প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী একনেক সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প পাশ হবে, তবে কাজ শুরু হবে বিশেষজ্ঞ টিমের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাই তিস্তাপারের বাসিন্দাদের চিন্তার কিছুই নেই।
মন্ত্রী আজ শুক্রবার রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেছেন। তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং লালমনিরহাট ও রংপুরের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কাজের সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন। পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করলে আমরা ইনশাআল্লাহ এই অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো।
পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, যদি আমরা তিস্তাপারের সকল দিক বিবেচনা করি, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সত্যিই অত্যন্ত প্রয়োজন। তিস্তা নদী শুধু লালমনিরহাট এবং রংপুরের দুঃখ নয়, এটি সারা বাংলাদেশে দুঃখ। এই কাজগুলো যখনই দৃশ্যমান হয়ে সমাপ্ত করতে পারব, হয়তো ২ থেকে ৪ বছর বা ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এর সুফল এই অঞ্চলের মানুষ পাবে এবং পুরো দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে এবং এখানে কৃষি উপকরণ এবং কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে উঠবে, যা আপনারা এই অঞ্চলের পাঁচটি জেলার দুঃখকে আনন্দে পরিণত করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি তিস্তার দুঃখ দূর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই এই কাজের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করেছেন।
তিনি জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এই প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছেন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পে সূচনা করেছিলেন। আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।'
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শুষ্ক মৌসুমে কিভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী ব্যবস্থাও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।'
মতবিনিময়ের পর মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এর আগে, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
তিস্তা ব্যারাজ ও কাউনিয়া এলাকায় তিস্তা সেতু পরিদর্শন শেষে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি নানা বিতর্ক ছড়াচ্ছে, তিস্তাপারের মানুষ যেন এসব বিতর্কিত কথা না শোনেন। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করে আমাদের কাজ সফল করতে হবে।
দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব গুরুত্ব সহকারে তিস্তা মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অবশ্যই আমরা সফল হব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন