ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খামেনির শেষকৃত্য ও বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের নজির


খামেনির শেষকৃত্য ও বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের নজির

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হওয়া শোকার্ত পুণ্যার্থীদের সেবায় দিনরাত কাজ করছেন হাজারো স্বেচ্ছাসেবী। যুদ্ধ ও প্রিয় নেতা হারানোর ক্ষত ভুলে ইরানিরা প্রদর্শন করছেন অনন্য জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের নজির। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, সেনাসদস্য ও ধর্মীয় শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এই বিশাল সংখ্যক শোকার্ত মানুষের সেবায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন শত শত স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য সংস্থা। তেহরানের বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া পুণ্যার্থীদের জন্য দিনরাত চলছে খাবার ও পানীয় তৈরির কাজ। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে হাজার হাজার মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুত করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা, যার সম্পূর্ণ খরচ আসছে সাধারণ মানুষের অনুদান থেকে। মনের ভেতর গভীর ক্ষত ও শোক চেপে রেখে আগত অতিথিদের দেখভালে নিরলস পরিশ্রম করছেন এই যুবকেরা। এর আগে, শোকার্ত মানুষের ক্লান্তি দূর করতে তেহরানের রাস্তায় বসে অনন্য এক সেবার পসরা। গভীর রাত পর্যন্ত মোড়ে মোড়ে স্টল বসিয়ে পুণ্যার্থীদের হাতে গরম চা ও বিস্কুট তুলে দেন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য সংস্থার কর্মীরা। ইমাম হোসেন চ্যারিটির মতো নানা সামাজিক সংগঠন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই চায়ের স্টলগুলো পরিচালনা করছে। চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও দাতব্য কর্মীরা মেতে ওঠেন নানা আলাপে, যেখানে উঠে আসছে সদ্য সমাপ্ত যুদ্ধের কঠিন দিনগুলোর অভিজ্ঞতা। রমজান মাসের পবিত্র দিনগুলোতে যুদ্ধের তীব্রতার কারণে কীভাবে তাদের ফ্রি ইফতার কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাস না পেরোতেই লেবাননে ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাস না পেরোতেই লেবাননে ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলা

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাসও পেরোতে না পেরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

নাবাতিয়েহ এলাকায় ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। বৈরুত বলছে, অব্যাহত ইসরাইলি হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্তজুড়ে ধ্বংসস্তূপ আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে পারছেন না।

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলার মাধ্যমে কয়েকজনকে হত্যা করেছে ইসরাইল।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তার মা, এক গৃহকর্মী ও সিরিয়ার এক নাগরিক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, তারা যখন নিজেদের বাড়ির পরিস্থিতি দেখতে যান, তখনই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলের কাছে তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে এ হামলা হয়েছে।

শুধু নাবাতিয়েহ নয়, একই দিনে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে বিনতে জুবেইল জেলার কৌনিন ও বারাআশিত এলাকাতেও। বারাআশিতে বেসামরিক নিহতদের জানাজার পরপরই নতুন করে হামলা চালানো হয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা অভিযোগ তুলেছে, কৌনিনে আবাসিক বাড়িঘর লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মানুষ যাতে ফিরতে না পারে, সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন্স বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের দখল ও অব্যাহত হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার, লেবাননের সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো পক্ষই পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। তাই সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।

চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননে সরকারি জরিপে দেখা গেছে, ৯০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষ এখনো নিজ এলাকায় ফিরতে পারেননি। যারা ফিরেছেন, তারাও প্রতিদিন বিস্ফোরণের শব্দ আর নতুন হামলার আশঙ্কায় বসবাস করছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ সংঘাতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১৯ জনে, আর আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২০৩ জনেরও বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


বরিশালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বরিশালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার একাধিক আসামির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের দাবি, পুলিশ আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, তাফস পাড়ৈ ও গাঁজা রফিক। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির মনোভাব তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাইনুল ফকিরের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই-আগস্টে বরিশাল নগরীর হাতেম আলী চৌমাথা ও নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাফস পাড়ৈকে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা ‘ইটালি শহীদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়েছে। গাঁজা রফিক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের সহযোগী এবং বরিশালের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এসব আসামি ২০০২ সালে র‍্যাবের ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নাক কাটা রুবেলের সহযোগী।

মামলার বাদী ও তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামের অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠসংলগ্ন সড়কে নাক কাটা রুবেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

বাদীর ভাষ্য, সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তার সন্তানকে কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার প্রশ্ন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা বা বিলম্ব কেন? এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা ও বন্দর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার এএসআই, বদিউজ্জামান বলেন, "আমরা আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।" আসামিরা শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে— এমন পাল্টা প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে অত্যন্ত দায়সারাভাবে বলেন, আপনারা ধরে আমাদেরকে খবর দিন।

অন্যদিকে, বন্দর থানার এএসআই, ফারুক জানান, তিনি প্রতিদিন আসামি গ্রেফতার করার জন্য কর্ণকাঠি এলাকায় সোর্স নিয়োগ করে রেখেছেন, কিন্তু আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পরও পুলিশ গ্রেফতার করছে না— গণমাধ্যম থেকে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুললে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এটা আপনাদের ভুল ধারণা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরীকে গণধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


কিশোরীকে গণধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতার অদূরে বারুইপুরে একটি কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা এবং বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠছে। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া, আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক চাপ শুরু হয়েছে।

কলকাতার উপকণ্ঠে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করার পর তাকে বস্তাবন্দি করে জলাশয়ে ফেলে দেয়ার ঘটনায় সামাজিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ জুলাই মধ্যরাতে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে স্থানীয়রা মরদেহটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিখোঁজের অভিযোগ জানানোর পরে পুলিশ প্রথমে যথাযথ তৎপরতা দেখায়নি।

এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে। একই সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আশঙ্কায় রোববার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে।

পরে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের সরে যাওয়ার পর মমতা ও তার সমর্থকরা সবুজ রঙের মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বাম দলগুলোর পক্ষ থেকেও ঘটনার প্রতিবাদে আলাদা কর্মসূচি পালন করা হয়। পানিহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। একই সময়ে বাম নেতাঁরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিরোধী শিবিরের দাবি যে, এই ঘটনা নারী ও শিশু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকারি সম্পদ ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ৯ মে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সরকারের ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনা রাজ্যের নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অগ্রগতি তুলে ধরবে ন্যাটো মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অগ্রগতি তুলে ধরবে ন্যাটো মিত্ররা

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমিত করতে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো মঙ্গলবার, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি তুলে ধরবে।

তুরস্কের বিশাল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন, যখন ট্রাম্পের চাপের মুখে এক বছর আগে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা সম্পর্কিত ব্যয়কে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিল।

আঙ্কারা থেকে এএফপি জানিয়েছে, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার হুমকির মুখে নিজেদের মহাদেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি গ্রহণ করে সামরিক বাজেট বাড়াচ্ছে যা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।

যখন শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন আঙ্কারায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'মাত্র এক বছরের মধ্যেই আমরা যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি।'

ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে ন্যাটো একাধিক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান ও উদ্যোগ তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, 'এখনই নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সময়।'

মূল শীর্ষ সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করা হবে, যাতে ট্রাম্পকে দেখানো যায় যে সদস্য দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তারা বাস্তব পদক্ষেপও নিয়েছে।

এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কানাডা সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, দেশটির নতুন সাবমেরিন বহর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে জার্মানির থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস। বহু বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পকে ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে অটোয়ার পক্ষ থেকে।

তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে থেকেই মিত্রদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তার অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যথেষ্ট দ্রুত নিচ্ছে না।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, 'সম্পর্ক যদি পারস্পরিক না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একতরফাভাবে এ পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া হাস্যকর। তারা আমাদের পাশে ছিল না!'

ইউরোপীয় নেতারা অন্তত এমন কোনো প্রকাশ্য বিরোধ এড়াতে চান, যা ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ট্রাম্প এর আগেও বহুবার মিত্রদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কূটনীতিকদের আশা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্ক এবং ন্যাটো মহাসচিব রুটের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ট্রাম্পকে সংযত রাখতে সহায়ক হবে।

যদিও ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। ফলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরান প্রশ্নে নিজেদের সদিচ্ছা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য একটি নৌ-মিশনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি দেশ তাদের যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করেছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত অভিযান শুরু করা যায়।

তবে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাজুক সমঝোতার অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পরই নৌবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

যদিও ইউরোপীয় নেতারা আশা করছেন, ট্রাম্প সম্মেলনে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেবেন, তবুও তারা এখন এ বাস্তবতা মেনে নিতে শুরু করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা কমিয়ে আনছে।

ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষার নেতৃত্ব এখন মিত্র দেশগুলোকেই নিতে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর কমান্ডারদের জন্য বরাদ্দ সামরিক সক্ষমতার পরিমাণও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে নিজেদের অধিক দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে চায়, অন্যদিকে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক শক্তিকে যতটা সম্ভব ন্যাটোর সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখারও চেষ্টা করছে।

রুটে বলেন, 'এসবই মানসিকতার প্রকৃত পরিবর্তনের প্রমাণ। এটি ন্যাটো ৩.০—একটি শক্তিশালী ন্যাটোর মধ্যে আরও শক্তিশালী ইউরোপ।'

নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো এখন প্রায় পুরোপুরিভাবে ইউক্রেনকে সহায়তার দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার ন্যাটো নেতাদের নৈশভোজে অংশ নেবেন। সেখানে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে তিনি ২০২৬ ও ২০২৭ উভয় বছরেই ইউক্রেনকে বছরে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পাবেন।

আঙ্কারা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে জেলেনস্কির। সম্প্রতি রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় প্রায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ন্যাটোকে 'সাহসী সিদ্ধান্ত' নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্মেলনের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে কথা হয়েছে। জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনছে এবং মস্কোকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%