০৯:০০ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী একনেক সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প পাশ হবে, তবে কাজ শুরু হবে বিশেষজ্ঞ টিমের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাই তিস্তাপারের বাসিন্দাদের চিন্তার কিছুই নেই।
মন্ত্রী আজ শুক্রবার রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেছেন। তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং লালমনিরহাট ও রংপুরের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কাজের সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন। পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করলে আমরা ইনশাআল্লাহ এই অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো।
পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, যদি আমরা তিস্তাপারের সকল দিক বিবেচনা করি, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সত্যিই অত্যন্ত প্রয়োজন। তিস্তা নদী শুধু লালমনিরহাট এবং রংপুরের দুঃখ নয়, এটি সারা বাংলাদেশে দুঃখ। এই কাজগুলো যখনই দৃশ্যমান হয়ে সমাপ্ত করতে পারব, হয়তো ২ থেকে ৪ বছর বা ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এর সুফল এই অঞ্চলের মানুষ পাবে এবং পুরো দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে এবং এখানে কৃষি উপকরণ এবং কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে উঠবে, যা আপনারা এই অঞ্চলের পাঁচটি জেলার দুঃখকে আনন্দে পরিণত করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি তিস্তার দুঃখ দূর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই এই কাজের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করেছেন।
তিনি জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এই প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছেন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পে সূচনা করেছিলেন। আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।'
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শুষ্ক মৌসুমে কিভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী ব্যবস্থাও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।'
মতবিনিময়ের পর মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এর আগে, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
তিস্তা ব্যারাজ ও কাউনিয়া এলাকায় তিস্তা সেতু পরিদর্শন শেষে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি নানা বিতর্ক ছড়াচ্ছে, তিস্তাপারের মানুষ যেন এসব বিতর্কিত কথা না শোনেন। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করে আমাদের কাজ সফল করতে হবে।
দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব গুরুত্ব সহকারে তিস্তা মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অবশ্যই আমরা সফল হব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চললেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে ভিত্তিহীন, এমন কথা বলেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শুক্রবার (১৯ জুন) শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে তিনি রাজধানীর বকশীবাজারে হুসাইনি দালান ইমামবাড়া পরিদর্শন করেন এবং এই মন্তব্যটি করেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির জমি দখলের মতো নিন্দনীয় কাজ করতেও দ্বিধা করেনি।
তিনি এ আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন আশুরার সব কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
এছাড়া তিনি সরকারের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন আয়োজনে আরও ব্যাপক সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবন আল্লাহর রহমত ছাড়া ধারণ করা সম্ভব নয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে আল্লাহর রহমত পাওয়ার দশটি উপায়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের জানার প্রয়োজন।
১. সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানো।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের ওপর আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, যাতে আকাশের মালিকও তোমাদের প্রতি দয়া করেন’। (আবু দাউদ: ৪৯৪১) একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ ক্ষমা করেন এমন উদাহরণও হাদিসে রয়েছে।
২. ফরজ ইবাদত পালন।
নামাজ, রোজা, জাকাতের মতো ফরজ কাজগুলো আল্লাহর দয়া পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’ (সূরা নূর-আয়াত: ৫৬)
৩. ইহসান বা আন্তরিকতার সঙ্গে আমল করা।
নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে আল্লাহ খুশি হন। আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (আ'রাফ-আয়াত: ৫৬)
৪. তাকওয়া অবলম্বন করা।
আল্লাহভীরু ব্যক্তিরা আল্লাহর রহমতের বেশি হকদার। আল্লাহ পাক বলেছেন; ‘আমার দয়া- তা তো প্রত্যেক বস্তুকে ঘিরে রয়েছে। কাজেই আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমান আনে।’ (সূরা আ'রাফ-আয়াত: ১৫৬)
৫. কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চা করা।
কোরআন শুনলে, পড়লে এবং বুঝে আমল করলে আল্লাহর রহমত নেমে আসে। আল্লাহ পাক বলেছেন; কোরআনের অনুসরণ করলে দয়া করা হবে।’(সূরা আ'রাফ-আয়াত: ১৫৫)
৬. কোরআন শ্রবণ করা।
মনোযোগ দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শোনা আল্লাহর দয়ার পথ খুলে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর।’ (সুরা আরাফ: ২০৪)
৭. দ্বীনি কাজে কষ্ট স্বীকার করা।
হিজরত ও জি-হা-দে-র পথ বেছে নেওয়া মুমিনদের জন্য বিশেষ অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি বহন করে। (সুরা বাকারা: ২১৮)
৮. সুন্নাহর অনুসরণে রহমত মেলে।
আল্লাহ বলছেন- ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩২)
৯. ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।
ইস্তেগফার আল্লাহর দয়ার দরজা খুলে দেয়। নবী সালেহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না? যেন তোমাদেরকে রহমত করা হয়?’ (সূরা নামল-আয়াত: ৪৬)
১০. আল্লাহর কাছে রহমত লাভের দোয়া করা।
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَۃً হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন’ (সূরা কাহাফ- আয়াত: ১০) প্রতিদিন পড়ুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশে কৃষির আধুনিকায়নে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজ শুরু করেছিলেন। দেশে খাদ্যের অভাবের সময় তিনি কৃষিকে আধুনিকায়ন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছিলেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নরসিংদী পলাশ উপজেলা পরিষদ হল রুমে কৃষির সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
এসময় ড. মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানও দেশে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বহু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। উচ্চ ফলনশীল ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলজ এবং বনজ গাছ রোপণের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বিএনপি নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সুজলা-সুফলা করার পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা হবে।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আজিজল হক, পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূইয়া মিল্টনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে ড. মঈন খান উপজেলার বিভিন্ন কৃষকদের মধ্যে গাছের চারা, সার, বীজ এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ