ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের নেতৃত্ব


গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের নেতৃত্ব

যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে একটি বড় জয় পেয়ে আছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এই বিজয়ের ফলস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার অবস্থায় এসেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, লেবার পার্টির প্রার্থী বার্নহ্যাম ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট সংগ্রহ করেছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

নির্বাচনে রিস্টোর ব্রিটেন দলের প্রার্থী রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় স্থানে আসীন হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির মাইকেল উইনস্ট্যানলি, গ্রিন পার্টির সারা ওয়েকফিল্ড এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের জেক অস্টিন।

আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রুহুল কবির রিজভী

জয়ের পর নিজের দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম তুলে ধরেছেন, ‘সবাই জানে বর্তমান রাজনীতি ঠিকমতো কাজ করছে না। মানুষ অনুভব করছে দেশ যে অবস্থায় থাকার কথা, সেখানে নেই। আজকের রাত হয়তো সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে মেকারফিল্ড দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে।’

এই বিজয় লেবার পার্টির ভিতরে নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ের দরজা খুলে দিতে পারে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, এতে হয় স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বৃদ্ধি পাবে, নয়তো বার্নহ্যাম এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মধ্যে নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা নতুন নেতা নির্বাচন করলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে তাদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে স্টারমারের পক্ষে সমর্থন ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দিলেও স্টারমার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবির পর তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ‘বাবাকে হত্যা করতে চাইছে’ : ইমরান খানের ছেলের সতর্কবার্তা

গত দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের সরকারের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই তার নেতৃত্বের প্রতি অজ্ঞতার প্রকাশ করেছেন অথবা নীতিগত বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্ব ধরে রাখতে লড়াই করবেন এবং এমন প্রতিযোগিতা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা চাপ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয়ের পর, মন্ত্রিসভার সদস্যরা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানাবেন।

এদিকে, স্টারমার আজ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফোনালাপ ও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে বজায় থাকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কিছু মন্ত্রিসভা সদস্য এসব আলোচনার সুযোগে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন: দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে নামাজ বন্ধ করল সরকার

অন্যদিকে, বার্নহামের সমর্থকেরা লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের সমর্থন অর্জনে সক্রিয় প্রচারণার সাথে যুক্ত। তাদের লক্ষ্য ২০০ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করা, যা হাউস অব কমন্সে লেবার সদস্যদের প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে।

বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা বিশ্বাস করছেন, এত বড় সমর্থন অর্জিত হলে সেক্ষেত্রে স্টারমারের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেইসাথে নতুন মেকারফিল্ড এমপি বার্নহাম ইতোমধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন সমর্থকের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে সাপের আতঙ্কে জার্মানি, এরপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


বিশ্বকাপে সাপের আতঙ্কে জার্মানি, এরপর...

বিশ্বকাপ মানে বিভিন্ন প্রতিপক্ষের কৌশল, ইনজুরি অথবা পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলের ফুটবলারদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষধর সাপ।

যুক্তরাষ্ট্রের দলের বেসক্যাম্পে বিষধর ‘কপারহেড’ সাপ দেখার পর জার্মানি শিবিরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানি ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের খেলোয়াড়রাও স্থানীয় বন্যপ্রাণী নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জশুয়া কিমিখ জানান, উত্তর ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে জার্মান দলের ক্যাম্পে একটি বিষধর সাপ দেখা গেছে। এ বিষয়ে সকল খেলোয়াড়দের সতর্ক করা হয়েছে।

কিমিখ বলেন, "আমরা একটি সাপ দেখেছি। আমাদের বলা হয়েছে এটি বিষধর। যদি কামড় দেয়, তাহলে হাসপাতালে যেতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "হয়তো এতে মৃত্যু হবে না, কিন্তু এটি অবশ্যই বিপজ্জনক। ভুলবশত এমন একটি সাপের ওপর পা পড়লে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই আমরা এখানে প্রাণীদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছি।"

জার্মান অধিনায়ক স্থানীয়দের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, "এখানকার মানুষদের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। জার্মানিতে এত বিপজ্জনক প্রাণী দেখার অভ্যাস নেই।"

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিতে সাত প্রজাতির সাপ থাকলেও এর মধ্যে মাত্র দুটি বিষধর। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণী অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিমिख বলেন, "প্রথমে বিষয়টি মজার মনে হয়েছিল। কিন্তু যখন শুনলাম এটি কী ধরনের সাপ এবং কামড়ালে কী হতে পারে, তখন আর মজা লাগেনি। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, অথচ এখন অনেক খেলোয়াড়কে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মাটির দিকে তাকাতে হচ্ছে।"

এদিকে, উত্তর ক্যারোলিনার গ্রিনসবোরোতে অবস্থান করছে নরওয়ে দলের সদস্যরা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই অঞ্চলে কপারহেড সাপ দেখা যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এই খবর শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরওয়ের অধিনায়ক।

অন্যদিকে, সান দিয়েগোতে ক্যাম্প করা সুইজারল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রাও একটি নির্দিষ্ট এলাকা ‘স্নেক এরিয়া’ বা সাপের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি এখন সাপ থেকেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে ইউরোপের কয়েকটি দলকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম: দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম: দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন ববি হাজ্জাজ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ফলে গুরুতর আহত স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলামকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আহতের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার গভীর নিন্দা জানান। তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "নুরুল ইসলাম দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার ওপর অত্যন্ত বর্বরভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং শরীরে অনেকগুলো সেলাই লেগেছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তার চিকিৎসা চালাচ্ছেন।"

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহত নুরুল ইসলাম এখনও জবানবন্দি দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ৪ জন এসে এই হামলা চালায়। ঘটনা ঘটলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে একটি মেলা চলছিল। হামলার পেছনে ওই মেলার সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এরইমধ্যে মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মেলার আয়োজকসহ স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মোহাম্মদপুর এলাকায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, "অপরাধী যে-ই হোক-না কেন, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ যেভাবে তৎপর রয়েছে, তাতে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায় যে, খুব দ্রুত সময়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৯ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে

দীর্ঘ সাত বছরের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের জলসীমা আরও ১০ নটিক্যাল মাইল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপানের ওসাকা ও কোবে বন্দরের আদলে জলসীমা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার সীতাকুণ্ড হয়ে মীরসরাই ইকোনোমিক জোনের উপকূল পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করে ৭২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার প্রস্তাব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তবে সামনের দিকে জলসীমা বাড়ানোর এই কার্যক্রম অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি করলেও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সবশেষ ২০১৯ সালে ৫০ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের জলসীমা ৬২ নটিক্যাল মাইল করেছিল। এবার তা বাড়িয়ে সীতাকুণ্ড হয়ে মীরসরাই ইকোনোমিক জোনের উপকূল পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের ফলে সীতাকুণ্ড উপকূলের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডও বন্দরের জলসীমার আওতায় আসবে।

মূলত নির্ধারিত জলসীমার মধ্যে অবস্থান করা নৌযান থেকে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক আদায় করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর এ খাত থেকে আয় হয় অন্তত এক হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, নদীর গভীরতা ও নাব্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের জলসীমা ৭২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

চারশ বছরের পুরানো এই বন্দরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার সময় এর জলসীমা ছিল মাত্র ৬ নটিক্যাল মাইল। ২০১১ সালে তা আরও ৬ নটিক্যাল মাইল বাড়িয়ে আলফা-ব্রেভো ও চালিং অ্যাংকরেজে বিভক্ত করা হয়। এবার এই তিনটি অঞ্চলের সীমানায় পরিবর্তন এনে সন্দ্বীপের প্রথম অক্ষর ‘এস’ নামে নতুন একটি অ্যাংকরেজ তৈরি করা হবে।

একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজগুলোকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছাকাছি এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, "শুধু বন্দরের সীমা বাড়ালেই হবে না, সেখানে প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও জানান, নিয়মিত ড্রেজিং, বয়া স্থাপন এবং নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে, পতেঙ্গা উপকূল ঘিরে বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে বড় আকারের জাহাজ ভিড়বে। পাশাপাশি মীরসরাই ইকোনোমিক জোনে পণ্য পরিবহন সহজ করতে নতুন জলসীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর সঙ্গে কোস্টগার্ডের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. মিজানুর রহমান বলেন, "আরও দ্রুতগতির জলযান কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত করতে হবে।" তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালে ভিড়ে পণ্য খালাস করে। প্রতিবছর এ ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ৩২ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে চাল, গম, সিমেন্ট ক্লিংকার ও স্ক্র্যাপ লোহাবাহী মাদার ভেসেলগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আসে।

বর্তমানে ৬২ নটিক্যাল মাইলের জলসীমা বাড়িয়ে ৭২ নটিক্যাল মাইল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মীরসরাই থেকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বিস্তৃত হবে। তবে, এহেন বড় সমুদ্রসীমায় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাঁতভাঙা সীমান্ত দিয়ে নতুনভাবে পুশ ইন চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


দাঁতভাঙা সীমান্ত দিয়ে নতুনভাবে পুশ ইন চেষ্টা

কুড়িগ্রামের দাঁতভাঙা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নতুন করে পুশ ইন এর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ৩৫-বিজিবি জামালপুরের অধিনায়ক লে.কর্ণেল হাসানুর রহমান।

তিনি বলেছেন, রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় বর্তমানে ৫ জন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মানবিক কারণে দুই শিশুসহ তাদের বাবা মা কে সরিয়ে নেয়া হয়। এর আগে, গত ৫ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেছিল দুই অবুঝ শিশুসহ ৯ জন।

স্থানীয়রা জানান, মানবিক কারণে দুই শিশুসহ তাদের বাবা মা কে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন তারা শূন্য রেখায় নেই।

সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গয়টাপাড়া এবং ইজলামারী ভন্দুর চর সীমান্তে দুই শিশু ও এক নারীসহ ৯ জন গত ৫ দিন ধরে পুশ ইন চেষ্টায় শূন্য রেখায় অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার ৪ জন সরানোর পর এখন বাকি ৫ জন রয়েছেন। তারা খাদ্য, পানি সংকটসহ রোদ বৃষ্টিতে একাকার হয়ে দুঃখে রয়েছেন।

বর্তমানে ওই ৫ জনকে কেন্দ্র করে দু'পাড়ের বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অনেক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সাথে তাদের দেখভাল কিছুটা করার চেষ্টা করছেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিএসএফ তাদের রাতের অন্ধকারে পুশ ইন করেছে। এখন আর ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে না। আমরা স্থানীয়রা তাদের সামান্য খাবার এবং পানি দেয়ার চেষ্টা করলেও বিএসএফ এর ভয়ে অনেকেই বিঘ্ন ঘটাতে সাহস পান না। এমনকি তাদের অভিযোগ, বিএসএফ কারো সঙ্গে কথাও বলেন না। তারা এ অবস্থার দ্রুত নিষ্পত্তি চান।

উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন এর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%