ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রহ্মপুত্রে বাড়ছে পানি ও ভাঙন, পরিদর্শনে ডিসি-কমিশনার


ব্রহ্মপুত্রে বাড়ছে পানি ও ভাঙন, পরিদর্শনে ডিসি-কমিশনার

প্রতিদিনই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়ক। বর্তমানে নদ তীরবর্তী ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর ও ভাটিপাড়া গ্রাম ভাঙনের কবলে রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর। এর ফলে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এমন খবরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন। আজ সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গৌরীপুর উপজেলার খোদাবক্সপুর এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর নামা এলাকা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় ভাঙনকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়, ত্রাণ বিতরণ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস.এম হুমায়ুন কবির সরকার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাঈন মাহমুদ, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন প্রমুখ। পাউবো সূত্র জানায়, গত ৫ দিনে ময়মনসিংহ সদরসহ আশপাশ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বেড়েছে ৬২ সেন্টিমিটার। তবে বিপৎসীমা এখনও ৪ দশমিক ৩৬ মিটার দূরে রয়েছে। নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলছে নদ ভাঙনের তীব্রতা। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ২টি স্পটে ভাঙন দেখা দিয়েছে, পরাণগঞ্জের চরমিকলদী, গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর নামা এলাকায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার অংশে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ শুরুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুরের অংশে এখনও অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাঈন মাহমুদ। তিনি বাসসকে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইন এমপি নদ ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকাটিতে নদ ভাঙন থাকবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বাসসকে বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কিছু ত্রাণসামগ্রী এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুন্দিবুগিও ইবোলার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


বুন্দিবুগিও ইবোলার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বুন্দিবুগিও ভেরিয়েন্টের ইবোলার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি টিকার মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে।

ফেজ-১ পর্যায়ের এই গবেষণায় অক্সফোর্ডে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ৫০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরিচালিত হবে বিডি-ইবোভ নামে। এতে চ্যাডক্স১ বিডিবিভি নামের টিকার নিরাপত্তা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ ও প্যানডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট এই টিকাটি তৈরি করেছে। এতে একই চ্যাডক্স১ ভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়েছিল।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই) পরীক্ষামূলক এই টিকার প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ডোজ উৎপাদন ও মজুত করেছে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে। এর মধ্যে ৪ হাজার ডোজ ফেজ-১ ট্রায়ালের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)-এর ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে উগান্ডাতেও অতিরিক্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে।

গবেষণার প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষক প্রফেসর তেরেসা ল্যাম্ব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুন্দিবুগিও ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাত্র ৫৭ দিনের মধ্যেই টিকাটি মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এই সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

টিকাটি নিরাপদ প্রমাণিত হলে এবং শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হলে, সিইপিআই আরও বড় পরিসরে শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সহায়তা করবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বা পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে আফ্রিকা সিডিসি-এর মহাপরিচালক ড. জ্যঁ কাসেয়া এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই পরীক্ষা চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে না পারলেও, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইবোলা মহামারির জন্য কার্যকর টিকা উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষা: বিরোধী দলের সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৯ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষা: বিরোধী দলের সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বিরোধী দল থেকে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে জাতীয় সংসদে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় মুখপাত্র নাজিবুর রহমান।

তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এদিকে, সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করে বলেন, ‘বিচারের অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সন্তোষজনক নয়। বিএনপি সংবিধানে যে সংশোধনী আনবে তা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করবে না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় বর্তমান সরকারের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয় তবে তাদের পরিণতি ভালো হবে না।’

রাতের মধ্যেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর্দের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেন বিরোধী দলীয় হুইপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার

চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশের সকল কেন্দ্র পরীক্ষার জন্য উপযোগী: মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশের সকল কেন্দ্র পরীক্ষার জন্য উপযোগী: মাহ্দী আমিন

সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বোর্ড বাদে দেশের সব বোর্ডের কেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য উপযোগী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান। মাহ্দী আমিন জানান, ‘দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। এবারের পরীক্ষার সময় বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথেষ্ট ভেবেছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায়, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারি বর্ষণের কারণে কিছু সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি সরকারের লক্ষ্য বলেই জানাতে চাই, তাছাড়া তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের কাজ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।’

এই কারণে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজ সকালে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সব বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে, কেউ যদি যেন কোনো ভোগান্তিতে পড়ে, তা কাম্য নয় এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও জানান, ‘চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। সামনের দিনগুলিতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুসারে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যেকোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন। যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়া গেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।’

তিনি জানান, ‘গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থীদের পারাপারের ছবি তুলেছিল বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে একটি কেন্দ্রে ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। জামিল ছবি মেলে লং টার্ম এলাকায় পরবর্তী পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য আলোচিত উদ্যোগের মাধ্যমেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। কেবল একটি কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

সারা দেশে ২৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, ‘তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও অবশ্যই পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উসকানি প্রদান গণ-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয়ই সজাগ।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আমরা ধারণ করি, সেখানে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। মতের পার্থক্যও থাকবে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। কারণ দেশটা আমাদের সকলের এবং এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সবার। এই শিক্ষার্থীরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহযোগিতা করা ও প্রেরণা জোগানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব।’

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রবল দায়বদ্ধতা ও অবারিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ব্রত নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিপুলসংখ্যক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট হয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য। কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এটি যেমন সত্য; দেশের বিরাট অংশের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতা বা দুর্ভোগে পড়েনি, এটিও সত্য।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। সুতরাং, সকল দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, দেশের সব পরীক্ষার্থীকে প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা। এই পরীক্ষা শুধু একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সব সময় সম্মিলিত দায়িত্ব এই পরিবেশ অটুট রাখা, যাতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং নিজেদের সাফল্যে নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ইনশাআল্লাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে

আগামীকাল রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল যেখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। এটি হবে সর্বশেষ ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হওয়ার পর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর তারা আবারও বিশ্ব মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি আসছে।

এবারের বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ষষ্ঠবারের মত দেখা হবে। এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুবার জয়লাভ করেছে।

তবে, নক আউট পর্বে আর্জেন্টিনা এগিয়ে রয়েছে। তারা তিনবার মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে দুবার জয়ী হয়েছে।

১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে।

এর চার বছর পর, ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। তবে, সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সেখানে তারা পর্তুগালকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়।

ফাইনালে উঠেই ইংল্যান্ড ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। তারা পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলে।

১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এটি তাদের তৃতীয় দেখা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচটি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত, কারণ ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা হেড করতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান। সেই গোলটি আজও ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল হিসেবে পরিচিত।

ম্যারাডোনা পরবর্তীতে বলেছিলেন ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার সেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

একই গোলের চার মিনিট পরে আবারও ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠান ম্যারাডোনা। ফলে ৫৫ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান। তবে, শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে যায় ম্যারাডোনার দল।

সেমিফাইনালে তারা বেলজিয়ামকে ২-০ গলে পরাজিত করে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আর্জেন্টিনা।

বারো বছর পর, ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে আবারও সাক্ষাৎ ঘটে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গলে পরাজিত করে আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল।

২০০২ সালে, পঞ্চবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ৪৪ মিনিটে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন।

ঐ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ আটে ব্রাজিলের কাছে তারা ২-১ গোলে পরাজিত হয়।

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পরিসংখ্যান :

১৯৬২ সাল : ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

১৯৬৬ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৮৬ সাল : আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)

১৯৯৮ সাল : আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (শেষ ষোলো, টাইব্রেকারে ৪-৩ গলে জয়ী আর্জেন্টিনা)

২০০২ সাল : ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা (গ্রুপ পর্ব)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%