ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা: ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?


যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা: ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে, আর সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

এই অবস্থায় গঠন করা হয়েছে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সমঝোতা স্মারক, যা গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু বর্তমানে এই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। উভয় দেশই জানিয়েছে, ওই সমঝোতা আর কার্যকর নয়। তবে এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেনি।

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান দুই পক্ষকে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে এনে হামলা বন্ধ করার এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেছেন, “স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য সংলাপ, কূটনীতি ও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই।”

আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর

যদিও প্রকাশ্যে দুই দেশের নেতারা আপসের বিষয়ে অনাগ্রহী অবস্থান দেখাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরান শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া হলেও তিনি তেহরানের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না।

অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্বের লড়াইয়ে রয়েছে। তাই শান্তি চুক্তি মেনে চলার আর কোনো কারণ নেই।”

এখন প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আদৌ কার বেশি?

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান একটি দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর নতুন করে বড় আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দেশের তেল রফতানি, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ এবং বিদেশে থাকা সম্পদ ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরেই সীমাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

ফলস্বরূপ ২০১২ সালের মাথাপিছু জিডিপি যেখানে প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার ছিল, তা ২০২৪ সালের মধ্যে নেমে এসেছে প্রায় ৫ হাজার ডলারে। একই সময়ে দৈনিক তেল রফতানি ২২ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ব্যারেলে।

গত জুনে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হওয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটির ইতিবাচক প্রভাবে ইরানি রিয়ালের মূল্য একদিনেই প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে আবারও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করায় ইরানের অর্থনীতি নতুন করে অবনতি ঘটেছে।

এছাড়া, যুদ্ধের প্রথম ধাপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ড্রোনের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহৃত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জানা গেছে।

আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

অন্যদিকে আঞ্চলিক সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটি বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত।

ইরান দাবি করছে, তারা কেবল মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে কিছু হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে সামরিক তথ্য আদান-প্রদান ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে।

জন্ম নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও চাপ। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের বিভিন্ন দিক থেকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের অবরোধের ফলে সেই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে জনসমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য এই যুদ্ধ বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন জরিপে ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এখনও সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও সম্প্রতি তা দ্রুত কমছে। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রায় সাত ধরনের অস্ত্রের মধ্যে অন্তত চারটির অর্ধেকের বেশি মজুদ প্রথম দফার যুদ্ধেই শেষ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চলাকালে ইতোমধ্যে ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হয়েছে বলে সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলম সালেহের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও ইরান এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। তিনি বলেছেন, “প্রায় ৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরান টিকে আছে। তাই শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের নতি স্বীকার করানো সহজ নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরান দুর্বলতার বার্তা দিতে চাইছে না। তাই তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া নতুন কোনও চুক্তিতে আগ্রহী হবে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দুই পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে, এবং কূটনৈতিক আলোচনা ফেরার চাপ উভয়ের ওপরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে তৃণমূলের ভূমিকার ওপর জোর মামুনুল হকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে তৃণমূলের ভূমিকার ওপর জোর মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইসলামী রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনসংযোগ এবং গণমুখী উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করা প্রয়োজন। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে তৃণমূলকে আরও সক্রিয় হতে হবে, এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি।

মামুনুল হক বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখার দায়িত্বশীলদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ় করার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনাও আলোচনা করেন।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী উসমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন এবং নির্বাহী সদস্য ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, প্রমুখ।

এছাড়া, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে মাওলানা মামুনুল হক বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসায় গমন করেন। তিনি সেখান থেকে ফেরার পথে হাটহাজারী এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো জুলাই আন্দোলন: বিভাগীয় কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বনী: রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো জুলাই আন্দোলন: বিভাগীয় কমিশনার

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো জুলাই আন্দোলন, মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি এ কথা বলেন, এ আন্দোলন জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেছেন, বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক অর্জনে শিক্ষার্থীরা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ছাত্রসমাজ যখন কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, তখন সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি আস্থা রাখে। জুলাই আন্দোলনও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।

রাজশাহী বিভাগের কমিশনার নীতিগত ঐক্য বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষ থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ড. বজলুর রশীদ জুলাই আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জেলা পর্যায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালত গঠনের বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহিদ পরিবারের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার খায়রুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, নাহিদুল ইসলাম সাজু, মোবাশের আলী ও মাহবুব সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে julio শহিদ শাকিব আনজুমের পিতা মোঃ মাইনুল হক স্মৃতিচারণ করেন।

এর আগে নগরীর সিএন্ডবি মোড়ের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান。

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেলে চড়ে দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ও এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


মোটরসাইকেলে চড়ে দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ও এমপি

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে দীঘিনালায় আসেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তিনি খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে দুর্গম বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এলাকা যতই দুর্গম হোক, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তাদের কষ্টের কথা শুনব এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এর আগে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং দীঘিনালা উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকায় মোটরসাইকেলে করে জনপ্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি আন্তরিকতার পরিচয় বহন করে। তারা দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন তরুণদের সমর্থন ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয়, ক্ষুব্ধ ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


মার্কিন তরুণদের সমর্থন ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয়, ক্ষুব্ধ ইসরাইল

ইসরাইলের পক্ষে মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের সমর্থন ধরে রাখার জন্য মাসে ১৫ লাখ ডলারের একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবুও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন আরও কমেছে। এই কারণে দেশটির কর্মকর্তারা খুবই ক্ষুব্ধ বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেল এই প্রচারণার নেতৃত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ, মাগা সমর্থকদের লক্ষ্য করে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল-সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনে প্রভাব বিস্তারের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে, তবে এটি জনমতের পরিবর্তন করতে পারেনি।

টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন সংস্থা হাভাস ইসরাইলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা পরিচালনার জন্য পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানের ক্লক টাওয়ার এক্স-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে অন্তত ১০০টি মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হত, যাতে অন্তত ৮০ শতাংশ জেনারেশন জেডকে লক্ষ্য করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং পডকাস্টে প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫ কোটি ডিজিটাল ইমপ্রেশন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রচারণার অংশ হিসাবে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর চ্যাপজিপিটি, অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লড এবং গুগল-এর জেমিনি-এর মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল ও যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে উপস্থাপিত হয়, সেটা নিয়েও প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইসরাইল পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানে ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে এবং পরে চুক্তির মেয়াদও নবায়ন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে অনলাইন বিজ্ঞাপন, মোবাইল ফোনে টেক্সট বার্তা পাঠানো এবং এআই সিস্টেম যে অনলাইন উৎস ব্যবহার করে, সেখানে ইসরাইলপন্থি তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

টাইম জানায়, প্রচারণার সাথে পরিচিত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাটে নির্দিষ্ট ভাষা বা বার্তা পাঠানো হতো। তাদের পোস্টের ভিউ ও সম্পৃক্ততার (এনগেজমেন্ট) উপর ভিত্তি করে অর্থ প্রদান করা হতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি প্রচারণায় অংশ নেওয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ২ হাজার ২৫০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বাধিক ৪ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল।

টাইমের প্রতিবেদনে একটি ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, 'আমরা ব্র্যাড পার্সকেলের ওপর গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। তার কাজ ছিল পরিস্থিতির উন্নতি করা। আমরা তাকে অনেক অর্থ দিয়েছি। কিন্তু তার কৃতকর্মে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।'

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এপ্রিলের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইলকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ, এবং ২০২২ সালে ছিল ৪২ শতাংশ। এছাড়া ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যা এক বছর আগে ছিল ৫০ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, অনেক মাগা-ঘনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার একই ধরনের বার্তা দিয়ে যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস না করেই 'আত্মসমর্পণ' করার অভিযোগ করছেন।

এতে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের অর্থায়নে পরিচালিত রক্ষণশীল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা টাইমকে জানান, বিদেশি অর্থ নিয়ে মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রেসিডেন্টের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা 'অত্যন্ত, অত্যন্ত বিপজ্জনক' এবং এটি তুচ্ছ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ইসরাইলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি প্রচারণা চালিয়েছিল, যেখানে শত শত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ওপর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।

টাইমের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ায় দেশটি জনসংযোগ কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭৩ কোটি ডলার করেছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও তরুণ মার্কিন ভোটার, ডেমোক্র্যাট এবং কমবয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমার প্রবণতা এখনো থামানো যায়নি।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%