ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলপিএলে দর্শকখরা, ভারত সিরিজে টিকিট ফ্রি করলো শ্রীলঙ্কা


এলপিএলে দর্শকখরা, ভারত সিরিজে টিকিট ফ্রি করলো শ্রীলঙ্কা

দেশের অন্যতম বড় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে দর্শকদের তেমন প্রতিক্রিয়া পায়নি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ফলে, ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের ব্যাপারে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না তারা। এজন্য আগেভাগেই ফ্রি টিকিট ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে।

গলে আগামী ১৫ আগস্ট শুরু হতে যাচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। পরে কলম্বোতে দ্বিতীয় টেস্ট ২৩ আগস্ট শুরু হবে। দুইটি মাঠেই দর্শকরা ফ্রিতে খেলা দেখতে পারবেন। এই তথ্য একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে এসএলসি।

“শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট জানাচ্ছে যে, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যকার আসন্ন টেস্ট সিরিজে দর্শকদের জন্য মাঠে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে। এর ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা সরাসরি মাঠে বসে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেট দেখার অসামান্য সুযোগ পাবেন।”

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

“এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সকল ক্রিকেট অনুরাগী, উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার, পরিবার এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এসএলসি। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে তারা সাদর আহ্বান জানাচ্ছে।” গল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪ নম্বর গেট দিয়ে দর্শকদের কোনো টিকিট ছাড়াই প্রবেশ করতে হবে। কলম্বোতে ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর গেট থাকবে টিকিটের আওতার বাইরে।

শ্রীলঙ্কার জন্য টিকিট ফ্রি করে দেওয়া নতুন কিছু নয়। নিউ জিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সবসময়ই প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকে। এমনকি চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের বাইরে অন্যান্য সব ম্যাচ এবং মেয়েদের আন্তর্জাতিক সিরিজেও দর্শকদের বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এবার ভারত সিরিজেও দর্শকদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, কারণ এলপিএলে দর্শক খরা কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের শুরুতে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, কিন্তু দর্শকদের আকৃষ্ট করতে না পারায় পরবর্তীতে সেই টিকিট ফ্রি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা এবার ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজেও অব্যাহত রাখা হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার, এসি-ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার, এসি-ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও লেটার তৈরি করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে এক সহকারী কমিশনারের (এসি-ল্যান্ড) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে বরগুনা সদর উপজেলার এসি-ল্যান্ড শাওন মজুমদার সুমনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে এতে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন যে, আসামি শাওন মজুমদার সুমন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও পত্র তৈরি করেছেন। ডিও পত্রটিতে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত বদলি ঠেকাতে এবং পছন্দমতো জায়গায় পদায়নের জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। উক্ত ভুয়া পত্রের মাধ্যমে এসি-ল্যান্ড শাওনকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কথিত ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। পত্রে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এটি প্রাথমিকভাবেই জাল বলে প্রমাণিত হয়। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, এই জালিয়াতির মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ বাদীর। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস এবং আর্থিক ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জালিয়াতি), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ এবং ১২০-বি ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে কথিত জাল ডিও পত্র ও প্রকৃত প্যাডের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৮ কোপা আমেরিকায় মেসির খেলা নিয়ে যা জানালেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


২০২৮ কোপা আমেরিকায় মেসির খেলা নিয়ে যা জানালেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সভাপতি

আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে। দেশটির ফুটবল সংস্থার সভাপতি ক্ল Claudio তাপিয়া এ বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মেসির ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া উল্লেখ করেছেন, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায় খেলতে চান কি না, সেটি সম্পূর্ণভাবে মেসির নিজের বিষয়। যদি তিনি খেলতে চান, তবে সেটাই হবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তিনি পুরো আসরে আটটি গোল করেছেন এবং চারটি গোল করতে সহায়তা করেছেন।

তবে বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মেসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

তাপিয়া বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের পরও আমরা জানতাম না মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না। তখন তিনি বলেছিলেন, এক ম্যাচ করে বাড়তি সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষে আমরা তার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি দেখতে পাই।

মেসির অর্জন আর্জেন্টিনার জন্য অনন্য। তিনি ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন এবং ওই টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন এবং আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক মেসির প্রশংসা করে তাপিয়া বলেন, মেসিকে নিয়ে আমাদের গর্বীত হওয়া উচিত। তিনি যেন ফুটবল খেলার আনন্দ উপভোগ করেন। আমরা যেন তাকে উপভোগ করতে পারি এবং তিনি নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাপিয়া। চলতি বছরের শেষের দিকে স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার কথা জানিয়েছিলেন।

তাপিয়া বলেন, আমার পরিকল্পনার সঙ্গে স্কালোনি জড়িত রয়েছেন। আমি চাই তিনি দায়িত্বে থাকুন এবং সবাই সেটিই চায়। তবে সিদ্ধান্ত তার। যদি তিনি নতুন কিছু করার জন্য জোর না পায়, তবে জোর করে তাকে আটকে রাখা সম্ভব নয়।

২০১৮ সালে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। তার অধীনে আর্জেন্টিনা টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা পেয়েছে (২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা)।

বর্তমান জাতীয় দলকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে তাপিয়া বলেন, এই দল পুরো আর্জেন্টিনাকে আনন্দ দিয়েছে। তারা একটি দল গড়ে তুলেছে, যার সঙ্গে দেশের মানুষ নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়কালে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৬ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৭ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৭ জন, মিরপুর বিভাগে ১২৫ জন, গুলশান বিভাগে ৫৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৯ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮টি মোবাইল ফোন, নগদ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, ৩টি চাকু, ৩টি লোহার পাইপ, ১টি কাটার, ১টি লোহার পাত, ৪ হাজার ২৯৫ পিস ইয়াবা এবং ৬১০ গ্রাম গাঁজা।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৪ বছরে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


১৪ বছরে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ

দেশের হিমায়িত চিংড়ি খাতের সংকট দিন দিন গভীর রূপ ধারণ করছে। বিশ্ববাজারে কম দামে বেশি উৎপাদনশীল ‘ভেনামি’ চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ এখনো মূলত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল।

ফলে, ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রপ্তানি প্রায় ৬২ শতাংশ কমে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি করে আয় করেছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। তবে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, এ থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এর মানে হচ্ছে, ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন, অর্থাৎ ৬২ শতাংশ। এই একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

বণিক বার্তা এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি রপ্তানি করেছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় ওই বছর রপ্তানি বেড়েছিল ৪ হাজার ৭ টন এবং আয় বেড়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও বড় ধরনের পতন ঘটে। এক বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন। সেই সঙ্গে, রপ্তানি আয়ও কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি থেকে এসেছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার, হিমায়িত মাছ থেকে ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য থেকে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি বর্তমানে মূলত বাগদানির্ভর হয়ে আছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তুলনামূলক কম দাম এবং বেশি উৎপাদনশীলতার কারণে ইউরোপ সহ বিভিন্ন বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে বাগদা চিংড়ির সীমিত চাহিদা রয়েছে। এর ফলে, চাহিদা কমে আসার কারণে এসব দেশে বাগদা আমদানিও প্রতি বছর কমছে।

বর্তমানে দেশে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি চাষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এক সময়ে দেশে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। এসব কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল চার লাখ টনের বেশি। ফলে, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামালের সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারছে না।

এমইউসি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বলেন, বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানিতে বাংলাদেশ খুবই আগেই তার অবস্থান হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারেনি। এখনো বাগদা চিংড়ি রপ্তানির কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় মৎস্য খাতে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি সরকার নজর না দেয়, তাহলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য চিংড়ি একসময় শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারের চাহিদা বিবেচনায় ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সরকারি উদ্যোগে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন এবং ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।

দেশটির সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা প্রায় ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির দাম বেশি হওয়ার কারণে ভেনামির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। বলেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ছোট আকারের চাকা চিংড়ি প্রতি কেজি ৪ থেকে ৫ ডলারে বিক্রি করলেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে একই ধরনের চিংড়ির দাম ৭ ডলারের বেশি। দেশে চিংড়ির চাহিদা থাকায় উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

তারিকুল ইসলাম জহির জানান, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষে জমি কিনে বড় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই সরকার যদি চিংড়ি চাষের জন্য জমি লিজ দেয়, তাহলে উদ্যোক্তারা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠপর্যায়ের চাষীদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও বিনিয়োগ সহায়তা দেবেন এবং উৎপাদিত চিংড়ি কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%