প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার একাধিক আসামির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের দাবি, পুলিশ আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, তাফস পাড়ৈ ও গাঁজা রফিক। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির মনোভাব তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাইনুল ফকিরের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই-আগস্টে বরিশাল নগরীর হাতেম আলী চৌমাথা ও নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাফস পাড়ৈকে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা ‘ইটালি শহীদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়েছে। গাঁজা রফিক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের সহযোগী এবং বরিশালের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এসব আসামি ২০০২ সালে র্যাবের ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নাক কাটা রুবেলের সহযোগী।
মামলার বাদী ও তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামের অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠসংলগ্ন সড়কে নাক কাটা রুবেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
বাদীর ভাষ্য, সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তার সন্তানকে কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার প্রশ্ন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা বা বিলম্ব কেন? এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা ও বন্দর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার এএসআই, বদিউজ্জামান বলেন, "আমরা আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।" আসামিরা শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে— এমন পাল্টা প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে অত্যন্ত দায়সারাভাবে বলেন, আপনারা ধরে আমাদেরকে খবর দিন।
অন্যদিকে, বন্দর থানার এএসআই, ফারুক জানান, তিনি প্রতিদিন আসামি গ্রেফতার করার জন্য কর্ণকাঠি এলাকায় সোর্স নিয়োগ করে রেখেছেন, কিন্তু আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পরও পুলিশ গ্রেফতার করছে না— গণমাধ্যম থেকে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুললে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এটা আপনাদের ভুল ধারণা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন