ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আহ্বান আইএমএফের


ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আহ্বান আইএমএফের

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা ও ঋণের চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর ব্যবস্থার সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য করের আওতা বাড়ানো, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে, কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগণের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: টিআইবি: জামায়াতের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক

আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি বক্তব্য দেন। ব্রিফিংয়ে যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাভিস দেবাহাসাদিন।

আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকি সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল দরিদ্র জনগণের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছে বেশি পৌঁছায়। এই কারণে, জ্বালানির দাম বাড়লে সমানভাবে ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে নিম্ন আয়ের মানুষ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা কার্যকর হতে পারে।

সংস্থাটির বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিগত সুপারিশসংক্রান্ত বিশ্লেষণে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কিছু দেশে কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় করের আওতা সম্প্রসারণ ও অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি প্রত্যাহারকে আইএমএফ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর প্রশাসন সহজ ও কার্যকর করা গেলে করদাতাদের ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর পরিপালন সহজ হলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা

মিসরের ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার ও কর অব্যাহতি কমানোর উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার, জ্বালানি কর ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ এবং ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়াকে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি বেশি থাকা দেশগুলোর জন্য কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ, করের আওতা বাড়ানো এবং অকার্যকর কর সুবিধা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে মরক্কোর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি সর্বজনীন ভর্তুকি ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য সরাসরি সামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ভর্তুকি প্রত্যাহার সব ক্ষেত্রে সহজ সমাধান নয়। নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ঋণ পরিশোধের বড় ব্যয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। দেশটির রাজস্বের প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হওয়ার বিষয়টিও আর্থিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে বিরোধী শিবিরকে একত্রিত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বৈঠক

ইথিওপিয়াও আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি সংস্কারের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তবে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম আর্থিক প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা ও জরুরি তহবিল গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের পরও জ্যামাইকার আগাম অর্থনৈতিক প্রস্তুতির বিষয়টি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপের কারণে সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত থাকলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং জনসেবার মতো খাতের বরাদ্দ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কর ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় গরমিল, তদন্তের জন্য আবেদন

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম জনগণের অনুপাত কমে গেলে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে পারে, অথচ করদাতার সংখ্যা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরো কঠিন হয়ে উঠবে। এ পরিস্থিতিতে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি।

ঋণ সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা, ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্গঠনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা হিসেবে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। এ জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন: হাইকোর্টে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের রুল শুনানি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি স্কুলে ভর্তি: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


সরকারি স্কুলে ভর্তি: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ : আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালার অধীনে, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন লটারির মাধ্যমে করা হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে ভর্তি হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে হবে।

শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বয়সসীমা

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি শ্রেণির শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর নির্ধারণ করা হলেও, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বাধিক ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন

নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বাধিক ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে, ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে এবং লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০, সময় ১ ঘণ্টা) হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০, সময় ২ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি হবে এবং প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।

আবেদন ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফরমের জন্য সর্বাধিক ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বাধিক ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে ১৫ দিনেও সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ ইমনের, এসপি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


ফেনীতে ১৫ দিনেও সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ ইমনের, এসপি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ইমনকে দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
নিখোঁজ ইমন ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার পুশি ফকির বাড়ির বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ইমন। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেনি সে। পরে ফেনীর ফতেহপুর এলাকা থেকে রিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এর ব্যাটারিগুলো পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরদিন ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে ইমনের ভাই মোবারক হোসেন ও মোশাররফ হোসেন ইপু অভিযোগ করেন, ইমনের সন্ধানে পুলিশের জোরালো ভূমিকা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁদেরই ফুটেজ সংগত করতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন

মানববন্ধনে ইমনের ভাই মোবারক হোসেন ও মোশাররফ হোসেন ইপু অভিযোগ করেন, ইমনের সন্ধানে পুলিশের জোরালো ভূমিকা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁদেরই ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমনের মা মোমেনা বেগম বলেন, "আমি আমার ছোট ছেলেকে ছাড়া বাঁচব না। জীবিত বা মৃত, যেকোনো অবস্থায় আমার সন্তানকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন।"

বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইয়াছিন এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সম্ভাব্য চলাচলের পথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ইমনকে সর্বশেষ বিসিক এলাকায় খালি রিকশা নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ওসি আরও জানান, একটি সূত্রের ভিত্তিতে চট্টগ্রামেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইমনকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে তার দফতরে প্রবেশের পূর্বে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নীচে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের ভিতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে পরীক্ষাগারের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্যানের বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হক রহ.-এর জানাযায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


কুমিল্লার শীর্ষ আলেম আল্লামা নুরুল হক রহ.-এর জানাযায় লাখো মানুষের উপস্থিতি

কুমিল্লার ইসলামি অঙ্গনের অভিভাবক, প্রখ্যাত বুজুর্গ এবং বটগ্রাম হামিদিয়া মাদরাসার সফল মুহতামিম প্রবীণ আলেম আল্লামা নুরুল হক (দাতামার হুজুর) রহ.-এর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় সুয়াগাজী কলেজ ও হাইস্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামার ঢল নেমেছে প্রবীণ এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজার আগে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করা হয়নি এবং ঠিক সকাল ১১টায় নামাজ শুরু হয়। গতরাতে মরহুমের সাহেবজাদা মুফতী নিয়ামত উল্লাহর নেতৃত্বে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জানাজার পর মরহুমকে তাঁর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে প্রবীণ শায়খুল হাদিস ও পীরে কামেলের বয়স আনুমানিক ৮৫ বছর ছিল। তাঁর প্রয়াণে কুমিল্লাসহ সারাদেশের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আল্লামা নুরুল হক ব্রিটিশ শাসনামলে আনুমানিক ১৯৪১ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া (দাতামা) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে শরীয়তের উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন এবং নিজেকে একজন দক্ষ আলেমে দ্বীন হিসেবে গড়ে তোলেন।

কওমি আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি আজীবন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ‘কুমিল্লা জেলা কওমি মাদ্রাসা সংগঠন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘসময় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদরাসায় সহিহ বুখারি শরিফের দরস দিয়ে তিনি দেশে সহস্রাধিক আলেম ও মুহাদ্দিস তৈরি করেছেন।

অত্যন্ত সাদামাটা ও সুন্নতি জীবনযাপনের জন্য প্রবীণ এই আলেম সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর আধ্যাত্মিক বয়ান সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করত। এই বর্ষীয়ান দ্বীনি ব্যক্তিত্বের বিদায়ে বিভিন্ন ইসলামি দল, কওমি শিক্ষাবোর্ড ও সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%