প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সীমান্ত এলাকায় পুশইনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি দিন-রাত সীমান্তে কাজ করছে, পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারাও একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ গ্রামবাসীকে সচেতন করার কাজও জোরালোভাবে চলছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের স্বার্থে পুশইন ঠেকানোর জন্য স্থানীয় গ্রামবাসী এবং বিজিবি একসাথে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে পুশইন প্রতিরোধ করার পাশাপাশি, তারা যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ এবং মানবপাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষভাবে, রাত গভীর হওয়া সাথে সাথে সীমান্তজুড়ে আতঙ্কও ঘনীভূত হচ্ছে। এই আতঙ্ক এবং আশঙ্কার মোকাবিলার জন্য গেল কদিন ধরে রাতের বেলায় গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে সম্ভাব্য সব পয়েন্টে মাইকিং এবং বিশেষ যৌথ টহল চালাচ্ছে বিজিবি।
নেত্রকোনা ৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা ৯২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার সব পয়েন্টে কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনার ১০টি, ময়মনসিংহের ৩টি এবং সুনামগঞ্জ সীমান্তের ২টিসহ মোট ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) সর্বদা প্রস্তুত এবং সতর্ক অবস্থিতিতে রয়েছে।
বিজয়পুর সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবেদার মো. নুরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে টহল জোরদার করে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এই জাতীয় দুর্যোগ এবং পুশইন ঠেকানোর কাজে স্থানীয় গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণের ফলে এখন পর্যন্ত এই সীমান্তদিকে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইনের ঘটনা কিংবা প্রচেষ্টা ঘটেনি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
৩১ বিজিবি নেত্রকোনার অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) সময় সংবাদকে জানান, 'আমাদের ৯২ কিলোমিটার সীমান্তের সম্ভাব্য সব এলাকায় কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। সবচেয়ে আশার বিষয় হলো, সীমান্ত এলাকার স্থানীয় লোকজন আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা করছেন। প্রতি রাতে টহলে তাঁরা আমাদের সাথে থাকছেন এবং জানাচ্ছেন যে কোনো ধরনের পুশইন হতে দেওয়া হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'পুশইনের পাশাপাশি এই সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান এবং মানবপাচার সংঘটিত হতে না পারে, সেদিকেও বিজিবি কড়া হুঁশিয়ারি এবং কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন