি উঠছে খোদ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেই—একটি ইরানকে মোকাবিলা করতেই যদি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সংঘাতে সামরিক চাপ, কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং মধ্যস্থতানির্ভর যুদ্ধবিরতির বাস্তবতায় পড়তে হয়, তবে বিশ্বের অপর দুই বৃহৎ পরমাণু শক্তি চীন ও রাশিয়াকে মোকাবিলা করার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি কোথায়?

দশকের পর দশক ধরে ওয়াশিংটন নিজেকে বিশ্বের একক সুপার পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই শক্তির অজেয়তার ধারণায় বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। যে যুদ্ধকে দ্রুত ও একতরফা ফলাফলের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ছিল, তা উল্টো দীর্ঘায়িত সংঘাতে রূপ নিয়ে মার্কিন কৌশলগত সক্ষমতা ও সহনশীলতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

যুদ্ধের ইতিহাস বলে, একটি পরাশক্তি তখনই দুর্বল দেখাতে শুরু করে, যখন তার প্রতিপক্ষ তাকে সামরিকভাবে পরাজিত না করেও রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়। আজ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে সেই বাস্তবতাই। যদি একটি আঞ্চলিক শক্তিকে ঘিরেই বিশ্বশক্তিকে তার হিসাব-নিকাশ নতুন করে সাজাতে হয়, তবে বহুমেরুকেন্দ্রিক নতুন বিশ্বব্যবস্থায় তার একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি কতটা টেকসই?

চীন আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং দ্রুত সম্প্রসারিত সামরিক শক্তির অধিকারী। রাশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম মালিক এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। সেই দুই শক্তিকে সামনে রেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে—যে যুক্তরাষ্ট্র একটি আঞ্চলিক সংঘাতের অভিঘাত সামলাতেই বিপুল কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পড়ে, সে কীভাবে একই সঙ্গে দুই বৃহৎ পরমাণু শক্তিকে মোকাবিলা করবে?

সামরিক শক্তির প্রকৃত পরীক্ষা যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা সামরিক বাজেটের অঙ্কে হয় না; প্রকৃত পরীক্ষা হয় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ধৈর্য, অর্থনৈতিক সহনশীলতা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংকল্পে। আর সেই পরীক্ষার ফল যদি বিশ্বের কাছে পরাশক্তির অজেয়তার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তবে সেটি শুধু একটি যুদ্ধের সংকেত নয়—এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত।

বিশ্বরাজনীতির এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, ইরানের কঠোর প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘ ৪০ দিনের সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে বাধ্য হন। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়, কারণ পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনা ও হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয় যে, গত ৪৮ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের পাল্টা হামলায় কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা, বিমানঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থাগুলো একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষণী মহলে এমন দাবিও উঠে আসে যে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল থেকে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ তথা সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ ২২ রাফটার ইসরাইল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার মাত্রা ও প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে, তবুও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করা কঠিন—কঠোর নিষেধাজ্ঞায় থাকা একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতই যদি যুক্তরাষ্ট্রকে এত বড় কৌশলগত ও সামরিক চাপের মুখে ফেলে, তবে চীন ও রাশিয়ার মতো দুই বৃহৎ পরমাণু শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক।

বিশ্ব রাজনীতির আকাশে তাই আজ একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—এক ইরানকে ঘিরেই যদি ওয়াশিংটনের কৌশলগত আত্মবিশ্বাসে ফাটল দেখা দেয়, তবে চীন ও রাশিয়ার মতো দুই পরমাণু পরাশক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমেরিকার বহুদিনের ঘোষিত বৈশ্বিক আধিপত্যের দাবির ভিত্তি আসলে কতটা শক্ত?

সুতরাং, আজকের দিনে এই প্রশ্ন মোটেও অমূলক নয়: যে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সর্বাধিক নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটিকে ঘিরে সংঘাতে এত বড় চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়, সেই রাষ্ট্র কীভাবে একই সময়ে বিশ্বের অপর দুই বৃহৎ পরাশক্তি চীন ও রাশিয়াকে মোকাবিলা করার সক্ষমতার দাবি করে? এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আগামী দিনের বিশ্বশক্তির নতুন ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগ করলে ২৫ বছর পূর্ণ না হলেও পেনশন সুবিধা নেই, আপিল বিভাগের রায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


পদত্যাগ করলে ২৫ বছর পূর্ণ না হলেও পেনশন সুবিধা নেই, আপিল বিভাগের রায়

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না, বলে আপিল বিভাগের একটি রায়ে উল্লিখিত হয়েছে। এই রায়টি ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব রায়টি লিখেছেন।

এর পূর্বে হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের জারি করা আপিল মঞ্জুর করার মাধ্যমে গত ১১ মার্চ রায়টি প্রদান করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই।

রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে এই বিধান প্রণীত হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেন এবং সে সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ ছিলেন। ২০১৫ সালে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, পদত্যাগের কারণে সেটা পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পেনশনার মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।

এমন পরিস্থিতিতে বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে মাহবুব মোরশেদ রিট করেন। হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের চিঠিটি আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করেন। সেইসাথে ৯০ দিনের মধ্যে চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা গণনা ও মঞ্জুর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে এবং ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশও বহাল থাকে। ফলস্বরূপ রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রথযাত্রা ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন ডিএমপি কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


রথযাত্রা ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন ডিএমপি কমিশনার

রথযাত্রায় সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায়, ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রথযাত্রা একটি বড় শোভাযাত্রা। জনসমাগম বেশি হওয়ায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। রথযাত্রা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদে উদ্‌যাপনের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে পৃথক সমন্বয় সভা করবেন এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন রথযাত্রার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএমপিতে এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রথযাত্রার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত ভেস্ট পরিধান করতে হবে। সাদা পোশাকে নিরাপত্তা সদস্য ও লাইনিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বৈদ্যুতিক লাইনের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ছোট-বড় সব রথযাত্রার জন্য সমান গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সভায় ১৬ জুলাই রথযাত্রা ও ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপ ও নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। রথযাত্রায় পিকেট পার্টি, টহল পার্টি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট পেট্রোল, রুফটপ পার্টি, হোন্ডা মোবাইল, ডিবি টিম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম, সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ট্রাফিক পুলিশসহ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সভায় অবহিত করা হয়।

রথযাত্রা নির্ধারিত রুটে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া নামাজ ও আজানের সময় লাউড স্পিকার বা মাইক বাজানো থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিতে হবে এবং ব্যাগ-পোটলাসহ রথযাত্রায় অংশগ্রহণ না করতে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এছাড়া, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং রথযাত্রা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ মতামত দেন।

সমন্বয় সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনার ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, সিআইডি, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও রথযাত্রা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%