মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৪:৩৮ পি.এম
তারাব পৌরসভার দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী (PRAP)- এর আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে রিক্সা ভ্যান ও ছাগল বিতরণের অনুষ্ঠান ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব হাবিবুর রশিদ, যিনি এম.পি এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ রাজিব আহসান, এম.পি এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে, এবং জনাব এস এম জিলানী, যিনি গোপালগঞ্জ-৩ এর মাননীয় সংসদ সদস্য।
সভাপতিত্ব করেন জনাব এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, যিনি ঢাকা-১৮ এর মাননীয় সংসদ সদস্য।
উপস্থিত ছিলেন জনাব মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-১ এর মাননীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, জনাব মোঃ রায়হান কবির, জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ, মাননীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-১ এবং পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের গতি মুগ্ধকর ধরে নিচ্ছে, যা ১২ বছরে বেড়েছে ৫৫ গুন।
এক সময়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ভারত শীর্ষে ছিল। তবে এখনো তাদের অবস্থান ঠিক ওপরের দিকে রয়েছে।
এখন ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বৈশ্বিক বাজারে খেলা ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। চমক জাগানো সব তথ্য এই স্থানান্তর নিশ্চিত করছে, ভারত সঠিক পথে এগোচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের অবস্থান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ১৯তম। ভারত এখন বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।
বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে উদীয়মান রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরের এই গল্পটি সত্যিই চমকপ্রদ। এই সাফল্য পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ উদ্যোগের ফল।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি; যা তাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।
এতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় তিন গুন বেড়েছে। এক দশক আগে, মানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি রুপি, আর ১২ বছরে এটি ৫৫ গুন বেড়েছে, শতাংশের হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ ভাগ! এটা সত্যিই অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, একযুগে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে যুগবদল ঘটেছে। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হলো প্রতিরক্ষা।
প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও ভূমিকা রেখেছে। এই রেকর্ড রপ্তানিতে ভারত সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর অবদান হলো ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি, আর বেসরকারি খাতের অবদান ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি। রপ্তানির পাশাপাশি উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে। গত অর্থবছরে ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রবৃদ্ধির এই ধারা যদি বজায় রাখা যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ছিল হাতে গোনা কয়েকটি বড় কম্পানির। এখন স্টার্টআপ, এমএসএমই, বেসরকারি উৎপাদক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ভারতের অন্তত ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে।
বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির তালিকায় মধ্যম সারির জিনিসের পরিবর্তে এখন যুক্ত হয়েছে হাইটেক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার, কামান, রকেট লঞ্চার, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও ভেসেল, সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, সেন্সরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বহুমুখী সামগ্রী।
যদিও ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের রপ্তানিতে রেকর্ড সৃষ্টির পরোক্ষভাবে সামগ্রিক রপ্তানিতে এর অবদান এখনো খুব নগণ্য। কিন্তু এখানে কৌশলগত গুরুত্বটা অনেক বেশি। এই সাফল্য প্রকৃতপক্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে দৃঢ় করে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন যে, বিষয়টি কেবল উৎপাদন পরিমাণের মধ্যে সীমিত রাখা হলে সামনের চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে না। এখন মনোযোগ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে দক্ষতা গভীরতার দিকে মারাত্মকভাবে নেওয়া দরকার। ভারতের সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো নিজস্ব নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকর্ষ, উন্নত উপকরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেই নিহিত।
এটা স্পষ্ট যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানির রেকর্ড রাত্রি রাতি হয়েছে, আকাশ থেকেও পড়েনি। সরকারের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় নিবিড় মনোযোগ, পণ্য বৈচিত্র্য এবং সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তরিক চেষ্টার ফলেই এসেছে এই সাফল্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আরও ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থায়ন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব নবায়নের মাধ্যমে জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে করছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইইউ এবং ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত হয়েছে, এই অর্থায়নের ফলে কক্সবাজারের ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগণের সদস্য উপকৃত হবেন। এর আওতায় মূলত দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়; বরং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।’ এই উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত নয় বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা প্রদান করা হয়, ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এই সহায়তার ঘোষণা দান করা হলো। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং মানব পাচার থেকে রক্ষা করতে কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এছাড়াও এলপিজি ব্যবহারের ফলে নারীদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি)-এর আওতায় চলতি বছরে ৭১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় তিস্তা নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বর্তমানে নদীভাঙন রোধের চেয়ে অনিয়ম, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং বালু বিক্রির অভিযোগে বেশি সমালোচিত হচ্ছে। নদী রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সরকারি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং প্রশ্ন ক্রমবর্ধমান হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, প্রকল্পের আড়ালে তিস্তা নদীর তলদেশ থেকে শক্তিশালী ড্রেজার (বোমা মেশিন) ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য বলছে, জিও ব্যাগ ভরাটের প্রয়োজনীয়তার দাবি তুলে বিপুল পরিমাণ বালু তোলা হলেও প্রকল্পের চাহিদার অতিরিক্ত বালু বিক্রির মাধ্যমে একটি চক্র বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছে—নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প কি এখন বালু ব্যবসার বৈধ আড়ালে পরিণত হয়েছে?
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাহিন হোসেনের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, প্রকাশ্যে বালুবাহী মাহিন্দ্র চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
প্রকল্পের তথাকথিত ‘ইমার্জেন্সি পয়েন্ট’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন, সেখানে কোনো জরুরি পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র নেই। তাদের অভিযোগ, ‘ইমার্জেন্সি’ শব্দটিকে একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মছাড়া বালু উত্তোলন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিন্তু মাঠ পর্যায়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, যদি সবকিছু নিয়মমাফিক হয়, তাহলে নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলনের অনুমতি কোন কর্তৃপক্ষ দিয়েছে? ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান জানাচ্ছেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন কিংবা সম্মতি দেওয়া হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, “সাংবাদিকের কাজ ভুল ধরা, ভুল ধরাই সাংবাদিকের কাজ।” তবে বালু উত্তোলন এবং বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তার পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি মো. হাসানুল হক বলেন, “এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা আমার অনেক। আগেও বহু প্রকল্পে কাজ করেছি। আপনারা আমাকে নিয়ম শেখাবেন না, অনিয়মই নিয়ম হয়।” জিও ব্যাগ স্থাপন করার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই কাজ পরিচালনার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাড়াহুড়া করে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে প্রক project's স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত জিও ব্যাগের মান নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য হল, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে এত টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিণতি নদীতীর রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।
ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির জানিয়েছেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মত, অভিযোগগুলো সত্য হয়ে গেলে এটি শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবে। তারা অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে তিস্তা নদী রক্ষার এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অনিয়মের আরেকটি নজির হিসাবেই ইতিহাসে স্থান পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
দেশের শিক্ষার্থীরা আনন্দময় শিক্ষার মধ্য দিয়ে বড় হবে এবং শিক্ষাঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সরকার অনেক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২০ জুন), যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলা হবে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে।
এদিকে, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এখন থেকে দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতিক উন্নতির পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে-এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে না, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, এর আগে সকালে সাতারকুলে (বাড্ডা) গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গণিতভিত্তিক দক্ষতা, যৌক্তিক চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, তাই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক, যুগোপযোগী ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বিষয়ে জানানো হয়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত 'প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬' এর জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন হয়েছে ৪ জুন সকাল ১০টায় রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।
ওইদিন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মন্ত্রণালয় জানায়, এ year's ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে 'প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬' শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ২৩ মে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ