০২:৩৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য শেষ হওয়া বসন্তকালটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম সময়। একই সঙ্গে দেশজুড়ে খরা পরিস্থিতি এখনো তীব্র আকারে বিদ্যমান।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) এ তথ্য দেয়।
সংস্থাটি জানায়, আলাস্কা ও হাওয়াই বাদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখ-ের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় ১৩২ বছরের রেকর্ডে এবারের বসন্তকাল ছিল তিনটি সবচেয়ে উষ্ণ সময়ের মধ্যে একটি। ২০১২ সালের পর এটিই ছিল সবচেয়ে উষ্ণ বসন্ত।
আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা আরও জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সময়টি ১৯৮৮ সালের পর সবচেয়ে শুষ্ক সময় হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ৩৬ বছরের রেকর্ডে বসন্তে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও জুনের শুরুতে মূল ভূখ-ের অর্ধেকের বেশি অঙ্গরাজ্য খরার পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর রকি পর্বতমালা ও সমতলভূমির কিছু এলাকা। আবহাওয়াবিদরা জানান, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায়ও খরা বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন
তবে নোয়ার খরা পরিস্থিতি সংক্রান্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য ও দক্ষিণ সমতলভূমির কিছু অংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
নোয়া জানায়, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে।
এ গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রয়েছে বিশ্ববাসীর। কারণ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে কিছু স্টেডিয়ামে ছাদ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।
সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘অসহনীয় তাপপ্রবাহ’ বিশ্বকাপের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালও রয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বেশি সৃষ্টি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী
বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছরই ২০১৫ সালের পর ঘটেছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থাও জানিয়েছে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। ২০৩১ সালের আগেই নতুন করে সবচেয়ে উষ্ণ বছরের রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী বছরে আরও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা বাড়বে।
আরও পড়ুন: আবার নতুন সকাল এসেছে-ডেমোক্র্যাটদের জয়ী বলে মন্তব্য মামদানি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন