১০:২৭ পি.এম
প্রতিদিনই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়ক। বর্তমানে নদ তীরবর্তী ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর ও ভাটিপাড়া গ্রাম ভাঙনের কবলে রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর। এর ফলে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এমন খবরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন। আজ সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গৌরীপুর উপজেলার খোদাবক্সপুর এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর নামা এলাকা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় ভাঙনকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়, ত্রাণ বিতরণ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস.এম হুমায়ুন কবির সরকার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাঈন মাহমুদ, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন প্রমুখ। পাউবো সূত্র জানায়, গত ৫ দিনে ময়মনসিংহ সদরসহ আশপাশ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বেড়েছে ৬২ সেন্টিমিটার। তবে বিপৎসীমা এখনও ৪ দশমিক ৩৬ মিটার দূরে রয়েছে। নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলছে নদ ভাঙনের তীব্রতা। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ২টি স্পটে ভাঙন দেখা দিয়েছে, পরাণগঞ্জের চরমিকলদী, গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর নামা এলাকায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার অংশে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ শুরুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুরের অংশে এখনও অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাঈন মাহমুদ। তিনি বাসসকে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসাইন এমপি নদ ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকাটিতে নদ ভাঙন থাকবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বাসসকে বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কিছু ত্রাণসামগ্রী এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন